কাতার বিশ্বকাপ ফুটবলের স্টেডিয়াম ৯৭৪ এ ‘এইচ’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর) এক শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থার পর পর্তুগাল ৩-২ গোলে ঘানাকে হারিয়েছে
স্পোর্টস ডেস্কঃ আবারও আলোচনায় পর্তুগালের রোনালদো। অবশ্য বিশ্বকাপ শুরুর আগ থেকেই আলোচনায় আছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। আর সেটা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে তার দেওয়া জ্বালাময়ী সাক্ষাৎকারের জন্য। বিশ্বকাপ খেলতে মাঠে নামার একদিন আগে ম্যানইউর সঙ্গে তার চুক্তি মাঝপথেই শেষ হয়ে গেছে। তবে এই বিষয়টি নিয়ে মোটেও ভাবছেনা পর্তুগাল শিবির।
যেমনটা বলেছেন পর্তুগালের সেন্টার ব্যাক রুবেন দিয়াস, ‘আমি মনে করি না যে রোনালদোর বিষয়গুলি আমরা এখানে যা অর্জন করতে এসেছে তাতে কোনও প্রভাব ফেলছে। তাই এ সম্পর্কে আমার বেশি কিছু বলার নেই। এই বিষয়ে ইতোমধ্যে যথেষ্ট কথা বলা হয়েছে। যোগ করার মতো আর কিছুই নেই। দল হিসেবে আমরা এখন বিশ্বকাপে ফোকাস করব, অন্যান্য বিষয়ে নয়।’
আজ বৃহস্পতিবার (২৩ নভেম্বর) কাতার বিশ্বকাপ ফুটবলের এইচ গ্রুপে রোনালদোর পর্তুগাল প্রথম মুখোমুখি হয় আফ্রিকার দেশ ঘানার।.ঘানা অবশ্য পর্তুগালের অচেনা প্রতিপক্ষ নয়। ২০১৪ বিশ্বকাপে তাদের দেখা হয়েছিল। সেবার রোনালদোরা জিতেছিল ২-১ গোলের ব্যবধানে।
আজ ঘানার বিরুদ্ধে খেলার ১০ মিনিটে সহজ সুযোগ মিস করেছেন রোনালদো। মাঝমাঠ থেকে সিলভা উড়িয়ে মারেন ডি বক্সে। ঘানার ডিফেন্ডারদের সামনে রোনালদো ছিলেন। নিজের নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেননি। গোলরক্ষকের সঙ্গে সংঘর্ষে পড়ে যান মাটিতে। সহজ সুযোগ মিস করে পর্তুগাল। ১৩ মিনিটে কর্নার থেকেও লাফিয়ে উঠে হেড দিতে গিয়ে বাইরে মেরে দেন।
এর পর খেলার ৩১ মিনিটে ডি বক্সের বাম কোনায় জোয়াও ফেলিক্সের পাস রোনালদোর কাছে আসে। দুই ডিফেন্ডারকে পরাস্ত করে কোনাকুনি শটে বল জালে জড়ান। কিন্তু বল নিজের নিয়ন্ত্রণে নিতে গিয়ে ফাউল করেন। এটাই কাল হলো। গোল দিয়েও উল্লাস করতে পারেননি। কেননা ফাউলের সঙ্গে সঙ্গেই রেফারি বাঁশি বাজান। রোনালদোর কিছু করার ছিল না।
পর্তুগাল ও ঘানার খেলার প্রথমার্ধ শেষ হয় গোল শূন্য । অবশ্য প্রথমার্ধে দারুণ খেলেছে পর্তুগাল। কিন্তু গোল মিসের কারণে গোলের দেখা পায়নি। রোনালদো শুরুতে একটি নিশ্চিত গোল মিস করেন। পরে একটি গোল দিলেও ফাউল করায় সেটি বাতিল হয়। আরও দুবার নষ্ট করেন সুযোগ। একইভাবে সতীর্থ ওটিবাও বল মেরে দেন বারের বাইরে। প্রথমার্ধে পর্তুগাল ৭টি আক্রমণ করে, বিপরীতে কোনো আক্রমণই করতে পারেনি ঘানা। ম্যাচের ৬৯ শতাংশ সময় বল ছিল পর্তুগালের পায়ে।
খেলার দ্বিতীয়ার্ধে ঘানার ওপর চাপ প্রয়োগ করে খেলা শুরু করে পর্তুগাল। অবশেষে খেলার ৬৫ মিনিটে পেনাল্টি থেকে রোনালদোর গোলে এগিয়ে
যায় পর্তুগাল। ডি বক্সে রোনালদোকে ফাউল করেন ঘানার সালিসু। ফলে পেনাল্টি পায় পর্তুগাল। রোনালদো.বাঁ দিকে জোরালো শটে গোল দিয়ে এগিয়ে দেন দলকে(১-০)। এই গোলের মাধ্যমে ২০০৬ থেকে ৫ বিশ্বকাপে একমাত্র ফুটবলার হিসেবে গোল করার রেকর্ড গড়েন তিনি।
অবশ্য রোনালদোর পেনাল্টি গোলের ৮ মিনিট পর খেলার ৭৩ মিনিটে ঘানার খেলায় সমতা ফিরিয়ে আনে।গোল লাইনের খুব কাছ থেকে আন্দ্রে আইয়ুর পায়ের টোকা খুঁজে নেয় পর্তুগালের জাল। বিশ্বকাপে আন্দ্রের গোল ৩টি। ঘানার হয়ে যেটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
পুনরায় খেলার ৭৮ মিনিটে পর্তুগালের জোয়াও ফেলিক্স গোল করে পর্তুগালের ব্যবধান দিগুণ করে পর্তুগালকে এগিয়ে দেন (২-১)। তারপর পর্তুগালের বদলি খেলোয়াড় হিসাবে মাঠে নেমেই খেলার ৮০ মিনিটে গোল করে রাফায়েলের দলকে ৩-১ গোলে এগিয়ে নিয়ে যান।
এরই মধ্যে খেলার ৮৯ মিনিটে ঘানার ওমর বুকারি এক গোল করে খেলায় উত্তেজনা ফিরিয়ে নিয়ে আসেন (৩-২)। খেলার অতিরিক্ত সময় প্রায় ১০
মিনিট টানটান উত্তেজনা থাকলেও ঘানা খেলায় গোল করে আর সমতা ফিরিয়ে আনতে পারে নি। ফলে গ্রুপের প্রথম খেলায় রোনালদোর পর্তুগাল
পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ত্যাগ করেছে।
এখানে উল্লেখ্য যে,বিশ্ব ফুটবলে পর্তুগাল একটি আদর্শ দল হলেও এঈ পর্যন্ত কেবল দুইবার তারা সেমিফাইনাল খেলতে পেরেছে। তার মধ্যে ১৯৬৬ সালে প্রথম এবং ২০০৬ সালে সর্বশেষ। এরপর গেল পাঁচ আসরে কখনোই তারা শেষ ষোলোর গণ্ডি পেরুতে পারেনি।
এই সময়ে বিশ্বকাপে তাদের পারফরম্যান্সও খুব উল্লেখযোগ্য নয়। সবশেষ ১১ ম্যাচে তারা জিতেছে মাত্র ৩টিতে। এছাড়া বিশ্বকাপে নিজেদের সবশেষ তিন প্রথম ম্যাচের একটিতেও জয় পায়নি ফার্নান্দো সান্তোসের দল। তবে বিশ্বকাপ শুরুর আগে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে তারা ৪-০ গোলের বড় জয় পেয়েছে। সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই তারা কাতার বিশ্বকাপ জয়ের আশা করছে।
কবির আহমেদ/ইবিটাইমস