ভোলা প্রতিনিধিঃ ভোলায় বসেছে দুইদিন ব্যাপী ৪৪ তম জাতীয় বিজ্ঞান প্রযুক্তি সপ্তাহ ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের মেলা। এ ৭ম বিজ্ঞান অলিম্পয়াডে ঢল নেমেছে দর্শনার্থী ও ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের।
বুধবার (২৩ নভেম্বর) সকালে ভোলা সদর উপজেলা চত্বরে এ মেলার আয়োজন করা হয়। বৃহস্পতিবার পুরস্কার বিতরনের মধ্যদিয়ে এর সমাপ্তি ঘটবে।
স্কুল-কলেদের শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রচেষ্টায় মেধা খাটিয়ে উদ্ভাবন করেছেন বিজ্ঞান বিষয়ক বিষয় যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি। যা ব্যবহারেরর মাধ্যমে স্বল্প সময়ে মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন সম্ভব বলে মনে করছেন শিক্ষার্থী। পাশাপাশি বিজ্ঞান বিষয়ে শিক্ষার্থীরাও ধারনা পাবেন। হয়ে উঠবেন বিজ্ঞান মনস্ক।
আয়োজকরা বলছেন, এমন মেলার মাধ্যমে ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীরা তাদের মেধা খাটিয়ে আরও বেশি এগিয়ে যাবে এবং নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে আগ্রহ হবেন। যার মধ্যমে তাদের প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে পারবে শিক্ষার্থীরা।
কেউ তৈরী করেছেন লাইফবয়া, কেউ গ্রীন হাউজ, ওয়ার্টার এলাম বা পানি-বাতাস দুষনের সমাধান যন্ত্র। স্রোতের সাহায্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন যন্ত্র ও ফসলের ক্ষেত থেকে ক্ষতিকর পোকা-মাকড় দুর করার যন্ত্রও আবিস্কার করেছেন কেউ কেউ। প্রযুক্তি নির্ভর এসব যন্ত্র উদ্ভাবন করেছেন কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।
এ যেন ক্ষুদে বিজ্ঞানিদের মেলা বসছে। যা দেখতে ভীড় জমাচ্ছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ।
বিজ্ঞান প্রযুক্তির এসব উদ্ভাবন ব্যবহারের মাধ্যমে জীবনযাত্রাবরার মান আরও সহজ হবে বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা।
বাতাস ও পানি দুষন সমাধান যন্ত্র উদ্ভাবন করেছেন ভোলা পৌর বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তামান্না, হাবিবা, সাথী, তামান্না, সাথী বলেন, আমরা মনে করছি এ যন্ত্রের মাধ্যে দুষনমুক্ত করা যাবে পরিবেশের ভারসম্য রক্ষা হবে। আধুনিক কাকতাড়ুয়া উদ্ভাবন করেছেন।
ভোলা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী আরাফাত হোসেন জুয়েল বলেন, এ যন্ত্রের মাধ্যমে কৃষকরা ক্ষতিকর পোকামাকড় তাড়াতে পারবে। এতে ক্ষতির হাত থেকে হবে ফসল। আধুনিক নগরি উদ্ভাবন করা শিক্ষার্থী সাদিকা বলেন, প্রযুক্তি সম্পর্কে আমরা অনেকে কমবেশি জানি। তাই আমরা অনেকে মিলে প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বিভিন্ন যন্ত্র উদ্ভাবন করেছি।
মেলার প্রধান আর্কষন ছিলো টেলিস্কোপ। এটি তৈরী করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন নাজমুল আহসান জাহিদ। তিনি বলেন, এ যন্ত্রের মাধ্যমে মহাকাশ সম্পর্কে জানতে পারবে পাশাপাশি বিভিন্ন গ্রহ, নক্ষত্র দেখতে পারবে। মহাবিশ্বেরর রহস্য জানার আগ্রহ তৈরী হবে। আমি চাচ্ছি শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান মনস্ক হয়ে উঠুক এবং উদ্যোক্তা তৈরী হোক।
এদিকে মেলার প্রথম দিনেই বিপুল সংখ্যক মানুষের ঢল নেমেছে। মেলা দেখতে এসে অনেকেই প্রযুক্তির ব্যাবহার ও নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহ পেয়েছেন।
বিজ্ঞান মনস্ক একটি জাতি গঠনে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে মনে করছেন ভোলা সতর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, আগ্রহ থেকে ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীরা নতুন নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন করবে। দুইদিন ব্যাপী মেলায় ২৫ টি স্টল বসছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রনালয়ের পৃষ্টপোশকতায় ও জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের তত্ত্বাবধানে ভোলা উপজেলা প্রশাসন এ অলিম্পয়াডের আয়োজন করে। ভোলা সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোশারেফ হোসেন এ মেলার উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম।
এ সময় ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ ইউনুস, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল হামিদ, একাডেমিক সুপারভাইজার সিরাজুল ইসলাম শাওনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাগন উপস্থিত ছিলেন।
মনজুর রহমান/ইবিটাইমস