হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রীর ভিয়েনা সফরে প্রধানত অভিবাসন সমস্যা এবং চলমান জ্বালানি সংকট নিয়ে অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলরের সাথে আলাপ হয়েছে
ইউরোপ ডেস্কঃ অস্ট্রিয়ান সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে বৃহস্পতিবার (২৭ জুলাই) ঠিক দুপুরের কিছু পূর্বে হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানকে বহনকারী গাড়িটি অস্ট্রিয়ার সরকার প্রধান চ্যান্সেলরের অফিস বলহাউসপ্ল্যাটজে এসে পৌঁছালে অস্ট্রিয়ার সরকার প্রধান চ্যান্সেলর কার্ল নেহামার তাকে অভ্যর্থনা জানান। অস্ট্রিয়ান সেনাবাহিনীর একটি চৌকষ দল গার্ড অফ অনার প্রদান করেন এবং অরবান ও নেহামার গার্ড পরিদর্শন করেন। হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রীর সাথে সফর সঙ্গী হিসাবে আরও এসেছেন স্টেট সেক্রেটারি গারগেলি গুলিয়াস এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী পিটার সিজার্তো।
অস্ট্রিয়ার সরকার প্রধান চ্যান্সেলর কার্ল নেহামারের সাথে হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের বৈঠকে সম্প্রতি অরবানের বিতর্কিত বক্তব্য “জাতিগত মিশ্রণ” এবং গ্যাস চেম্বার সম্পর্কে কোন আলোচনা হয় নি। অনেকেই ভেবেছিলেন দুই সরকার প্রধানদের মধ্যে প্রথম দ্বিপাক্ষিক বৈঠকটি কয়েকদিন আগে অরবানের স্পষ্টভাবে তার বর্ণবাদী মুখপাত্রের বক্তব্যের পর প্রশ্নের মুখে পড়েছিল। ভিক্টর অরবান এই কারনে তার দীর্ঘদিনের উপদেষ্টাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছিলেন।
দুই সরকার প্রধানের বৈঠকের পর অস্ট্রিয়ার সরকার প্রধান চ্যান্সেলরের কার্যালয়ে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলর কার্ল নেহামার বলেন,
অরবানের স্বাদহীন বিবৃতিগুলি অস্ট্রিয়ায় কোনও প্রশংসা পায়নি। তা সত্ত্বেও, দুই রাজনীতিবিদ দেশগুলির মধ্যে বিশেষভাবে ভাল সম্পর্কের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
নিজের অতীতের কারণে, এই দেশে মানুষের একটি ঐতিহাসিক দায়িত্ব রয়েছে এবং তাই বর্ণবাদ ও ইহুদি বিদ্বেষের জন্য কোন বোঝাপড়া নেই, তিনি জোর দিয়েছিলেন। নেহামার আরও স্পষ্টভাবে অরবানকে এটি জানিয়েছেন যে, – “ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের” মধ্যে “সততা হল সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।”
হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী নিজেও এই সমালোচনা গ্রহণ করেননি। তিনি অগত্যা একজন বর্ণবাদী নন এবং যেকোন ধরনের অভিবাসনকে প্রত্যাখ্যান করার ন্যায্যতা প্রমাণ করেন “জৈবিক নয় কিন্তু সাংস্কৃতিক বিষয়ে”। ইহুদি বিরোধীতার জন্য অন্তত শূন্য সহনশীলতা।
সংবাদ সম্মেলনে বিতর্কিত বিবৃতির কথা ছাড়াও প্রধানত শক্তি এবং অভিবাসন নীতির উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করা হয়েছিল। এই বিষয়ে, নেহামার প্রধানত গ্যাসের যৌথ ক্রয়ের ক্ষেত্রে ইউরোপীয় কমিশনের ধীরতার সমালোচনা করেছিলেন। “একটি সাধারণ শক্তি প্ল্যাটফর্ম আগের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হবে,” নেহামার বলেছিলেন, তাই ইইউ দেশগুলি একে অপরের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে না।
এটি করার সময়, তিনি পতন না হওয়া পর্যন্ত ইইউ দ্বারা নির্দিষ্ট করা শতকরা ৮০ শতাংশ স্টোরেজ ক্ষমতার সম্ভাব্যতা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন, যা “যদি এটি হয় তবে কাজ করবে না,” তিনি কমিশনের সভাপতি উরসুলা ভন ডার লেয়েনকে বলেছিলেন।
হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান তার অংশের জন্য, ইউক্রেনের যুদ্ধ শেষ করার উপায় হিসাবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার কৌশলকে মৌলিকভাবে সমালোচনা করেছিলেন এবং ভবিষ্যতের যুদ্ধ অর্থনীতি এবং মন্দা সম্পর্কেও সতর্ক করেছিলেন।
প্রাকৃতিক গ্যাসের বাধ্যতামূলক রেশনিং “যুদ্ধ অর্থনীতির প্রথম লক্ষণ,” নেহামারের সাথে সাক্ষাতের পরে অরবান সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন। যদি যুদ্ধ শীঘ্রই শেষ না হয় তবে এটি ইউরোপে মন্দা এবং ব্যাপক বেকারত্বের দিকে নিয়ে যাবে, তিনি সতর্ক করেছিলেন।
রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইইউর “নিষেধাজ্ঞাগুলি আর তাদের ক্ষতি করবে না যারা তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়” বলে জানিয়েছেন চ্যান্সেলর কার্ল নেহামার। নেহামার নীতিগতভাবে নিষেধাজ্ঞার মূল্যায়নে সম্মত হন, তবে বলেছিলেন “সময়টি খুব তাড়াতাড়ি ছিল”। রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা শীঘ্রই বা পরে কার্যকর হবে, তিনি আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেছিলেন।
একই সময়ে, যাইহোক, নীতিটি প্রযোজ্য: “নিষেধাজ্ঞাগুলি তাদের প্রভাবিত করবে যাদের বিরুদ্ধে তারা বেশি নির্দেশিত হবে, কিন্তু যারা তাদের উপর সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাদের ক্ষতি করবে না।” পারমাণবিক আউস শুধুমাত্র অস্ট্রিয়াতে হাঙ্গেরিয়ান পাওয়ার প্ল্যান্টের সাথে তার অংশের জন্য, হাঙ্গেরির সরকার প্রধান ইইউ গ্যাস জরুরী পরিকল্পনার বিষয়ে জোর দিয়েছিলেন যে তার দেশ “আমাদের অধিকার কেড়ে নিলে খুশি হবে না”, কারণ শক্তি শিল্প এখন পর্যন্ত ইইউ সদস্য রাষ্ট্রগুলির দায়িত্ব ছিল। অরবানও পারমাণবিক শক্তি সম্পর্কে কথা বলতে ইচ্ছুক ছিলেন না – তিনি স্বীকার করেন যে অস্ট্রিয়ার এই বিষয়ে ভিন্ন মতামত রয়েছে, তবে হাঙ্গেরিকে যদি অস্ট্রিয়াতে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের অনুমতি না দেওয়া হয় তবে সেখানে পারমাণবিক পর্যায়-আউট হবে না, তিনি পাস করার সময় বলেছিলেন।
এখানে উল্লেখ্য যে,হাঙ্গেরি অস্ট্রিয়ার পূর্ব সীমান্তবর্তী মধ্য ইউরোপের একটি ইইউ সদস্য দেশ। ১৮৬৭ সাল থেকে ১৯১৮ সাল পর্যন্ত “অস্ট্রো-হাঙ্গেরীয় সম্রাজ্য” নামে মধ্য ইউরোপে একটি সম্মিলিত রাজত্বের অস্তিত্ব ছিল। ভিয়েনা ছিল সেই রাজত্বের প্রাণকেন্দ্র।
হাঙ্গেরীয় প্রজাতন্ত্র মধ্য ইউরোপের একটি স্থলবেষ্টিত প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র। হাঙ্গেরির অধিকাংশ এলাকা দানিউব (Donau) উপত্যকা তথা হাঙ্গেরীয় সমভূমিতে অবস্থিত। এই সমতলভূমির ভেতর দিয়ে দানিউব নদী প্রবাহিত হয়েছে। হাঙ্গেরির রাজধানী ও বৃহত্তম শহর বুদাপেস্ট দানিউব নদীর উভয় তীরে অবস্থিত। শহরটি পূর্ব মধ্য ইউরোপের সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র। হাঙ্গেরির বর্তমান সীমানা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ত্রিয়াননের চুক্তিতে ১৯২০ সালে নির্ধারিত হয়।
অস্ট্রিয়া ও হাঙ্গেরি যৌথভাবে মধ্য ইউরোপে একটি রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিল। অস্ট্রো-হাঙ্গেরীয় সম্রাজ্য (অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি নামেও পরিচিত) বলতে একটি দ্বৈত রাজত্ব বা দ্বৈত রাষ্ট্রকে বোঝায়। ১৮৬৭ থেকে ১৯১৮ সাথ তথা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি পর্যন্ত মধ্য ইউরোপে একটি সম্মিলিত রাজত্ব হিসেবে এই দ্বৈত রাষ্ট্রের অস্তিত্ব ছিল। ১৮০৪ থেকে ১৮৬৭ পর্যন্ত কেবল অস্ট্রীয় সম্রাজ্য নামে একটি রাজত্ব ছিল। ১৮৬৭ সালে সেখানকার ক্ষমতাসীন হাবসবুর্গ রাজবংশ এবং হাঙ্গেরীয় নেতৃত্বের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়। এই সমঝোতার ফলেই “অস্ট্রো-হাঙ্গেরীয় সম্রাজ্যের” আবির্ভাব ঘটেছিল।
হাঙ্গেরির রাজধানীর নাম বুদাপেস্ট। এটি দেশের বৃহত্তম নগরী বা বসতি। হাঙ্গেরির সরকারি ভাষা হাঙ্গেরীয় ভাষা। দেশটির সরকার সংসদীয় গণতান্ত্রিক
সরকার হিসাবে প্রতিষ্ঠিত আছে। হাঙ্গেরির বর্তমান রাষ্ট্রপতির নাম জানিস আদের এবং সরকার প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন ভিক্টর অরবান।
হাঙ্গেরির আয়তন ৯৩,০৩০ বর্গ কিলোমিটার। হাঙ্গেরির জনসংখ্যা আনুমানিক এক কোটির সামান্য বেশী। দেশটির বার্ষিক জিডিপি (পিপিপি) আনুমানিক
২,০৮.১৫৭ বিলিয়ন ডলার এবং বার্ষিক মাথাপিছু আয় ২০,৭০০ ডলার। হাঙ্গেরি ২০০৪ সাল থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ)সদস্য দেশ।
হাঙ্গেরির জনগণ নিজেদেরকে “মজর” (Magyar) নামে ডাকে। মজরেরা ছিল এশিয়া থেকে আগত যাযাবর গোষ্ঠী। ৯ম শতাব্দীর শেষভাগে আরপাদের নেতৃত্বে মজরেরা দানিউব ও তিসজা নদীর মধ্যবর্তী সমভূমি জয় করে, যা বর্তমান হাঙ্গেরীয় সমভূমির মধ্যভাগ। ১১শ শতকের শুরুর দিকেই মজরেরা রাজনৈতিকভাবে সংঘবদ্ধ হয় এবং খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তরিত হয়। হাঙ্গেরির প্রথম রাজা ছিলেন প্রথম স্টিফেন (১০০০ খ্রিষ্টাব্দ)। ১০৮৩ সালে তাকে সাধু ঘোষণা করা হয়।
১৪শ শতকে বিদেশী শাসকেরা হাঙ্গেরি জয় করে। ১৪শ ও ১৫শ শতক ধরে বিভিন্ন ইউরোপীয় রাজবংশ হাঙ্গেরি শাসন করে। এরপর ১৬শ ও ১৭শ শতকে দেশটির অধিকাংশ ছিল উসমানীয় সাম্রাজ্যের দখলে। এসময় দেশটির পশ্চিমের কিয়দংশ অস্ট্রিয়ার হাব্সবুর্গ রাজবংশ নিয়ন্ত্রণ করত। ১৭শ শতকের শেষভাগে এসে হাব্সবুর্গেরা প্রায় সমস্ত হাঙ্গেরি দখলে নিতে সক্ষম হয়। হাঙ্গেরীয়রা ১৮৪৮ সালে হাব্সবুর্গদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে, কিন্তু তা দমন করা হয়।
১৮৬৭ সালে দুই পক্ষ সন্ধিচুক্তির মাধ্যমে একটি দ্বৈত সাম্রাজ্য গঠন করে, যার নাম দেয়া হয় অস্ট্রো-হাঙ্গেরীয় সাম্রাজ্য। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের (১৯১৪-১৯১৮) পর অস্ট্রো-হাঙ্গেরীয় সাম্রাজ্য বিলীন হয়ে যায় এবং হাঙ্গেরি পূর্ণ স্বাধীনতা লাভ করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর হাঙ্গেরিতে সাম্যবাদী সরকার ক্ষমতা দখল করে এবং দেশটি সোভিয়েত-অনুগত দেশগুলির কাতারে যোগ দেয়। ১৯৯০ সালের নির্বাচনের পর একটি অ-সাম্যবাদী সরকার ক্ষমতায় আসে।
রোমান ক্যাথলিক ধারার খ্রিস্টধর্ম হাঙ্গেরির প্রধান ধর্ম, তবে এখানে বেশ বড় একটি প্রোটেস্ট্যান্ট ধারার সংখ্যালঘু খ্রিস্টান সম্প্রদায় রয়েছে। সাম্যবাদী শাসনের সময় সরকার সমস্ত ধর্মালয় বন্ধ করে দেয় এবং ধর্মালয়গুলির সম্পত্তি কেড়ে নেয়। বর্তমানে প্রায় অর্ধেক লোক রোমান ক্যাথলিক এবং এক-পঞ্চমাংশ প্রোটেস্ট্যান্ট ধর্মাবলম্বী। প্রোটেস্ট্যান্টদের মধ্যে বেশির ভাগই হাঙ্গেরীয় ক্যালভিনবাদী বা হাঙ্গেরীয় লুথারবাদী। ইউনিটারি ও অর্থডক্স গির্জাও রয়েছে এখানে।
হাঙ্গেরিতে প্রায় ১ লক্ষ বেশি ইহুদী বাস করে; এরা বেশির ভাগই রাজধানী বুদাপেস্ট ও তার আশেপাশে বাস করে। বুদাপেস্ট শহরে ইউরোপের বৃহত্তম ইহুদী মন্দির বা সিনাগগ অবস্থিত। ইহুদীরা ১১শ শতক থেকে এখানে বাস করছে। বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে হাঙ্গেরিতে ৮ লক্ষেরও বেশি ইহুদী বাস করত। হিটলারের সময় এবং পরবর্তীতে সাম্যবাদী শাসনের সময়ও ইহুদী বিদ্বেষী নীতির কারণে অনেকেই হাঙ্গেরি ছেড়ে চলে যায়।
ভৌগোলিকভাবে হাঙ্গেরি কিছুটা ডিম্বাকৃতির। দেশটি পূর্ব-পশ্চিমে সর্বাধিক প্রায় ৫০০ কিলোমিটার এবং উত্তর দক্ষিণে সর্বাধিক প্রায় ৩১৫ কিলোমিটার বিস্তৃত। হাঙ্গেরির উত্তরে স্লোভাকিয়া, উত্তর-পূর্বে ইউক্রেন, পূর্বে রোমানিয়া, দক্ষিণে সার্বিয়া, মন্টেনিগ্রো, ক্রোয়েশিয়া ও স্লোভেনিয়া, এবং পশ্চিমে অস্ট্রিয়া অবস্থিত।
হাঙ্গেরি প্রায় পুরোটাই সমতল ভূমি। দানিউব নদী উত্তর-পশ্চিমে হাঙ্গেরি-স্লোভাকিয়া সীমান্তের কিয়দংশ গঠন করেছে। সেখান থেকে নদীটি দক্ষিণে রাজধানী বুদাপেস্টের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে হাঙ্গেরিকে দুইটি সাধারণ অঞ্চলে ভাগ করেছে। দানিউবের পূর্ব পাড়ে অবস্থিত অঞ্চলটি একটি নিম্ন, ঢেউ খেলানো সমভূমি যা বৃহৎ হাঙ্গেরীয় সমভূমি বা বৃহৎ Alföld নামে পরিচিত। এই সমভূমিটি পূর্বে রোমানিয়াতে এবং দক্ষিণে সার্বিয়া ও মন্টেনিগ্রোতে বিস্তৃত।
উত্তর-পশ্চিম হাঙ্গেরিতে অবস্থিত অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্রাকার সমভূমিটির নাম ক্ষুদ্র Alföld এবং এটি স্লোভাকিয়া পর্যন্ত চলে গেছে। বৃহৎ Alföld সমভূমিটি হাঙ্গেরির তিন-চতুর্থাংশ এলাকা গঠন করেছে। এটি পুরোপুরি সমতল নয়। পশ্চিম দিকে এটি বেশ পাহাড়ি আকার ধারণ করেছে। এটি হাঙ্গেরির প্রধান কৃষিভূমি। এখানে ভুট্টা, গম, সূর্যমুখী, মিষ্টি বিট, লাল মরিচ ও অন্যান্য খাদ্যশস্য উৎপাদন করা হয় এবং এখানকার তৃণভূমিতে ভেড়া চরানো হয়। চারণভূমিগুলি puszta নামে পরিচিত।
হাঙ্গেরীয় লোকগীতি, নৃত্য ও সাহিত্যে এই puszta গুলিতে উনিশ শতকের রাখাল ও তাদের গবাদি পশুর পাল নিয়ে অনেক বর্ণনা আছে। ক্ষুদ্র সমভূমিটিও উর্বর এবং এখানে ব্যাপক চাষাবাদ হয়। সমভূমিগুলিকে পশ্চিম, উত্তর ও পূর্বে দিকে পর্বতের সারি ঘিরে রেখেছে। উত্তর সীমান্তের উচ্চভূমিগুলি Esztergom-এ দানিউব নদীর গিরিখাত থেকে পূর্বে বিস্তৃত হয়েছে এবং মাত্রা পর্বতমালা গঠন করেছে, যা কার্পেথীয় পর্বতমালার একটি অংশ। দানিউবের পশ্চিমের অঞ্চলটি আন্তঃদানিউবিয়া নামে পরিচিত। এখানে উত্তর-পশ্চিমের ক্ষুদ্র সমভূমি ছাড়াও আরও বিভিন্ন ধরনের ভূমিরূপ দেখতে পাওয়া যায়। দক্ষিণে রয়েছে Mecsek পর্বতমালা, উত্তরে অরণ্যাবৃত বাকোনি পর্বতমালা, যার কাছেই রয়েছে বালাতন হ্রদ।
কবির আহমেদ/ইবিটাইমস