চীনকে ঠেকাতে তহবিল গঠনের ঘোষণা জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে। ৬০ হাজার কোটি ডলারের তহবিল তৈরি করা হবে
ইউরোপ ডেস্কঃ গতকাল রবিবার (২৬ জুন) জার্মানির ব্যাভেরিয়া (Bayern) রাজ্যের এলমাউতে বিশ্বের শিল্পোন্নত দেশ সমূহের গ্রুপ জি-৭ এর বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলন শুরু হয়েছে। এই সম্মেলন ২৬ থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
ভয়েস অফ আমেরিকার সংবাদে বলা হয়েছে,গ্রুপ অফ সেভেন এর সদস্য দেশগুলোর নেতারা রবিবার জার্মানির ব্যাভেরিয়ান অ্যাল্পস এ মিলিত হন।
ইউক্রেনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের আক্রমণের বিরুদ্ধে নিজেদের একতা প্রকাশ করার পাশাপাশি বৈশ্বিক খাদ্য ও জ্বালানী মূল্যের উপর
যুদ্ধের প্রভাব সীমিত করার বিষয়ে আলোচনা করেন তারা।
আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পূর্বে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং জার্মানির চ্যান্সেলর ওলাফ শোলজ সাক্ষাৎ করেন। এই দুই দেশ ছাড়াও আনুষ্ঠানিক বৈঠকটিতে ব্রিটেন, ফ্রান্স, কানাডা, ইতালী, জাপান এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা যোগ দেন। স্বাগতিক জার্মানির চ্যান্সেলর ওলাফ শোলজ বলেন, “ইউক্রেনের নিরাপত্তা বিষয়ে জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্র সবসময়ই একসাথে কাজ করবে এবং আমরা আবারও সেটা পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছি।”
সম্মেলনের প্রাক্কালে নিজেদের শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টায়, রাশিয়া রবিবার ইউক্রেনের বৃহত্তম দুটি শহর, রাজধানী কিয়েভ ও খারকিভে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। অপরদিকে, জি-সেভেন এর নেতারা মস্কোকে বিচ্ছিন্ন করতে নতুন নতুন পন্থা নিয়ে আলোচনা করেন।
পরবর্তীতে, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন সিএনএন এর “স্টেট অফ দ্য ইউনিয়ন” অনুষ্ঠানে বলেন যে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর ক্লান্ত হওয়া চলবে না এবং তাদের “স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য এগিয়ে আসতে হবে”।
এদিকে, বাইডেন ঘোষণা দেন যে, জি-সেভেন দেশগুলো রাশিয়া থেকে নতুন করে স্বর্ণ আমদানি নিষিদ্ধ করবে। ইউক্রেনে পুতিনের আক্রমণের
কারণে রাশিয়ার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলোর মধ্যে এটিই সর্বসাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞা । আক্রমণটি পাঁচ মাস
ধরে চলছে।
মধ্যাহ্নভোজ ও এক সম্মিলিত ফটোসেশনের জন্য জি-সেভেন নেতারা সমবেত হলে, জনসন ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো রসিকতা করে বলেন যে, কিভাবে তারা পুতিনের থেকে বেশি শক্ত-সমর্থ হিসেবে নিজেদের তুলে ধরতে পারেন। ২০১৪ সালে ইউক্রেনের ক্রাইমিয়া উপদ্বীপ দখল করে নেওয়ার পর পুতিনকে এই জোটটি থেকে বাদ দেওয়া হয়। তার আগে পর্যন্ত দলটি জি-এইট হিসেবে পরিচিত ছিল।
এদিকে জার্মানির সংবাদ সংস্থা ডয়েচে ভেলে (DW) জানান, চীনকে ঠেকাতে তহবিল গঠনের ঘোষণা জি৭-এ । ৬০ হাজার কোটি ডলারের তহবিল তৈরি
করা হবে সম্মেলনে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।এই অর্থ দিয়ে কম আয়ের দেশগুলিতে এমন পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে, যা যে কোনো আবহাওয়া সহ্য করে টিকে থাকতে পারবে।
গ্রুপ অফ সেভেন (জি৭) দেশের শীর্ষ নেতারা ৬০ হাজার কোটি ডলারের পরিকাঠামো তহবিলই ছিল সেখানে প্রথম ঘোষণা। চীন ইতিমধ্যে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) নিয়েছে। তারই মোকাবিলায় জি৭ এই প্রকল্প হাতে নিল।
অন্যদিকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে জি-৭ কে টপকাতে জি-৮ আনছে রাশিয়া। ১৯৭৫ সালে শিল্পোন্নত ৬টি দেশ- ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান, ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে গঠিত হয় জি-৬। কানাডা ১৯৭৬ সালে যোগ দেয়ায় এর নাম হয় জি-৭। রাশিয়া ১৯৯৭ সালে যোগ দিলে হয় জি-৮।
রাশিয়া ২০১৪ সালে ইউক্রেনের ক্রিমিয়া দখলে নিলে, জোট থেকে বাদ পরে। ফলে আবার এটি জি-৭ হয়। গত শনিবার এক টেলিগ্রাম বার্তায়, রাশিয়ার স্টেট ডুমার (সংসদের নিম্নকক্ষ) স্পিকার ভ্যাচেস্লাভ ভলোদিন বলেছেন যুক্তরাষ্ট ও তার মিত্রদের নিষেধাজ্ঞার ফলে শিগগিরই প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে জি-৮ ।
নতুন এ অর্থনৈতিক জোটে থাকছে- চীন, রাশিয়া, ভারত, ব্রাজিল, মেক্সিকো, তুরষ্ক, ইরান এবং ইন্দোনেশিয়া। তবে দেশগুলোর সাথে রাশিয়ার কথা হয়েছে কিনা সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাননি। প্রতিবাদ বিবৃতি আসেনি দেশগুলো থেকেও।
কবির আহমেদ/ইবিটাইমস