ইউরো বাংলা টাইমসের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি

উপ-সম্পাদকীয়

 কবির আহমেদঃ বাংলাদেশ ও অস্ট্রিয়া থেকে যৌথভাবে প্রকাশিত অনলাইন পত্রিকা ইউরো বাংলা টাইমস দুই বছর শেষ করে এখন তৃতীয় বর্ষে পদার্পণ করেছে।

সুখ, দুঃখ, হাঁসি, কান্না আর চড়াই-উৎড়াই পেরিয়ে বৈশ্বিক মহামারী করোনার ঢামাডোলের মধ্যে ২০২০ সালের ২১ ডিসেম্বর প্রথম আত্মপ্রকাশ করে বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় এই অনলাইন পত্রিকা ইউরো বাংলা টাইমস। পত্রিকাটি অস্ট্রিয়া সরকারের অনুমোদিত। পত্রিকাটির একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল যে,এটি বাংলা, জার্মানি ও ইংরেজী এই তিন ভাষায় পড়া যায়।

বর্তমানে ইউরো বাংলা টাইমসের পাঠকের সংখ্যা প্রায় দেড় লাখের ওপরে। ইউরো বাংলা টাইমসের চীফ এডিটর মাহবুবুর রহমান জনপ্রিয় এই অনলাইন পত্রিকাটির ২য় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এক বাণীতে সকলকে প্রাণঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সফলভাবে ২য় বর্ষপূর্তির এই আনন্দঘন মুহুর্তে আমরা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করছি পত্রিকাটির নিয়মিত ও অনিয়মিত সকল লেখক, পাঠক, বিজ্ঞাপনদাতা, সংবাদ কর্মী,উপদেষ্টা মণ্ডলী এবং কলাকৌশলী সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে।

ইউরো বাংলা টাইমস সত্য, সুন্দর ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে হাঁটি হাঁটি  পা পা করে দুই বছর অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন করল। পত্রিকাটির স্লোগানই হচ্ছে “সংবাদ, সংযোগ ও সম্পর্ক”। প্রাথমিক পর্যায়ে কিছুটা প্রতিবন্ধকতা ডিন্ঙ্গিয়ে  ২০২০ সালের ২১ ডিসেম্বর কয়েকজন সংবাদ পাগল প্রতিভাসম্পন্ন ও প্রগতিশীল সাহসী ব্যক্তিদের নিয়ে পত্রিকাটির শুভ সূচনা হয়েছিল।

তিনি ঐ বানীতে আরও বলেন, প্রিয় সহকর্মী আপনারা রোদে পুড়ে আর বৃষ্টিতে ভিজে রাত জেগে ইউরো বাংলা টাইমসে   সঠিক সময়ে সংবাদ পাঠানোর কারণেই আজ ইউরো বাংলা টাইমস পাঠকের হৃদয়ে। আপনাদের সাথে অবিরাম পথচলা আমৃত্যু অব্যাহত থাকবে।

আমি আপনাদেরকে শুভেচ্ছা-অভিনন্দন দিয়ে ছোট করবো না। আপনাদের শ্রমের মূল্যও দিতে পারবো না। তাই অন্তরের অন্তস্থল থেকে জানাচ্ছি অভিনন্দন ও ভালোবাসা।

 

বর্তমান আধুনিক উন্নত প্রযুক্তির সময়ে অনলাইন সংবাদ এবং সাংবাদিকতার গুরুত্ব অপরিসীম। সাংবাদিকতায় এখন তথ্যপ্রযুক্তিগত সুযোগ-সুবিধা অনেক বেশি। আধুনিক এই যুগে পৃথিবীর যে প্রান্তেই ঘটনা ঘটুক না কেন, তা মুহূর্তের মধ্যে আমাদের নাগালে চলে আসছে। সেই খবর সাথে সাথে তখনই পাঠকদের জন্য পরিবেশন করা হচ্ছে। এই গোটা প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে অনলাইন পত্রিকা, আরও নির্দিষ্ট করে বললে অনলাইন সাংবাদিকতা।

অনলাইন সাংবাদিকতা, যাকে আমরা ডিজিটাল সাংবাদিকতাও বলি সেটি আসলে কী? অনলাইন সাংবাদিকতা হচ্ছে, হালের সাংবাদিকতার একটি ধরন যার বিষয়বস্তু কাগজ বা সম্প্রচার মাধ্যমের বদলে ইন্টারনেটে প্রকাশ করা হয়। ডিজিটাল সাংবাদিকতার সংজ্ঞা নিয়ে অবশ্য যথেষ্ট বিতর্ক আছে। খবর বা ফিচার যখন পাঠ্য বিষয়, অডিও, ভিডিও ও ইন্টারঅ্যাকটিভিটির সহায়তায় ডিজিটাল প্ল্যাটফরমে প্রকাশ করা হয় তখন তাকে আমরা অনলাইন বা ডিজিটাল সাংবাদিকতা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করতে পারি।

অন্যভাবে বলতে গেলে, অনলাইন পত্রিকা হলো একটি সংবাদপত্রের অনলাইন সংস্করণ যা এককভাবে শুধু অনলাইনে প্রকাশিত অথবা কোনো মুদ্রিত সংবাদপত্রের অনলাইন সংস্করণ হিসেবেও প্রকাশিত হতে পারে। ইতিহাস বলে, ১৯৭৪ সালে ব্রুন্স পারেলউ ইলিয়ন বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি অনলাইন সংবাদপত্র চালু করেন। ১৯৮৭ সালে শুরু হওয়া সরকারি মালিকানাধীন ব্রাজিলীয় সংবাদপত্র ‘জর্নালদোদিঅ্যা’ ৯০ দশকের দিকে অনলাইন সংস্করণের সূচনা করে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে শতাধিক সংবাদপত্র অনলাইনে প্রকাশনা শুরু করে ১৯৯০ সালের শেষ দিকে।

বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, বাংলাদেশে অনলাইন সাংবাদিকতার শুরু ২০০৫ সালের দিকে। ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা না থাকায় ২০১০ সাল পর্যন্ত এ মাধ্যমের পাঠক ছিল হাতে গোনা। এরপর মানুষের হাতের নাগালে সহজে ইন্টারনেট চলে আসে। বাড়তে থাকে অনলাইন পত্রিকার পাঠক। দেশে বর্তমানে কয়েক ধরনের নিউজ পোর্টাল বা অনলাইন পত্রিকা রয়েছে :

১. ডেইলি ইভেন্ট নিউজ পোর্টাল

২. বিশেষ সংবাদভিত্তিক নিউজ পোর্টাল

৩. বিশেষায়িত নিউজ পোর্টাল

৪. মিশ্র নিউজ পোর্টাল।

অনলাইন সাংবাদিকতা আসলে পাঠককে সময়ের সঙ্গে চলতে সাহায্য করে। যে কোনো সময়ে যে কোনো খবর অনলাইন পত্রিকা সবার আগে প্রকাশ করতে পারে। সে কারণে অনলাইন সাংবাদিকতা হচ্ছে সবচেয়ে আধুনিক। এই সাংবাদিকতা চতুর্মাত্রিক। অনলাইন পত্রিকায় সাধারণত চারটি মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। লেখা, ছবি, অডিও এবং ভিডিও। অন্য কোনো সংবাদমাধ্যমে এই সুযোগ নেই বললেই চলে।

সংবাদপত্রকে অনেকে বলেন তাড়াতাড়ির সাহিত্য। অনলাইন সাংবাদিকতাকে সেক্ষেত্রে বলতে হবে অতি তাড়াতাড়ির সাহিত্য। কারণ এখানে প্রতিটি মিনিট, প্রতিটি সেকেন্ড অনেক গুরুত্বপূর্ণ। অনলাইন সাংবাদিকতায় সময় যেহেতু মূল বিবেচ্য বিষয়, সে কারণে অনলাইন সাংবাদিকদের চাপের মধ্যেই কাজ করতে হয়। যেকোন সংবাদ দ্রুততার সঙ্গে পাঠাতে হয়। পাশাপাশি অনলাইন পত্রিকার সুবিধা অনেক। ছাপা খরচ নেই। পত্রিকা বিলি করা বা পৌঁছে দেয়ার ঝক্কি নেই। ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে খবরটি অনায়াসে পাঠককে জানিয়ে দেয়া যায়। তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায় কোন নিউজটি কতজন দেখেছে। সহজেই জানা যায়, কোন স্থান থেকে, কোন দেশ থেকে কত পাঠক সেই মুহূর্তে ওই অনলাইনটি দেখছে। কোন খবর পাঠক বেশি দেখছে বা পড়ছে সেটাও সহজে জানতে পারে অনলাইন পত্রিকা। ফলে চাহিদা অনুযায়ী খবর দেয়ার বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে সংশ্লিষ্টরা।

তাছাড়াও অনলাইন পত্রিকায় পাঠক সংবাদের বিষয়ে সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানাতে পারেন। পাঠক ইচ্ছা করলে ওই সংবাদসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য দিতে পারেন, ছবি, ভিডিও, অডিও শেয়ার করতে পারেন। এছাড়া অনলাইন পত্রিকায় খবরের যে কোনো ভুলভ্রান্তি সহজেই শুধরানো বা সংশোধনের সুযোগ থাকে। ইলেকট্রনিক মিডিয়া বা টেলিভিশনে একটি সংবাদ একবার প্রচার হয়ে গেলে তা দ্বিতীয়বার দেখতে পরবর্তী সংবাদ সম্প্রচারের সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।

আর কাগজের পত্রিকা প্রকাশ হয় ২৪ ঘণ্টা পরপর। অনলাইন পত্রিকা চলমান ঘটনার সংবাদ প্রকাশের একটা প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকে। এতে আর্কাইভ থাকে, যে কোনো পাঠক ইচ্ছা করলে যে কোনো সময় তার পছন্দের সংবাদটি পড়তে পারেন। প্রয়োজন হলে প্রিন্ট করতে পারেন, খবরের লিংক অন্যকে পাঠাতে পারেন ইচ্ছে মতো।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এখন অনেক ক্ষেত্রে খবরের উৎস হিসেবে কাজ করছে। সেখানে এখন অনেকেই নিউজ শেয়ার করছেন। শিরোনাম পছন্দ হলে অনেকেই লিংকে ক্লিক করে বিস্তারিত পড়ে নিচ্ছেন। এছাড়া যখন ইচ্ছে, যেখানে ইচ্ছে, মোবাইল ফোনেই অনলাইন পত্রিকা পড়তে পারছেন পাঠক। যে কারণে প্রিন্ট মিডিয়ার চেয়ে এখন অনলাইন মিডিয়ার প্রতি পাঠক ঝুঁকছেন। তাই বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ ও অস্ট্রিয়া সহ সমগ্র বিশ্বে অনলাইন পত্রিকার গুরুত্ব অপরিসীম।

আমাদের এই পথচলায় যদি কখনো কোন ভুল-ভ্রান্তি হয়ে থাকে, লেখুনিতে যদি কারো মনে কষ্ট হয়ে থাকে, তার জন্য সকলেরকাছে ইউরো বাংলা টাইমস পরিবার ক্ষমা প্রার্থী। আমরা আশা করবো আগামী দিনের পথ চলায় আপনারা আমাদেরকে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে পাশে থাকবেন। যাতে করে আমরা নিজেদের ভুল-ত্রুটিগুলো সংশোধন করে সামনের দিনগুলিতে আরো এগিয়ে যেতে পারি।

পরিশেষে আবারও আপনাদের শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন।

উপ সম্পাদকীয়/ইবিটাইমস 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »