ঢাকা প্রতিনিধি: পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক বলেছেন, হাওরের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস ও সমস্যা সমাধানের উপায় হচ্ছে ড্রেজিং। তিনি বলেন, ‘ড্রেজিং যদিও অনেক ব্যয় বহুল, কিন্তু হাওরের পানি-ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্যই সরকার ড্রেজিং করার পরিকল্পনা নিচ্ছে। কারণ অর্থনৈতিকভাবে আমরা সাবলম্বি হয়েছি।’
প্রতিমন্ত্রী বুধবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ- (আইইবি) সদর দফতরে টাস্ক ফোর্স অন ওয়াটার সেক্টরের উদ্যোগে ১ম পর্বে ‘হাওরে বন্যা ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহম্মদ তৌফিক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন।
জাহিদ ফারুক বলেন, হাওরের সমস্যা একমাত্র হাওরবাসীই ভালোভাবে অনুধাবন করতে পারে। হাওরের ফসলের ওপরই দেশের খাদ্যশস্যের মূল্য নির্ভর করে। তিনি বলেন, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনাসহ ৭টি জেলায় ৬৯টি উপজেলায় মোট ৩৭৩ টি হাওর এ অঞ্চলের দুর্যোগপুর্ণ এলাকা। পলি জমে এই হাওরাঞ্চলের নদী-খাল ও হাওরগুলোর নাব্যতা হ্রাস পাওয়ার ফলে বর্ষায় বা উজান থেকে নেমে আসা পানি ধারণ করে রাখতে পারে না। এতে পানি চলে আসে লোকালয়ে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, একসময় ছিল যখন হাওরবাসি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ হলে বলতো ‘বাঁধ চাইনা, ভাত চাই’ এখন প্রেক্ষাপট ভিন্ন, এখন হাওরবাসি বলে ‘ভাত চাইনা বাঁধ চাই’। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবসময় মেহনতি মানুষের দুর্দশা দুর করতে চেয়েছেন। এজন্য ১ হাজার ৫৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৫টি নদীর ৩২৮ কি. মি. খননের কাজ হাতে নেয়া হচ্ছে।
হাওরের সমস্যার পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সরকারের একার পক্ষে করা সম্ভব না। উন্নয়নের জন্য সকলের অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। দেশ বিনির্মাণে সরকারের পাশাপাশি জনগণেরও দায়িত্ব রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আইইবির সভাপতি প্রকৌশলী মো. হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক প্রকৌশলী ফজলুর রশিদ, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবীর।
ঢাকা/ইবিটাইমস/এমএইচ