জনগণ নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন চায় – মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘জনগণ রাতের ভোট আর মেনে নেবে না। তারা নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন চায়।’

বাংলাদেশ ডেস্কঃ গতকাল শনিবার (১২ নভেম্বর) বিকালে ফরিদপুরে শহর থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে কোমরপুর আব্দুর আজিজ ইনস্টিটিউশনে অনুষ্ঠিত বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বক্তব্যের শুরুতে বিএনপি মহাসচিব ফরিদপুর কৃতী সন্তানের নাম উল্লেখ করে বলেন, এই মাটির ইতিহাস আন্দোলন-সংগ্রামের। এ মাটিতে হাজী শরীয়ত উল্লাহ, শেখ মুজিবুর রহমান, কেএম ওবায়দুর রহমান ও চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফসহ অসংখ্য গুণী মানুষ জন্ম নিয়েছেন। তারা ব্রিটিশ ঔপনিবেশন বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে দেশের স্বাধীনতার লড়াই সংগ্রাম করেছেন। আজকেও ফরিদপুরের জনগণ স্বাধীনতা ও গণন্ত্রের লড়াইয়ে নেমেছেন।

নির্দলীয় সরকারের দাবি আদায়, জ্বালানি তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং চলমান আন্দোলনে পাঁচ কর্মী নিহত হওয়ার প্রতিবাদে বিভাগীয় গণসমাবেশ করছে বিএনপি। আওয়ামী লীগের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘এত ভয় কেন, যায়গায় যায়গায় পুলিশি তল্লাশি, নেতাকর্মীদের হয়রানি, পরিবহন ধর্মঘট, শহর থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে সভা দিলেন কেন? জনগণ এখন লড়াই করতে শিখে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘খাদ্যদ্রব্যের যেই দাম তাতে জনগণ মাঠে নেমে গেছে, জনগণ এখন খাদ্যের জন্য, চিকিৎসার জন্য, বস্ত্রের জন্য লড়াই করবে। আমরা শেখ হাসিনা এবং আওয়ামীলীগ সরকারের পদত্যাগ চাই।’ মির্জা ফখরুল ইসলাম আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশটাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার রাজনীতিকে ধ্বংস করে দিয়েছে, দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়েছে। আমাদের ভবিষ্যৎকে ধ্বংস করে দিয়েছে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা এই বাংলাদেশ চাইনি, আমরা চাইনি আমার ছেলেরা পড়াশোনা শেষ করে হকারি করবে, মোটরসাইকেল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করবে, ভালো চাকরির ব্যবস্থা তাদের হবে না।’ তিনি বলেন, ‘এ সরকারের সময়কালে ১০ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। দেশের ৪২ ভাগ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। বলা হয়েছিল ১০ টাকা সের চাল খাওয়াবে, ঘরে ঘরে চাকরি দেওয়া হবে, বিনামূল্যে সার দেবে- তার কিছুই হয়নি।’

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার যতদিন পুনর্বহাল না হবে, ততদিন নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, ‘২০১৪ ও ২০১৮ সালে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। গত দুইটি নির্বাচনে মানুষকে প্রবঞ্চনা করে, মিথ্যা কথা বলে, ভুল বুঝিয়ে নির্বাচন নির্বাচন খেলা করে ক্ষমতায় চলে গেছে; কিন্তু এবার আমরা ঘুরে দাঁড়িয়েছি, মানুষ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এবার নির্বাচনি খেলা খেলতে দেওয়া হবে না। রুখে দেব।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘মার খেতে খেতে আমাদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে। এখন আর পেছনে ফেরার সময় নেই, সামনে এগোতে হবে। জনগণ রুখে দাঁড়িয়েছে। আমাদের এক দফা, এক দাবি- শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ করতে হবে।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘সরকার এতটা ভীত হয়েছে, যে কারণে আকাশ, নৌ ও সড়ক পথে যুদ্ধ শুরু করে দিয়েছে। সরকারের এখন পালানো ছাড়া কোনও পথ নেই।’নতিনি বলেন, ‘সরকার সমতল যায়গায় নেই, যদি সমতলে থাকত তাহলে অর্থনৈতিক মন্দা ঘটত না। দুর্নীতি এতটাই বেড়ে গেছে, এখন চাল কেনার টাকা নাই, বিদ্যুৎ কেনার টাকা নাই, তেল কেনার টাকা নাই। শুধু নাই আর নাই।’

ফরিদপুর বিভাগীয় গণসমাবেশের প্রধান সমন্বয়কারী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা জহিরুল হক শাহজাদা মিয়া প্রমুখ।

কবির আহমেদ/ইবিটাইমস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »