ভোলায় ভয়াল ১২ নভেম্বর স্মরণে সিপিপি সেচ্ছাসেবক সমাবেশ

ভোলা প্রতিনিধিঃ ‘শোক থেকে শক্তি’ এ প্রতিপাদ্য বিষয়ে সামনে রেখে ভোলায় সিপিপি সেচ্ছাসেবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৯৭০ সালের ভয়াল ১২ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় গোর্কির স্মরণে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

শনিবার (১২ নভেম্বর) দুপুরে ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ভোলা জেলা প্রশাসক তৌফিক-ই-লাহী চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন, দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান মন্ত্রালয়ের অতিরিক্ত সচিব শিখা সরকার।

বিশ্বব্যাংক এর অর্থায়নে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান মন্ত্রালয় এবং জেলা প্রশাসন আয়োজনে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে আমন্ত্রিত অতিথিরা ভয়াল ১২ নভেম্বরের স্মৃতিচারন করেন। স্মৃতিচারন শেষে সিপিপি সাংস্কৃতিক ইউনিট কর্তৃক পালাগান “শোক থেকে শক্তি” অনুষ্ঠিত হয়েছে।এর পরপরই সিপিপির পরিচালিত বহুমাত্রিক দূর্যোগ মহড়া ও প্রবীন সিপিপি সেচ্ছাসেবকদের সম্নাননা প্রদান করা হয়।
এসময় সিপিপি, রেডক্রিসেন্ট এর সেচ্ছাসেবকরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন,  ৭০ এর ভয়াল সেই ঘূর্ণিঝড়ের স্মৃতিচারণ করে বলেন, গভীর রাতে গোর্কির আঘাতে সেদিন উপকূলীয় এলাকা লন্ডভন্ড হয়ে যায়। ভোলাসহ উপকূলীয় এলাকা মৃত্যুপূরীতে পরিণত হয়।  লাখ লাখ মানুষ এই ঝড়ে মারা যায়। গরু-মহিষ ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

সেদিন প্রায় ১০/১৫ ফুট উপরে পানি উঠেছে উপকূলীয় এলাকায়। সেই ঘূর্ণিঝড়ে কোন কোন পরিবারের সবাই মারা গিয়েছে। মানুষের লাশ গাছে গাছে জুলে ছিলো। সরকার সিপিপি প্রতিষ্ঠা করে ঝড়ের সময় মানুষকে সচেতন করে যাচ্ছে। সিপিপির সেচ্ছাসেবকরা ঝড়ের সময় মানুষ নিরাপদ আশ্রয় নিয়ে আসে। যার ফলে মানুষের ক্ষয়ক্ষতির পরিমান কমে আসছে।

উল্লেখ্য, ভয়াল ১২ নভেম্বর ১৯৭০ সালের এদিনে প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড় গোর্কির আঘাতে দক্ষিণাঞ্চলের ৪ লাখেরও বেশি ঘর-বাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় ৩৬ লাখ মানুষ।

ভোলার মনপুরা, চর নিজাম, ঢালচর, কুকরি-মুকরিসহ পুরো এলাকা পরিণত হয়েছিলো মৃত্যুপুরীতে। শুধু ভোলাতেই মৃত্যু হয় প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ। ঘটনার ৫২ বছর পরও সেই দুঃসহ স্মৃতি ভুলতে পারছে না দক্ষিণ জনপদের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষরা।

মনজুর রহমান/ইবিটাইমস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »