স্বপ্ন এবং চ্যালেঞ্জের পদ্মা সেতু

৩য় পর্ব 

 ড. মোঃ ফজলুর রহমানঃ ২১। অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং হতাশাব্যঞ্জক হলেও সত্য যে, পদ্মা সেতুর ব্যাপারে কথিত দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত চলাকালীন সময়ে এবং এই তদন্ত শেষ হওয়ার পূর্বেই দেশী-বিদেশী  কতিপয় অশুভ শক্তির ইঙ্গিতে বিশ্ব ব্যাংকের তৎকালীন প্রেসিডেন্টের পদ থেকে অবসরে যাওয়ার আগের দিন নিতান্তই অমূলক, কাল্পনিক এবং মনগড়া দুর্নীতির অভিযোগ এনে পদ্মা সেতুর ব্যাপারে ঋণ চুক্তি বাতিল করে দেয়া হয়। এহেন চুক্তি চরম অন্যায় এবং অযৌক্তিকভাবে বাতিল করা হলেও বাংলাদেশের কোন একটি রাজনৈতিক দলের নেতা কিংবা নেত্রী অথবা বর্ণচোরা সুশীল সমাজের কোন একজন ব্যক্তিই এই অযৌক্তিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোন প্রতিবাদ কিংবা কোন আপত্তি উত্থাপন করেননি। কেউই কোন নিন্দা জানাননি কিংবা কোন প্রকার সমালোচনা ও করেননি। উপরন্তু শেখ হাসিনার প্রতি বৈরী এবং বিদ্বেষ পোষণকারী রাজনৈতিক দলসমূহ বিশেষ করে বিএনপি এবং এই দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া উল্লাস প্রকাশ করেছেন। উপরোক্ত চুক্তি বাতিলের পর থেকে বিভিন্ন সভা সমাবেশে তিনি শেখ হাসিনা এবং তার সরকারকে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেছেন। ঐ সময়ের বিভিন্ন পত্র পত্রিকাসমূহ পর্যালোচনা করলে অনুসন্ধানী পাঠকবর্গ এ ব্যাপারে সন্দেহমুক্ত হতে পারবেন।

২২। দেশবাসী নিশ্চয়ই স্মরণ করতে পারবেন যে উপরোক্ত ঋণ চুক্তি বাতিল হওয়া সত্ত্বেও শেখ হাসিনা কোনভাবেই ভেঙ্গে পড়েননি কিংবা অবদমিত হননি। আর ঠিক একারণেই উক্ত ঋণ চুক্তি বাতিলের ১০ দিনের মাথায় বিগত ০৯-০৭-২০১২ ইং তারিখে আমাদের নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হবে বলে শেখ হাসিনা ঘোষণা করেন। বিশ্ব ব্যাংকের সিদ্ধান্তের বিপরীতে এহেন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করা কোনভাবেই উচিত হবেনা বলে এবং তা বাস্তবায়ন করা কোনভাবেই সম্ভব হবেনা বলে দেশের অনেক বিদগ্ধ জ্ঞানী গুণী ব্যক্তিগণ ঐ সময়ে তাদের অভিমত ব্যক্ত করেন। আজীবন বঙ্গবন্ধু বিরোধী প্রখ্যাত বামপন্থী তাত্ত্বিক বদরুদ্দিন ওমর, বীর মুক্তিযোদ্ধা সাবেক অর্থসচিব ড. আকবর আলী খান, প্রখ্যাত আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক প্রমুখ ব্যক্তিগণ ঐ সময়ে দৈনিক যুগান্তর এবং দৈনিক প্রথম আলো সহ বিভিন্ন পত্রিকাসমূহে আর্টিকেল লিখে পদ্মা সেতু করা থেকে শেখ হাসিনাকে বিরত থাকার জন্য পরামর্শ দেন। এরই পাশাপাশি CPD (Centre for Policy Dialogue) -এর কর্ণধার ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য; টি আই বি -এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান; বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ -প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ এবং তাদের সমমনা আরও অনেকেই তখন প্রতিনিয়ত বিভিন্ন সেমিনারে প্রদত্ত তাদের জ্ঞানগর্ভ ভাষণ তথা বক্তব্য প্রদানের মাধ্যমে বিশ্ব ব্যাংকের বিপরীতে অবস্থান নিয়ে আমাদের নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ না করার নিমিত্তে সরকারকে পরামর্শ দেন।

২৩। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় জন্মগ্রহণকারী মুসলিম লীগ নেতা আবুল হাশিমের পুত্র বদরুদ্দিন ওমর বঙ্গবন্ধু জীবিত থাকাবস্থায় প্রতিটি ব্যাপারে তাঁর তুখোড় সমালোচনা করেছেন। পরবর্তীকালে বঙ্গবন্ধুকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে সপরিবারে হত্যা করার পর তিনি উক্ত হত্যাকাণ্ডের কোন নিন্দা করেননি। হত্যাকারীদের কোন সমালোচনাও করেননি। আমাদের নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের ব্যাপারে শেখ হাসিনা প্রকাশ্যভাবে ঘোষণা দেয়ার অব্যবহিত পরই বদরুদ্দিন ওমর উক্ত ঘোষণার ব্যাপারে বিষোদগার করে পত্রিকায় আর্টিকেল লিখেন। উক্ত আর্টিকেলে তিনি উল্লেখ করেন– “নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করা কোন ব্যাপারই নয় বলে প্রধানমন্ত্রী যে আস্ফালন করেছেন সেটা যে কত হাস্যকর এবং অবাস্তব ছিল, এ নিয়ে এখন আর কারও কোন দ্বিমত থাকার উপায় নেই [সূত্রঃ সব শর্ত পূরণের পর বিশ্ব ব্যাংক ফিরে এলো- দৈনিক যুগান্তর; ২৩-০৯-২০১২]।”

একটু মনোযোগ সহকারে পড়লেই দেখা যায় যে, বদরুদ্দিন ওমরের প্রায় প্রতিটি আর্টিকেল তথা তার সব প্রবন্ধ এবং নিবন্ধ বঙ্গবন্ধু এবং শেখ হাসিনার প্রতি বিভিন্নভাবে শ্লেষ, কটাক্ষ এবং বিদ্বেষে পরিপূর্ণ। প্রতিহিংসাপরায়ণতা এবং পরশ্রীকাতরতায় আবিষ্ট থেকেই তিনি এসব প্রবন্ধ এবং আর্টিকেল লিখে থাকেন।

২৪। বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং ড. ইয়াজউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলী খান বলেছেন- “পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতি নিয়ে বিশ্ব ব্যাংক যে প্রশ্ন তুলেছে, বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করে তা সমাধান করতে হবে। আলাপ আলোচনা করে যদি সমাধান করা না হয়, তাহলে পদ্মা সেতু আদৌ হবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ আছে। কারণ এ সেতু করতে হলে আমাদের বেশি ব্যয় করতে হবে বৈদেশিক মুদ্রা দিয়ে। এর পরও যদি দেশি অর্থ দ্বারা সেতু নির্মাণ করার চেষ্টা করা হয় তাহলে স্থানীয় বাজারে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে যাবে। তখন উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ হবে না। সাধারণ মানুষের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।”

প্রখ্যাত আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক বলেন- “পদ্মা সেতুতে দুর্নীতি হয়নি তা সরকার মুখে বললে হবে না, প্রমাণ করে দেখাতে হবে। তবে এখন এটা স্পষ্ট হয়ে গেছে যে এ সরকারের আমলে পদ্মা সেতু নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছে না [দ্রষ্টব্যঃ আমাদের অর্থে আমাদের পদ্মা সেতু- এ কে আব্দুল মোমেন; সূত্রঃ সব বিরোধিতার বিপরীতে জাগ্রত সেতু- জাফর ওয়াজেদ, পৃষ্ঠা নং ২০৪-২০৫ (পরিমার্জিত দ্বিতীয় সংস্করণ) জুলাই, ২০২২]।”

সুতরাং সাবেক সচিব এবং সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলী খানের বক্তব্য সমূহ যে পুরোপুরি অবাস্তব এবং অদূরদর্শী চিন্তাচেতনার বহিঃপ্রকাশ, বর্তমান বাস্তবতার আলোকে তা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। এরই পাশাপাশি ড. শাহদীন মালিকের বক্তব্য সমূহ যে পুরোপুরিভাবে বিদ্বেষ প্রসূত এবং বাস্তবতার সহিত অসঙ্গতিপূর্ণ তা খোলা চোখেই পরিলক্ষিত হয়।

২৫। Centre for Policy Dialogue (CPD) -এর সাবেক নির্বাহী পরিচালক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্ব ব্যাংক কর্তৃক আনীত দুর্নীতির অভিযোগের ব্যাপারে বলেন- “দুর্নীতির কারণে পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন বন্ধ হয়ে যাওয়া খুবই দুর্ভাগ্যজনক। বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে সমস্যা সমাধান করা দরকার ছিল। বিকল্প উৎস থেকে অর্থ এনে এত বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।” এই সেতু প্রকল্পের অর্থায়ন বন্ধের পাশাপাশি পরবর্তী নির্বাচন প্রসঙ্গেও ড. ভট্টাচার্য বিরূপ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন- “আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার যদি আবারও ক্ষমতায় আসে তবে এজন্য তাদেরকে ভয়ংকর নতুন সমস্যায় পড়তে হবে। এর দায় তারা মেটাতে পারবে না। আর যদি ভিন্ন সরকার আসে, তবে তারা আগের অপচয় মেনে নিয়ে তাদের পদ্মা সেতু প্রকল্প বাতিল বা বন্ধ করে দেয়া ছাড়া গত্যন্তর থাকবে না। সেক্ষেত্রে পুরো জাতি বঞ্চিত হবে। হাজার হাজার কোটি টাকা গচ্চা যাবে।”

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য নিজেকে দেশের নীতি নির্ধারণ পর্যায়ের একজন তাত্ত্বিক অর্থনীতিবিদ বলে মনে করে থাকেন। দেশের অর্থনীতি সংক্রান্ত প্রতিটি ব্যাপারেই তিনি তার প্রতিষ্ঠান CPD -এর পক্ষ থেকে মতামত ব্যক্ত করে থাকেন। কিন্তু পদ্মা সেতুর ব্যাপারে বিশ্ব ব্যাংক কর্তৃক উত্থাপিত কাল্পনিক এবং দুরভিসন্ধিমূলক দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তার অবস্থান এবং মূল্যায়ন কতটা বিদ্বেষপূর্ণ ও সংকীর্ণতায় আবিষ্ট ছিল এবং তার দূরদর্শিতার সীমা কতটা সীমিত এবং একপেশে– আমাদের নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ তার অকাট্ট প্রমাণ।

২৬। পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ উত্থাপন করে বিশ্ব ব্যাংক ঋণ চুক্তি বাতিল করার পর আমাদের দেশের পত্র পত্রিকা সমূহ উপরোক্ত দুর্নীতির ব্যাপারে কোন তথ্য প্রমাণ দাখিল করার জন্য বিশ্ব ব্যাংকের নিকট কোন আবেদন করেননি কিংবা কোন অনুরোধ জানাননি। এহেন প্রমাণ দাখিল করার জন্য কোন একটি পত্রিকা কিংবা কোন সংস্থা বিশ্ব ব্যাংককে কোন তাগিদ ও দেননি। পক্ষান্তরে বিশ্ব ব্যাংকের এহেন তথ্য প্রমাণ বিহীন মনগড়া দুর্নীতির অভিযোগ শেখ হাসিনার সরকার প্রথম থেকেই প্রত্যাখ্যান করেছে। অবশ্য বিশ্ব ব্যাংক তাতে আদৌ কোন আমল দেয়নি। কিন্তু তা সত্ত্বেও TIB (Tranparency International Bangladesh) -এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান কোন আগাগোড়া না ভেবেই বলে দিলেন- “পদ্মা সেতুর দুর্নীতির সঙ্গে সরকারের উচ্চ মহল জড়িত।” এমনকি তিনি আরও বললেন- “বাংলাদেশ সরকারকে অবশ্যই দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকারের প্রবণতা পরিহার করতে হবে।”

স্বীকৃত মতেই ড. ইফতেখারুজ্জামানের প্রতিষ্ঠানের নাম Transparency International Bangladesh (TIB)। পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্ব ব্যাংকের কথিত দুর্নীতি এবং এহেন দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তার নিজের অবস্থান এবং মূল্যায়ন আদৌ Realistic and transparent ছিল কি না তার জবাব এখন তাকেই দিতে হবে।

২৭। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ পদ্মা সেতু সম্পর্কে বলেছিলেন- “নিজস্ব অর্থায়নে সরকার পদ্মা সেতু করার যে পরিকল্পনা করেছে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। তবে সরকার ইচ্ছা করলে পদ্মা সেতু প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে পারবে। কিন্তু তা শেষ করতে পারবে না। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু করতেও পারবে না। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু করতে গেলে দেশের তারল্য সংকট ভয়াবহ রূপ নিবে। বৈদেশিক মুদ্রার সংকট সৃষ্টি হবে।”

বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু ইতিমধ্যেই সাফল্যজনকভাবে নির্মিত হয়ে যাওয়ায় গভর্নর সাহেব এখন নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন তার চিন্তাভাবনা কতটা পশ্চাৎপদ ছিল। এরই পাশাপাশি বিদ্যমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা থেকে তিনি কতটা দূরে অবস্থান করে তার দায়িত্ব এবং কর্তব্য প্রতিপালন করেছেন তা ও নিশ্চয়ই তিনি অনুধাবন করতে পারছেন।

২৮। সমকালীন বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফরহাদ মাজহার বরাবরই একজন বিতর্কিত ব্যক্তি। বিএনপি জামায়াতের ঘরানার বুদ্ধিজীবী হিসেবেও তিনি সুপরিচিত। এই ফরহাদ মাজহার বিগত ২০১২ সালের ১৫ই জুলাই banglanews24.com -এ বলেন– “দুর্নীতি হয়েছে এটা বিশ্ব ব্যাংক একা বলেনি” শীর্ষক ভাষ্যে তিনি উল্লেখ করেন “এটাকে শুধু কেলেংকারি বলা যাবে না। এটা একটা গুরুতর রাজনৈতিক ও নৈতিক অপরাধ বটে।”

প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ এবং শিক্ষক ড. আহসান এইচ মনসুর জামায়াতে ইসলামীর মুখপত্র সাপ্তাহিক সোনার বাংলা পত্রিকায় “পদ্মা সেতু নতুন সরকারের অপেক্ষা” শীর্ষক ভাষ্যে উল্লেখ করেন- “শুরু করতে পারলেও শেষ করার কোন গ্যারান্টি থাকবে না।”

আমাদের দুর্ভাগ্য যে উপরোক্ত প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদগণ প্রতিনিয়ত দেশের অর্থনীতি সম্পর্কে জ্ঞানবুদ্ধি বিলি বিতরণ করে চলেছেন। প্রকৃত প্রস্তাবে তারা নিজেরা কতটা অবাস্তব এবং নিম্ন স্তরের চিন্তা চেতনার ঘোরে আচ্ছন্ন তা তাদের উপরোক্ত ভাষ্য থেকেই প্রমাণিত হয়।

২৯। ড. বিনায়ক সেন একজন স্বনামধন্য অর্থনীতিবিদ বটেন। বিগত ২০১২ সালের ১লা জুলাই প্রথম আলো পত্রিকায় এই অর্থনীতিবিদ তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন- “গত এক বছরে আলাপ আলোচনা করে বিশ্ব ব্যাংকের আস্থা সরকার ফিরিয়ে আনতে পারতো।”

ড. জায়েদ বখত একজন প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ বটেন। বিগত ২০১২ সালের ১৩ই জুলাই জামায়াতে ইসলামীর মুখপত্র সাপ্তাহিক সোনার বাংলা পত্রিকায় “পদ্মা সেতুঃ নতুন সরকারের অপেক্ষা” শীর্ষক নিবন্ধে মন্তব্য করেন- “মনে হচ্ছে বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে নতুন করে চুক্তি করতে হলে এ সরকারের মেয়াদকালে আর সম্ভব হবে না।”

উপরোল্লিখিত সব কয়জন অর্থনীতিবিদই নিয়মিতভাবে অর্থনীতি সম্পর্কে জ্ঞান বিতরণ করে থাকেন। কিন্তু আমাদের দেশ ও জাতির সৌভাগ্য যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপরোক্ত কোন একজন অর্থনীতিবিদের কথায়ই কান দেননি। বরং তাদেরকে উপেক্ষা করে প্রচণ্ড মনোবল, নৈতিক সাহস এবং দূরদৃষ্টি নিয়ে পদ্মা সেতু নির্মাণকল্পে তিনি তার সিদ্ধান্তে অটল, অনড় এবং অবিচল থেকেছেন। আর তারই প্রতিফলন আজকের এই পদ্মা সেতু।

৩০। বাংলাদেশের অত্যন্ত প্রভাবশালী একটি ইংরেজী পত্রিকা The Daily Star -এর সম্পাদক মাহফুজ আনাম। তিনি উক্ত পত্রিকায় তার নিজের নামে ইতিপূর্বে নাতিদীর্ঘ একটি আর্টিকেল লিখেছেন। পরে তিনি নিজেই সেটি বঙ্গানুবাদ করেছেন এবং বিগত ২০১৩ সনের ২৯শে জুন দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় মতামত কলামে- ‘সরকারের সাড়ে চার বছর- অহংকার, খামখেয়াল ও প্রতিহিংসা’ শিরোনামে প্রকাশ করেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে মাহফুজ আনাম সুশিক্ষিত একজন বিশিষ্ট ভদ্রলোক হিসেবে বিবেচিত। সুধী মহলে তার অনেক প্রভাব এবং শুভাকাঙ্ক্ষী রয়েছেন। তার এই প্রভাব এবং পরিচিতির সুবাদে তিনি তার উক্ত প্রবন্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে এবং সজ্ঞানে অনেক সত্য গোপন করেছেন এবং ডাহা মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে উক্ত প্রবন্ধে ড. মুহাম্মদ ইউনুসের সাফাই গেয়েছেন। শেখ হাসিনা প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে খুবই অন্যায়ভাবে ড. ইউনুসকে গ্রামীণ ব্যাংকের এম ডি পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন বলে মাহফুজ আনাম তার উক্ত আর্টিকেল তথা প্রবন্ধে উল্লেখ করেছেন। একই কারণে তিনি অত্যন্ত তীব্র ভাষায় এবং প্রচণ্ড রকমের আক্রমণাত্মক অভিব্যক্তি ব্যক্ত করে তার উক্ত প্রবন্ধে তিনি খুবই কঠোর ভাষায় শেখ হাসিনার সমালোচনা করেছেন।

ড. মোঃ ফজলুর রহমান, সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ (অবঃ), লেখক ও কলামিস্ট  

(চলবে)

বি/ ইবিটাইমস /এম আর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »