ভোলার টবগী-১ কূপে ৩০ বছরের গ্যাস পাওয়া গেছে: বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

মোঃ নাসরুল্লাহ, ঢাকা: ভোলা জেলার শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্রের টবগী-১ কূপের খননকাজ সম্পন্ন হয়েছে। কূপে মজুত আছে প্রায় ২৩৯ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস (বিসিএফ)। যার আনুমানিক মূল্য ৮ হাজার ৫৯ কোটি টাকার বেশি। আর এলএনজি আমদানি মূল্য বিবেচনায় তা আরও বহুগুণ।

বৃহস্পতিবার (৩ নভেম্বর) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন এসব তথ্য জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

প্র্রতিমন্ত্রী বলেন, এই কূপ থেকে ৩২/৬৪ ইঞ্চি সাইজের চোক ব্যবহার করে দৈনিক গড়ে ২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাবে। সে হিসেবে ৩০-৩১ বছর গ্যাস উৎপাদন সম্ভব হবে।

https://youtu.be/Kvb7wF3LqN4

তিনি বলেন, কূপটি শাহবাজপুর গ্যাস ফিল্ড থেকে টবগী-১ কূপ এলাকা আনুমানিক ৩.১৭ কিলোমিটার দূরে। গত ১৯ আগস্ট এই কূপের খননকাজ শুরু হয়। ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কূপের ৩ হাজার ৫২৪ মিটার গভীর পর্যন্ত সফলভাবে খননকাজ শেষ হয়। মঙ্গলবার কূপে সম্ভাব্য গ্যাস মজুত ও উৎপাদন হার নিরূপণে কারিগরি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। ৭ নভেম্বর নাগাদ কূপটি দ্রুত উৎপাদনক্ষম করার লক্ষ্যে কাজ চলছে।

এসময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, সংকট যদি আরও বেড়ে যায় সে চিন্তা থেকেই সাশ্রয় পরিকল্পনা করা হয়েছে। আগামী বছর কী করে পরিস্থিতি সামাল দেবো—সে পরিকল্পনা এখন থেকে করা হচ্ছে জানিয়ে বলেন, খারাপকে খারাপভাবে ফেস করতে হবে। চেষ্টা করছি—এরচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি যাতে না হয়।

তিনি বলেন, আমরা এখনও ভালো আছি। আমরা কিছু সাশ্রয় করছি। আমরা বিদ্যুতে সাশ্রয় করছি, গ্যাসে সাশ্রয় করছি। সবারই কষ্ট হচ্ছে। এটা আমরা অস্বীকার করছি না। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সব দেশের অবস্থাই এক।

তিনি বলেন, শতভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহ করার পরও আমাদের পরিস্থিতি ভালো ছিল। কিন্তু জ্বালানি সংকটে আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছি না। স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আনতে অতিরিক্ত ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখন যদি এক জাহাজ গ্যাস আনা হয় তাহলে এক হাজার ৫০০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। কিন্তু ওই গ্যাস বিক্রি করে ৫৮ কোটি টাকা পাওয়া যাবে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, আমাদের বিকল্প জ্বালানির বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো উৎপাদনে আসতে শুরু করেছে। কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে আগামী গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। কিন্তু কয়লার দামও বেড়ে গেছে। আমরা চেষ্টা করছি এর চাইতে যেন খারাপ পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়।

তিনি জানান, আমাদের পরিকল্পনায় রয়েছে ৪৫টি কূপ খনন করা হবে। এতে ২০২৫ সালের মধ্যে আমাদের ৬০০ থেকে ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাবে। কিন্তু আমাদের পুরাতন ক্ষেত্রের উৎপাদন প্রতি বছর ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট করে কমছে। যদি ধরে নিই আগামী কয়েক বছরে ৪০০ থেকে ৫০০ মিলিয়ন গ্যাস কমে যাবে, তারপরও ২০ মিলিয়নের মতো গ্যাস থেকে যাবে। তবে আমরা আশাবাদী আরও দুটি স্ট্রাকচারে পিএসসির অধীনে কাজ চলছে। শেভরনকে নতুন করে ৬৫ বর্গ কিলোমিটার এলাকা দেওয়া হয়েছে। সেখানে তারা কাজ করছে। এছাড়া আরও কিছু এলাকায় গ্যাস পাওয়া যাবে।

তিনি বলেন, আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে ৭০০ থেকে ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে।  কিন্তু সেই তুলনায় আমাদের চাহিদা বেড়ে যাবে অনেক। যেভাবে আমাদের শিল্প-কারখানায় চাহিদা বাড়ছে, ইকোনমিক জোন আসতেছে সামনে, আমাদের চাহিদা হয়ে যাবে অনেক। এই অবস্থায় আমাদের চেষ্টা থাকবে—নিজেদের গ্যাস ব্যবহার করে চাহিদা পূরণ করার। আমরা যদি কস্ট ইফেকটিভ প্রাইস পাই তাহলে এলএনজি আমদানির মাধ্যমে বাকিটা করতে পারবো।

ঢাকা/ইবিটাইমস/আরএন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »