পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর দূর্গম উপজেলা রাঙ্গাবালী। মূল ভূখন্ড থেকে নদী দিয়ে বিচ্ছিন্ন থাকায় এই উপজেলার সাথে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ নেই। ল , ট্রলার আর স্প্রিড বোটে করে চলাচল করতে হয়। পুরো উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের একটি এবং থানা পুলিশের একটি গাড়ী ছাড়া অন্য কোন গাড়ী নেই। তবে সম্প্রতি এই উপজেলা বিদায়ী নির্বাহী অফিসারের বিদায় কালে একটি ছবি নিয়ে বিভ্রান্তি মূলক প্রচারণা চলছে। পুলিশের ওসি দীর্ঘদিনের সহকর্মীকে তার ডাবল কেবিন পিকআপএ করে এগিয়ে দেয়ার ঘটনাকে পুলিশী পাহাড়ায় ইউএনও’র বিদায় বলে প্রচারনা চালানো হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বিব্রত পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন।
রাঙ্গাবালী থানার অফিসার ইনচার্জ নুরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, ‘উপজেলা পরিষদের একটিমাত্র গাড়ি, যেটা নষ্ট ছিলো। রাঙ্গাবালী থানায় আমরা তাকে বিদায়ী সংবর্ধনা দিয়ে সকালে একসাথে নাস্তা করেছি। ইউএনও মোটরসাইকেল যোগে কোড়ালিয়া ল ঘাটে রওনা দিয়েছিলেন। আমি তাকে আমার গাড়িতে করে ঘাটে পৌছানোর জন্য বলি। সে অবশ্য গাড়ীতে উঠতে চাননি। এর পর সে পথে পথে গাড়ি থেকে নেমে সাধারণ মানুষের সখে কথা বলে বিদায় নেয়। আমি তাকে আমার শিশু কণ্যা সহ ঘাট পর্যন্ত এগিয়ে দেই এবং সেখানে তাকে বিদায় জানাই। এটা একটা সৌজন্যতা। কিন্তু একটি পক্ষ এটিকে ভিন্ন ভাবে প্রচার চালাচ্ছে, যেটি দুঃখজনক।’
কোড়ালিয়া ঘাটের স্প্রিডবোট ম্যানেজার কামরুল ইসলাম বলেন, ‘ইউএনও স্যারকে বিদায় জানাতে সেদিন ঘাটে দেড় থেকে দুইশ মানুষ উপস্থিত হয়েছিল। সবাই তাকে ভালো ভাবে বিদায় জানিয়েছে। ঘাটে সিসি ক্যামেরা আছে, আপনারা তার রেকর্ড দেখলেই বুঝতে পারবেন। তিনি ভালো মানুষ ছিলো।’
বিদায়ী ইউএনও মাশফাকুর রহমানের বিদায় কালে উপস্থিত উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ওয়ালিদ তালুকদার বলেন, ‘উপজেলা পরিষদ থেকে অন্তত ২০ টি মটরসাইকেলে সাধারণ মানুষ মাশফাকুর রহমানকে বিদায় জানাতে স্প্রিডবোট ঘাটে উপস্থিত হয়। পথে পথে বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের সাথে তিনি হাত মিলিয়ে কথা বলে বিদায় নেন। এ সময় অনেকেই আবেগে আপ্লুত হয়ে পরেন। একটি স্বাভাবিক বিষয় নিয়ে ইউএনও জনপ্রিয়তার ইর্ষানিত হয়ে একটি গ্রæপ ভিন্ন প্রচারণা চালাচ্ছে।
রাঙ্গাবালী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার সালেক মুহিদ বলেন, ‘যেহেতু উপজেলা পরিষদে একটি মাত্র গাড়ি। সেটা সাময়িকভাবে বিকল থাকায় ইউএনও স্যারকে বিদায় কালে গাড়িতে পৌছে দেয়া যায়নি।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিদায়ী ইউএনও মাশফাকুর রহমান বলেন , ‘আমি রাঙ্গবালীতে প্রায় চার বছর কর্মরত ছিলাম। এই সময় উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়নের পাশপাশি সরকারের নির্দেশনা প্রতিপালনের চেষ্টা করেছি। আমার মেয়াদকালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার মুজিববর্ষের ১৮৮৫টি ঘর নির্মান করেছি। চেষ্টা করেছি প্রকৃত ভূমিহীনদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর এই উপহার যাতে পৌছে দিতে পারি। প্রধানমন্ত্রীর এই উপহার নিয়ে একাধিক চক্র সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে ঘর দেবার চেষ্টা করেছে। আমি তাদের শক্তহাতে দমন করেছি। আর এসব কারনেই এখন আমি চলে আশার পর বিভিন্ন অভিযোগ তুলছে। এর মধ্যে একাধিক গ্রæপ রয়েছে যারা সুবিধা না নিতে পেরে এখন আমার বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাচ্ছে, আমি তাদের বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহন করবো। ’
বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলায় বিদায়ী নির্বাহী অফিসার মাশফাকুর রহমান সাদামাটা চলাফেরার কারনে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে ছিলেন। বিশেষ করে উপজেলার চরমন্তাজে নৌকায় বসবাস করা ভাসমান মানতা সম্প্রদায়ের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর উপহার মুজিব বর্ষের ঘর দিয়ে দুটি মানতা পল্লি তৈরী করেন। এর ফলে নৌকায় বসবাস করা মানতা সম্প্রদায় স্থায়ী ভাবে ডাঙ্গায় বসবাসের সুযোগ পেয়েছে। গত ৩ ডিসেম্বর দুপুরে রাঙ্গাবালী উপজেলা থেকে তিনি বদলী হয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে যোগদান করেন।
আব্দুস সালাম আরিফ/ইবিটাইমস