ফ্রান্স ৩-১ গোলে পোল্যান্ডকে এবং ইংল্যান্ড ৩-০ গোলে সেনেগালকে পরাজিত করে কোয়ার্টার ফাইনালে উন্নীত হয়েছে
স্পোর্টস ডেস্কঃ গতকাল রবিবার (৪ ডিসেম্বর) কাতারের আল সুমাম স্টেডিয়ামে দিনের প্রথম খেলায় ফ্রান্স সহজেই ৩-১ গোলে পরাজিত করে কোয়ার্টার ফাইনালে উন্নীত হয়েছে।
রাশিয়ায় ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ জয়ে অবদান রাখা কিলিয়ান এমবাপ্পে এখন কাতারেও দুর্দান্ত ফর্মে। শেষ ষোলোতে পোল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসন একার করে নিয়েছেন ফ্রান্সের এই ফরোয়ার্ড। এমবাপ্পে কোয়ার্টার ফাইনালের পূর্বেই ৫ গোলের অধিকারী হয়েছেন। কাতার বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের স্বপ্ন এখন ফ্রান্সের।
গতকাল খেলার প্রথমার্ধের ৪৪ মিনিটে ফ্রান্সের পক্ষে প্রথম গোল করে অলিভিয়ের জিরুদ। তারপর খেলার ৭৪ ও অতিরিক্ত সময়ের(৯০+১) প্রথম মিনিটে এমবাপ্পে জোড়া গোল করেন। এর ফলে চলতি বিশ্বকাপে তিনি পাঁচ গোলের দেখা পেলেন।
গতকাল খেলা শেষে এমবাপ্পে জানালেন, এই টুর্নামেন্টে তিনি প্রতিটি মিনিট উপভোগ করছেন। তিনি বলেন, ‘আমার স্বপ্নের প্রতিযোগিতা এটা। এখানে খেলতে পেরে আমি আনন্দিত। তৈরি থাকতে পুরো মৌসুম ধরে আমি প্রস্তুতি নিয়েছি।’
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে জালের দেখা পান এমবাপ্পে। ডেনমার্কের বিপক্ষে করেন জোড়া গোল। দারুণ পারফরম্যান্সের পর তার অভিমত জানা যায়নি। কারণ সংবাদ সম্মেলনে যাননি তিনি। এনিয়ে এমবাপ্পে বলেন, ‘এই প্রতিযোগিতার শুরুর দিকে আমি গণমাধ্যমে কথা বলিনি, কারণ আমি শুধু টুর্নামেন্ট ও আমার ফুটবলে মনোনিবেশ করতে চেয়েছিলাম। যখন আমি কোথাও মনোনিবেশ করি, তখন এমনটাই করি। কিন্তু যখন বলা হলো ফরাসি ফুটবল ফেডারেশনকে জরিমানা করা হবে, আমি নিজেই দিয়েছি সেটা, কারণ এটা আমার দায়িত্ব ছিল।’
আবারও বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্য এমবাপ্পের, ‘আমি এখানে এসেছি এবং আবারও বিশ্বকাপ জয়ে মনোনিবেশ করছি আমরা। আমাদের উদ্দেশ্য বিশ্বকাপ জেতা থেকে যদিও এখনও অনেক দূরে। প্রথম চ্যালেঞ্জ হলো কোয়ার্টার ফাইনাল এবং সেদিকেই এখন আমাদের পুরো মনোযোগ।’
দিনের অপর খেলায় ইংল্যান্ড সহজেই সেনেগালকে ৩-০ গোলে পরাজিত করে কোয়ার্টার ফাইনালে উন্নীত হয়েছে। কাতারের আল বায়াত স্টেডিয়ামে
অনুষ্ঠিত এই খেলার পূর্বে অনেকেই ধারণা করেছিল যে,ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তাক লাগিয়ে দেবে সেনেগাল। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে এমন ঘোষণা দিয়ে রেখেছিল আট বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা সেনেগাল। প্রথম পর্বে তাদের পারফরম্যান্সের ধার ভালো থাকায় আত্মবিশ্বাস পেয়েছিল। কিন্তু প্রতিপক্ষ যখন ইংল্যান্ড তখন শুধু আত্মবিশ্বাসে কাজ হয় না। মাঠের লড়াইয়েও সেরা হতে হয়।
সেনেগাল প্রি কোয়ার্টারের ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তেমন কিছুই করতে পারেনি। ইংল্যান্ড ধরে রেখেছে আধিপত্য। গোল করার অভ্যাস। প্রথম পর্বে ৯ গোল করা দলটি নক আউট পর্ব শুরু করলো ৩ গোল করে। বিপরীতে গোল হয়নি একটিও। ৩-০ গোলে সেনেগালকে হারিয়ে ইংলিশ লায়ন্সরা অতি সহজেই পৌঁছে গেল কোয়ার্টার ফাইনালে।
খেলাল প্রথমার্ধেই ম্যাচের নাটাই নিজেদের কাছে নিয়ে নেয় সাউথগেটের শিষ্যরা। হ্যান্ডারসন ও কেনের গোলে লিড ২-০। ফিরে এসে সাকার গোলে ব্যবধান বাড়ে। গোলের ক্ষুধায় মগ্ন সাউথগেট রিজার্ভ খেলোয়াড়দের নামিয়ে আক্রমণে আরো শক্তি বাড়ান। পরিকল্পনামতো আক্রমণও চালায় র্যাশফোর্ড, কেনরা। কিন্তু সেনেগালের রক্ষণদূর্গ আর ভাঙতে পারেনি। তাতে আক্ষেপ থাকার কথা না। কারণ জয় ততক্ষণে সুনিশ্চিত।
কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ ফ্রান্স। আগামী শনিবার (১০ ডিসেম্বর) কাতারের আল বায়াত স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে ইউরোপের এই
শক্তিধর দুই দেশ।
কবির আহমেদ/ইবিটাইমস