অস্ট্রিয়া করোনার সংক্রমণ বিস্তারের ঝুঁকি থেকে বর্তমানে অনেকটাই সরে এসেছে। এই সপ্তাহ থেকে আর কোন রাজ্য কমলা ও লাল জোনে নাই
ইউরোপ ডেস্কঃ অস্ট্রিয়ার করোনার ট্র্যাফিক লাইট কমিশন আজ বৃহস্পতিবার তাদের নিয়মিত সাপ্তাহিক পর্যালোচনা বৈঠকের পর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছেন অস্ট্রিয়ায় র্তমানে করোনার সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমে এসেছে।
অস্ট্রিয়ান সংবাদ সংস্থা এপিএ করোনার ট্র্যাফিক লাইট কমিশনের প্রেস বিজ্ঞপ্তির সূত্র থেকে জানিয়েছে, কমিশন এই সপ্তাহে অস্ট্রিয়ার সমগ্র রাজ্যকে করোনার ট্র্যাফিক লাইটে হলুদ-সবুজ ঘোষণা করেছে। যার অর্থ বর্তমানে অস্ট্রিয়ার নয়টি ফেডারেল রাজ্যেই প্রতি এক লাখ জনপদে করোনা সংক্রামিত আছেন ২৫ জনের নীচে।
করোনার ট্র্যাফিক লাইট কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এখন অস্ট্রিয়ার কোন রাজ্যই আর করোনার সংক্রমণের বিস্তারের অতি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ লাল ও কমলা
জোনে নেই। আজ থেকে রাজধানী ভিয়েনা,আপার অস্ট্রিয়া,সালজবুর্গ, ক্যারিন্থিয়া(Kärnten), টিরল এবং বুর্গেনল্যান্ড রাজ্য করোনার ট্র্যাফিক লাইটে সবুজ-হলুদ এর সংমিশ্রণে থাকবে বল জানিয়েছে করোনার ট্র্যাফিক লাইট কমিশন।
কমিশন ইতিপূর্বে গত সপ্তাহেই অস্ট্রিয়ার Steiermark, Vorarlberg ও NÖ রাজ্যকে করোনার ট্র্যাফিক লাইট সিস্টেমে হলুদ-সবুজ জোন ঘোষণা করেছিল। এই তিন রাজ্য বাকী রাজ্যের সাথে এই সপ্তাহে একই হলুদ-সবুজ জোনে থাকবে। আশা করা হচ্ছে এই তিন রাজ্য আগামী সপ্তাহে করোনার ট্র্যাফিক লাইটে সবুজ জোনে স্থানান্তরিত হতে পারে।
এদিকে আজ অস্ট্রিয়ায় নতুন করে করোনায় সংক্রামিত শনাক্ত হয়েছেন ৩,০৩৫ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ১ জন। রাজধানী ভিয়েনায় আজ নতুন করে করোনায় সংক্রামিত শনাক্ত হয়েছেন ১,১০৪ জন।
অন্যান্য ফেডারেল রাজ্যের মধ্যে NÖ রাজ্যে ৬২০ জন, OÖ রাজ্যে ৩৪৯ জন,Steiermark রাজ্যে ২৩৩ জন,Salzburg রাজ্যে ১৯২ জন,Tirol রাজ্যে ১৮৬ জন,Vorarlberg রাজ্যে ১৫৭ জন,Kärnten রাজ্যে ১০৯ জন এবং Burgenland রাজ্যে ৮৫ জন নতুন করে করৌনায় সংক্রামিত শনাক্ত হয়েছেন।
অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী আজ সমগ্র অস্ট্রিয়ায় করোনার প্রতিষেধক টিকার প্রথম ডোজ গ্রহণ করেছেন ১২৪ জন এবং করোনার প্রতিষেধক টিকার বুস্টার ডোজ গ্রহণ করেছেন ২,৮৮৭ জন। বর্তমানে অস্ট্রিয়ায় করোনার প্রতিষেধক টিকার বৈধ সনদের অধিকারী ৬৮,৩৩,৯৯৯ জন,যা দেশের মোট জনসংখ্যার শতকরা ৬৫ শতাংশ।
অস্ট্রিয়ায় এই পর্যন্ত করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৫২,৫৮,৯০৬ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন মোট ১৮,৬৫৯ জন। করোনার থেকে এই পর্যন্ত আরোগ্য লাভ করেছেন মোট ৪২,০৪,৫১৫ জন। বর্তমানে করোনার সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ৩৫,৭৩২ জন। এর মধ্যে আইসিইউতে আছেন ৪৮ জন এবং একই সময়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ৪৬৪ জন। বাকীরা নিজ নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন।
কবির আহমেদ/ইবিটাইমস