মঠবাড়িয়ায় চাঞ্চল্যকর বিউটিশিয়ান হত্যায় গ্রেপ্তারকৃত শিক্ষিকাকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট; পিরোজপুর: পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার চাঞ্চল্যকর বিউটিশিয়ান শাম্মী আক্তাকে হত্যার অভিযোগ গ্রেপ্তারকৃত ও জেল হাজতে থাকা স্কুল শিক্ষিকা আয়শা খানমকে দুই দিন জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিয়েছেন বিজ্ঞ আদালত।

বুধবার (১৭ আগস্ট) মঠবাড়িয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. কামরুল আজাদ এ আদেশ দেন। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার মামলার পক্ষে-বিপক্ষে জেরা শুনে বুধবার শুনানীর দিন ধার্য্য করেন। মঠবাড়িয়া থানা পুলিশ গ্রেপ্তারকৃত আয়শা খানমকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে গত ৯ আগস্ট মঙ্গলবার দুপুরে তাকে আদলতে সোপর্দ করলে জের হাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।

উল্লেখ্য- গত সোমবার (৮আগস্ট) দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে শাম্মী আক্তারের (৪০) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ওই দিন রাতে শাম্মী
আক্তারের ছেলে সাইম আলম (১৭) বাদী হয়ে তার সৎ বাবা শেখ সিরাজুল সালেকিন (৩৩) ও মামী স্কুল শিক্ষিকা আয়শা খানম (৫০) বিরুদ্ধে মামলা করে। আয়শা খানম কেএম লতীফ ইনস্টিটিউশনের শিক্ষিকা।

নারী উদ্যোক্তা শাম্মী আক্তার কেএম লতীফ সুপার মার্কেটে দ্বিতীয় তলায় দশবছর ধরে ‘শাম্মী বিউটি পার্লার’ নামের একটি পার্লারের ব্যবসা করে আসছিল। প্রথম স্বামী ফিরাজ আলম এর সাথে প্রায় ১৩ বছর আগে বিচ্ছেদ হবার পর সেই সংসারের দুই সন্তান নিয়ে মঠবাািড়য়া পৌর শহরের থানা পাড়ায় এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। দুই বছর আগে বিয়ে হওয়া দ্বিতীয় স্বামী সালেকিন ঢাকায় ব্যবসা করেন। গত ৭ আগস্ট   শাম্মী আক্তার ও সালেকিন এর বিবাহ বার্ষিকী উপলক্ষে সালেকিন ওই দিনই সকালে মঠবাড়িয়ার ওই বাসায় আসে। বিবাহ বার্ষিকী উপলক্ষে নিকট আত্মীয় শিক্ষিকা আয়শা খানমও ওই বাসায় আসে। বিবাহ বার্ষিকীর অনুষ্ঠান শেষে শাম্মী আক্তার স্বামী সালেকিনকে নিয়ে ঘরের পিছনের বারান্দায় ঘুমিয়ে পরে। শাম্মী আক্তারের ভাবী আয়শা খানম মাঝ ঘরের খাটে ঘুমায়। গভীর রাতে শাম্মী আক্তারের ঘুম ভেঙে গেলে ঘরের মাঝের খাটে স্বামী সালেকিন ও ভাবী আয়শা খানমকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ঝগড়ায় জড়িয়ে পরে। ঝগড়ার একপর্যায় স্বামী সালেকিন আয়শা খানমের সহযোগিতায় মুখে বালিশ চাঁপা দিয়ে স্বাসরোধে হত্যা করে।

মঠবাড়িয়া থানার ওসি মুহা. নূরুল ইসলাম বাদল বলেন, ইতিপূর্বে মামলার প্রধান আসামী নিহত শাম্মী আক্তারের স্বামী বাবা শেখ সিরাজুস সালেকিন
আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্ধি দিয়েছে। বিজ্ঞ আদারতের আদেশ অনুযায়ী মামলার অপর আসামী আয়শা খানমকে দুই দিন জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

এদিকে গত ১১ আগস্ট বৃহস্পতিবার বিকেলে পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া) আসনের সাংসদ স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি ডা: রুস্তম আলী ফরাজীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জরুরী সভায় শিক্ষিকা আযশা খানম রোজিকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেন।

এ হত্যার ঘটনায় ঘাতক স্কুল শিক্ষিকা আয়শা খানম ও নিহতের বার্তমান স্বামী সিরাজুল সালেকিনের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেছে নিহত
শাম্মীর আক্তরের ছেলে স্কুলছাত্র সায়েম আলমের সহপাঠিরা।

অপরদিকে হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জেন্নাত আলীকে গত ৯ আগস্ট রাতেই রহস্যজনক কারনে প্রত্যাহার করে পিরোজপুর পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাঈদুর রহমান জেন্নাত আলীর প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে কী কারণে তাঁকে প্রত্যাহার করা হয়েছে, তা তিনি বলেননি।

এইচ এম লাহেল মাহমুদ/ইবিটাইমস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »