নক-আউট রাউন্ডে ক্রোয়েশিয়া ও জাপান খেলার নির্ধারিত সময়(১-১) ও আরও অতিরিক্ত ৩০ মিনিটেও খেলা অমীমাংসিত থাকলে খেলা ট্রাইবেকারে গড়ায়
স্পোর্টস ডেস্কঃ সোমবার (৫ ডিসেম্বর) কাতারের আল জানুব স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ ফুটবলের নক-আউট রাউন্ডের খেলায় টাইব্রেকারে জাপানকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে ক্রোয়েশিয়া।
জাপানের নেওয়া চারটি শটের তিনটিই রুখে দেন ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক ডমিনিক লিভাকোভিচ। অন্যদিকে ক্রোয়েশিয়ার নেওয়া চারটি শটের তিনটি থেকে গোল করেন যথাক্রমে নিকোলা ভ্লাসিক, মার্সেলো ব্রোভিচ ও মারিও প্লাসিক। তাতে কোয়ার্টারে পৌঁছে যায় ক্রোয়েশিয়ানরা।
খেলার শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণ করে খেলতে থাকে। খেলার দ্বিতীয় মিনিটেই কর্নার পায় জাপান। এ সময় ক্রোয়েশিয়ার বর্না বারিসিক কর্নারের বিনিময়ে জাপানের একটি আক্রমণ নষ্ট করে দেয়। কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে হেড নিয়েছিলেন শোগো তানিগুচি। তার নেওয়া হেড বাম পাশ দিয়ে চলে যায়।
খেলার ৮ মিনিটে নিশ্চিত গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন ক্রোয়েশিয়ার ইভান পেরিসিক। তিনি বামদিকে জাপানের রক্ষণভাগের খেলোয়াড়ের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন। তার সামনে ছিলেন কেবল জাপানের গোলরক্ষক। আড়াআড়ি অ্যাঙ্গেল থেকে শটও নিয়েছিলেন। কিন্তু বল তার গায়ে মেরে দেন। এরপর জটলার মধ্যে চেষ্টা করেও আর সম্ভব হয়নি।
তারপর খেলার ২৪ মিনিটে ক্রোয়েশিয়া একটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ মিস করেন। তারপর খেলার ৪৩ মিনিটে মায়েদার গোলে এগিয়ে যায় জাপান (১-০)।
বিরতির পর ৫৩ মিনিটে সমতা ফেরার ক্রোয়েশিয়ার ইভান পেরিসিক(১-১)। এই সমতা নিয়ে শেষ হয় নির্ধারিত সময়ের খেলা। ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। এবারের বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর প্রথম কোনো ম্যাচ গড়ালো অতিরিক্ত সময়ে।
অবশ্য অতিরিক্ত সময়ে দারুণ একটি গোলের সুযোগ পেয়েছিল জাপানের শোগো তানিগুজি। ৯২ মিনিটের মাথায় কর্নার পায় জাপান। কর্নার থেকে জুনিয়ার বাড়িয়ে দেওয়া বলে ছয়গজ বক্সের মধ্যে হেড নিয়েছিলেন তানিগুজি। কিন্তু সেটি ডানদিক দিয়ে বাইরে চলে যায়। ১০৫ মিনিটের মাথায় কাওরু মিতোমার নেওয়া একটি শট ধরে ফেলেন ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক।
জাপান ও ক্রোয়েশিয়ার এই নক-আউট রাউন্ডের খেলা ১২০ মিনিট ১-১ গোলে অমীমাংসিত ভাবে শেষ হলে খেলার ফলাফলের জন্য ট্রাইবেকারে
বা পেনাল্টি কিকে গড়ায়।
জাপান এর আগে কখনোই বিশ্বকাপ ফুটবলে শেষ ষোলোর গণ্ডি পেরুতে পারেনি। জাপান প্রথম রাউন্ডে জার্মানি ও স্পেন হারিয়ে দারুণ বিস্ময়ের
সৃষ্টি করে। এশিয়ার দেশের মধ্যে ইতিপূর্বে উত্তর কোরিয়া (১৯৬৬) ও দক্ষিণ কোরিয়ার (২০০২) সালে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত খেলেছিল।
জাপান একাদশ: শুইচি গোন্ডা, মায়া ইয়োশিদা, শোগো তানিগুচি, তাকেহিরো তোমিয়াসু, হিদেমাসা মরিতা, ওয়াতারু এন্ডো, ইউটো নাগাতোমো, জুনিয়া ইতো, ডাইজেন মায়েদা, দাইচি কামাদা ও রিতসু দোয়ান।
ক্রোয়েশিয়া একাদশ: ডমিনিক লিভাকোভিচ, জোস্কো গভার্দিওল, দেজান লোভরেন, বোর্না বারিসিক, জোসিপ জুরানোভিচ, মার্সেলো ব্রোজোভিচ, মাতেও কোভাসিক, লুকা মড্রিক, ব্রুনো পেটকোভিচ, ইভান পেরিসিক ও আন্দ্রেজ ক্রামরিক।
কবির আহমেদ/ইবিটাইমস