মেঘনা থেকে অপহৃত জেলেরা মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পেলেন

ভোলা প্রতিনিধিঃ ভোলার তজুমদ্দিনে মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে গেলে  জলদস্যুরা ১৫ জেলেকে অপরহরন করেন।অপহরণের ২ দিন পর মুক্তিপণের বিনিময়ে ছাড়া পেয়েছে তারা।

রবিবার(৪ ডিসেম্বর)বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে নিজ বাড়িতে ফিরেছে এসকল জেলেরা।এর আগে  শনিবার রাতে তাদেরকে পরিবারের সদস্যরা বিকাশের মাধ্যমে টাকা দিয়ে ছাড়িয়ে আনেন।জলদস্যুদেরকে টাকা দিতে দেরি হওয়ায় শারীরিক নির্যাতন করেন জেলেদেকে।জলদস্যুদের ভয়ে অপহরণের এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত জেলেরা থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের করেনি।

অপহরনের পরে মুক্তিপণ দিয়ে  বাড়ি ফিরে আসা এসব জেলেরা হলো,তজুমদ্দিন  উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের উত্তর চাপড়ী গ্রামের অলি আহমেদের ছেলে আলাউদ্দিন, মোতাহারের ছেলে হাসান, আলী মোস্তফার ছেলে সালাউদ্দিন ও শাহজাহানের ছেলে ইউছুফ, চাঁদপুর ইউনিয়নের মাওলানা কান্দি গ্রামের কাশেম মাজির ছেলে লোকমান, আব্দুল মান্নানের ছেলে হান্নান, মহাজনকান্দি গ্রামের আলমগীরের ছেলে আরিফ, বালিয়াকান্দি গ্রামের মোস্তফা মাঝির ছেলে হাসেম ও ভুলাই কান্দি গ্রামের মোস্তফার ছেলে মিরাজ। বাকিদের নাম জানা যায়নি।

বাড়ি ফিরা জেলেরা জানায়,শনিবার রাতে  মুক্তিপন আদায় করে তাদের ইলিশা মাছ ঘাটের দক্ষিন পাশে মাঝির ঘাট নামের একটি নির্জন এলাকায় জলদস্যুরা নৌকা হতে নামিয়ে দেয়। পরে তারা বিভিন্ন সময়ে বাড়ি ফিরে আসলেও বাকীদের সম্পর্কে কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। ধারনা করা হচ্ছে এরা অন্য এলাকার হওয়ায় জলদস্যুরা তাদের আলাদা স্থানে রাখে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জেলে জানায়, অপহরণের পর তজুমদ্দিনের ৯ জেলেসহ ১৫ জনকে ভোলার তুলাতলির পূর্ব পাশে মেঘনার একটি চরে নৌকার মধ্যে বেঁধে রাখে।

স্বজনের জানান,জলদস্যুরা জেলেদেরকে  ব্যাপক মারধর করে মৎস্য আড়তদার ও স্বজনদের সাথে মুঠো ফোনে কথা বলতে দেন। এ সময় ডাকাতরা জেলেদের জীবিত ফেরত নিতে এক লক্ষ টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করে। স্বজনদের বলেন পুলিশকে কোন তথ্য জানালে কাউকে জীবিত ফেরত পাবে না।”

মৎস্য আড়তদার ও স্বজদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি জেলেকে মুক্তির জন্য ডাকাতরা ৩০ থেকে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত মুক্তিপণ নিয়েছে। এসব টাকা পরিশোধের জন্য ডাকাতদল তাদের আটটি বিকাশ নম্বরে পাঠায়। এসব নম্বর গুলো হচ্ছে 01791476008, 01791669995, 01877244688, 01758112958, 01315394659, 01788185972, 01717792257, 01811144432. ডাকাতদের দেওয়া এসব নাম্বারে অপহৃতদের স্বজনরা মুক্তিপণের টাকা পরিশোধ করে বলে তারা জানায়।

তজুমদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)মো. মাকসুদুর রহমান মুরাদ জানান, অপহৃত জেলেরা বাড়ি ফেরার খবর পেয়েছি। তাদেরকে আইনগত সহায়তা নেয়ার জন্য বলা হলেও এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি। তবে, জলদস্যুদের কিছু বিকাশ নম্বর জেলেরা দিয়েছে, আমরা তা যাচাই করে দেখছি।

উল্লেখ,শুক্রবার(২ ডিসেম্বর) ভোরে তজুমদ্দিন উপজেলার বিছিন্ন চরমোজাম্মল এলাকা মেঘনা নদীতে মাছ ধরার সময় জলদস্যুরা ১৫ টি ট্রলারে হামলা করে ১৫ জন জেলেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

মনজুর রহমান/ইবিটাইমস 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »