অস্ট্রিয়ায় বাংলাদেশী প্রবাসীদের ইমু আইডি হ্যাকের হিড়িক

গত প্রায় এক মাসে অস্ট্রিয়ায় ডজন খানেক প্রবাসী বাংলাদেশীর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইমু হ্যাক করে পরিচিতদের কাছে ২৫,০০০ টাকা চাওয়া হচ্ছে

ব্যুরো চীফ, অস্ট্রিয়াঃ বর্তমান আধুনিক যুগে বার্তা আদান-প্রদান এবং অডিও-ভিডিও কলে কথা বলার জন্য অনলাইনে বিভিন্ন মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন রয়েছে। জনপ্রিয় কিছু মেসেজিং অ্যাপ্লিকেশনগুলোর মধ্যে একদম প্রথম সারিতে অবস্থান করছে ইমু (Imo)।

ইমু সফটওয়্যারটি আমাদের দেশে ও বিদেশে প্রবাসীদের মাঝে একটু বেশিই জনপ্রিয়। কম-বেশি সবাই এই অ্যাপটি ব্যবহার করে থাকে। তবে অনেককেই বলতে শুনা যায় তাদের নাকি ইমু হ্যাক করা হয়েছে। তাদের দাবী কে বা কারা যেনো ইমু একাউন্ট হ্যাক করে কন্টাক্ট লিষ্টের মানুষদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার চেষ্টা করছে। তাই অনেকের মনেই প্রশ্ন ইমু হ্যাক হলে কি করব? ইমু কিভাবে হ্যাক করা হয় ?

গত এক মাসে অস্ট্রিয়া বাংলাদেশ কমিউনিটির ভিয়েনায় বসবাসকারী প্রায় ডজন খানেক প্রবাসীদের ইমু হ্যাক করা হয়েছে বলে জানাগেছে। বর্তমান সময়ে যে তিনজনের ইমু হ্যাক করে পরিচিতদের কাছে বাংলাদেশী ২৫,০০০ হাজার টাকা চাওয়া হচ্ছে তাদের মধ্যে অন্যতম মোহাম্মদ নুরুল আলম (ইকরাম), মোহাম্মদ নুরুল্লাহ এবং মোহাম্মদ মোস্তফা প্রমুখ। তারা তাদেরকে না জানিয়ে কাউকে ইমুতে বা অন্য কোন উপায়ে টাকা পাঠাতে বারণ করেছেন।

ইমু কি হ্যাক করা যায়?

আসুন হ্যাকিং কাকে বলে একটু জেনে নেওয়া যাক। হ্যাকিং হলো একটি প্রক্রিয়া যেখানে কেউ কোনো বৈধ অনুমতি ছাড়া অন্য কারো অ্যাকাউন্টে বা নেটওয়ার্কে বা কম্পিউটারে প্রবেশ করে। তবে আমাদের সাথে যা হয় তা হলো আমরা আমাদের ইমু অ্যাকাউন্টটি যে নাম্বার দিয়ে খুলি অন্য কেউ ঐ নাম্বারটি ব্যবহার করে পিন ভেরিফিকেসনের মাধ্যমে ঐ ইমু অ্যাকাউন্টটি তার মোবাইলে লগিন করে নেয়।

এটা সাধারণ একটি প্রক্রিয়া কোনো ইমু আইডি হ্যাক নয়। আর যে এই কাজটি করে সে কোনো ইমু হ্যাকার নয়, সে আসলে একজন প্রতারক। গুগল ও ইউটিউবেও বিভিন্ন টিউটোরিয়াল দেখতে পাবেন। যেগুলোর শিরোনাম কিছুটা এমন, “ইমু হ্যাক করার সফটওয়্যার, ইমু হ্যাক করার পদ্ধতি, ইমু আইডি হ্যাক করার নিয়ম” ইত্যাদি ইত্যাদি। তবে কখনো ইমু হ্যাক কোড নাম্বার ছাড়া সম্ভব না।

তাই ইমু হ্যাক থেকে বাঁচার উপায় হলো আমাদের নাম্বারটি যেনো অন্য কেউ কোনো ভাবেই ব্যবহার করতে না পারে তার জন্য আমাদেরকে সচেতন হওয়া। তাহলেই প্রতারকদের ইমু হ্যাক করার সিস্টেম বন্ধ হয়ে যাবে। তবে এটা সত্য যে এসব বিষয়ে সবার সমান জ্ঞান নেই। তাই অনেক প্রতারক এই প্রতারণার আশ্রয় নিতে বা অন্যের ইমু হ্যাক করতে পারে। আজকের পোস্টে আমরা আলোচনা করবো কারো ইমু অ্যাকাউন্ট অন্য কারো নিয়ন্ত্রণে চলে গেলে কিংবা Imo আইডি হ্যাক হলে কী করণীয়। যদি আপনার কিংবা আপনার পরিচিত কারো ইমো হেক হয়ে থাকে তাহলে এই পোস্টটি থেকে শিখে আপনি উক্ত অ্যাকাউন্টটি ফিরিয়ে আনতে তাদেরকে সাহায্য করতে পারবেন।

ইমু আইডি হ্যাক হলে করণীয়:

ধরুন, আপনার মোবাইল নাম্বারটি ব্যবহার করে পিন ভেরিফিকেসন এর মাধ্যমে কেউ আপনার ইমু অ্যাকাউন্টটি তার মোবাইলে লগিন করে নিয়েছে। আপনি কার সাথে কী মেসেজ করছেন সে তা তার মোবাইল থেকেই দেখতে পারছে। হয়তো আপনার হয়ে অন্য কাউকে মেসেজও করছে সে।

এখন কীভাবে এর সমাধান করবেন চলুন তা জেনে নিই। কাজটি খুবই সহজ এর জন্য যা করতে হবে তা হলো আপনার ফোনে লগিন করা উক্ত ইমু অ্যাকাউন্ট এর সেটিংস থেকে ঐ প্রতারকের মোবাইলে লগিন থাকা আপনার ইমু অ্যাকাউন্টটি রিমুভ করে দিতে হবে। চলুন এ বিষয়ে আরো বিস্তারিত ভাবে জেনে নিই।

যেভাবে বুঝবেন আপনার একাউন্টটি অন্য কারো মোবাইলে লগিন করা আছে কিনা:-

০১ঃ আপনার ইমুতে প্রবেশ করুন।

০২ঃ Explore থেকে More অপশনে যান।

০৩ঃ Settings এ যান।

০৪ঃ Imo Account Settings এ যান।

০৫ঃ Manage Devices এ যান।

০৬ঃ যদি অন্য কারো মোবাইলে আপনার ইমু একাউন্টটি লগিন করা না থাকে তাহলে ‘You Can Log Out Device Of The Phone In This List’ লেখার নিচে শুধু আপনার ডিভাইসটির নামই থাকবে।

আর যদি অন্য কেও ইমু হ্যাকিং করে লগিন করে থাকে তাহলে লেখাটির নিচে সেসকল ডিভাইসের নাম শো করবে। যদি অন্য কেও আপনার ইমু একাউন্টটি লগিন করে রাখে তা ডিলেট করবেন যেভাবে:

০১ঃ উক্ত লিষ্টে আপনার ডিভাইসটি বাদে যদি অন্য কোনো ডিবাইসের নাম দেখতে পান তাহলে তাতে ক্লিক করুন।

০২ঃ সেখানে ডিলেট অপশনটিতে ক্লিক করুন।

০৩ঃ এবার আপনার মোবাইল নাম্বারে মেসেজে একটি কোড আসবে। আর সেই কোডটি বসিয়ে দিলেই চিরতরের জন্য ওই মোবাইল থেকে আপনার একাউন্টটি রিমুভ হয়ে যাবে।

আর যদি এমন হয়ে থাকে যে, আপনার ইমু অ্যাকাউন্টটি যে নাম্বার ব্যবহার করে খুলেছিলেন সেই নাম্বারটি বর্তমানে আপনার কাছে নেই। তাহলে প্রথমে আপনাকে পুরতাম নাম্বার পরিবর্তন করে নতুন নাম্বার যোগ করে নিতে হবে। তারপর উপরে দেওয়া নির্দেশনাগুলো মেনে কাজ করতে হবে। অন্যথায় সম্ভব নয়।

ইউরো বাংলা টাইমসের পক্ষ থেকে আমরা অস্ট্রিয়া বাংলাদেশ কমিউনিটি সহ দেশে ও বিদেশে সকলকে ইমু সহ সকল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকতে সচেতন থাকার অনুরোধ করছেন। কেহ টাকা চাইলে সরাসরি কথা না বলে টাকা না পাঠানোর অনুরোধ করা হল।

কবির আহমেদ/ইবিটাইমস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »