ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ

শেষ পর্ব 

 ড. মোঃ ফজলুর রহমানঃ ১০৬। বাঙালি জাতির সার্বিক মুক্তির লক্ষ্যে দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক এবং নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন ও সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় অবধারিতভাবেই এসেছে ৭ই মার্চ। এইদিন বঙ্গবন্ধুর গগনবিদারী বজ্রকণ্ঠের ভাষণের মাধ্যমে বাঙালি জাতি উদ্বুদ্ধ এবং উজ্জীবিত হয়েছে স্বাধীনতার মন্ত্রে। এরই ধারাবাহিকতায় ৩০ লক্ষ শহীদ এবং অগণিত বীরের রক্তস্রোতে অর্জিত হয়েছে আমাদের মুক্তি এবং স্বাধীনতা। তাই ৩০ লাখ শহীদের রক্তস্নাত বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশ তাঁর রক্তে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশের জন্যই তিনি আজীবন স্বপ্ন দেখেছেন এবং সংগ্রাম করেছেন। এই বাংলাদেশের জন্যই তিনি তাঁর জীবন-যৌবন উৎসর্গ করেছেন এবং জীবনের একটি বড় অংশ কারান্তরালে কাটিয়েছেন। “পাকিস্তানের কারাগারে জেলের মধ্যে সেল। এই সেলের সামনে কবরের পাশে দাঁড়িয়েও তিনি মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে বলেছিলেন- ‘এই কবরে নয়, আমার লাশ আমার বাংলার মানুষের কাছে পৌঁছে দিও। যে বাংলার মাটিতে আমি লালিত পালিত, যে বাংলার আকাশে-বাতাসে বর্ধিত, সেই বাংলার মাটিতে আমি চির নিদ্রায় শায়িত থাকতে চাই।’ সত্যি আজ তিনি সেই বাংলার মাটিতে শায়িত আছেন গোপালগঞ্জের নিভৃত পল্লী টুঙ্গিপাড়ায়।” [দ্রঃ বিশ্ব সভায় ৭ই মার্চের বজ্রকণ্ঠ- তোফায়েল আহমেদ (প্রাক্তন মন্ত্রী) ; দৈনিক জনকণ্ঠ, ০৭-০৩- ২০১৮]।

১০৭। বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যা করার পর থেকে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে প্রাণান্তকর চেষ্টা করা সত্ত্বেও বাংলাদেশ থেকে তাঁর নাম নির্বাসন দিতে পারেনি কিংবা দেশবাসীর হৃদয় থেকে তাঁর নাম মুছে ফেলতেও সক্ষম হয়নি। তাই দেশ ও জাতির ইতিহাসে বঙ্গবন্ধুকে নতুন করে প্রতিষ্ঠা করার জন্য কোন শক্তি কিংবা কৌশলের কোন প্রয়োজন নেই। ইতিহাসের অমোঘ প্রয়োজনেই জাতি তার গর্বিত সন্তান এবং তাদের জনককে সারা জীবন ধরে শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করবে। প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ্য যে, বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করার পর ১৯৭৫ সনের ২৮শে আগস্ট তারিখে লন্ডনের The Listener পত্রিকায় বিবিসির তৎকালীন সংবাদদাতা Brian Baron ভবিষ্যদ্বাণী করে বলেছিলেন- “বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের হৃদয়ে উচ্চতর আসনেই অবস্থান করবেন। তাঁর বুলেট বিক্ষত বাসগৃহটি ‘গুরুত্বপূর্ণ স্মারকচিহ্ন’ এবং কবরস্থানটি
‘পুণ্যতীর্থে’ পরিণত হবে।”

১০৮। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এবং জিয়াউর রহমানের সামরিক সরকারের উপদেষ্টা অধ্যাপক আবুল ফজলের ভাষায়- “শত চেষ্টা করেও তাঁর (মুজিবের) নাম ইতিহাস থেকে মুছে ফেলা যাবেনা। ইতিহাস তেমন কিছু করতে দেয় না। ইতিহাস তার নিজের অঙ্গ ছেদন ও করেনা। শেখ মুজিব ইতিহাসের তেমন এক অচ্ছেদ্য অঙ্গ। তিনি শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্ব ইতিহাসের ও অঙ্গ।” দেশবাসী নিশ্চয়ই জানেন Brian Baron -এর উপরোক্ত ভবিষ্যদ্বাণী দীর্ঘদিন পরে হলেও আজ সত্য বাণীতে পরিণত হয়েছে। কুলাঙ্গার শত্রুদের মুখে ছাই দিয়ে ধানমন্ডির ৩২ নং সড়কে অবস্থিত বঙ্গবন্ধুর বুলেট বিক্ষত বাড়ি এবং টুঙ্গিপাড়ার অজ পাড়া গাঁয়ে অবস্থিত মহান মুজিবের সমাধি আজ দেশপ্রেমিক বাঙালিদের পুণ্যতীর্থে পরিণত হয়েছে।
দেশের আপামর জনসাধারণ সহ জ্ঞানী-গুণী নাগরিকদের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রথিতযশা রাষ্ট্রপ্রধান এবং সরকার প্রধানগণ আজ গভীর আগ্রহ ভরে এবং পরম আন্তরিকতা ও শ্রদ্ধার সাথে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি এবং সমাধিতে তারা পুষ্পস্তবক অর্পণ করে থাকেন।

১০৯। বাংলাদেশের রাজনীতির হাল-হকিকত সম্পর্কে যাদের সম্যক ধারণা রয়েছে তারা নিশ্চয়ই জানেন বিগত ১৯৯৬ সনের ১২ই জুন আমাদের দেশে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত নির্বাচনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ বিপুল ভোটে জয়লাভ করে। এহেন অবস্থায় বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকাণ্ডের সুদীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সনের ২৩শে জুন শেখ হাসিনা সরকার গঠন করেন। তার বিজয়ের মাধ্যমে দুই দুইজন সামরিক স্বৈরশাসক জিয়া ও এরশাদ এবং তাদের উত্তরাধিকার বেগম খালেদা জিয়ার অপশাসনের অন্ধকারে নিমজ্জিত বাংলাদেশের শাসন ব্যবস্থা থেকে অন্ধকার দূরীভূত হয়। আলোর পথের যাত্রী শেখ হাসিনা সর্বাত্মক সততা, স্বচ্ছতা, দৃঢ়তা এবং সক্ষমতা নিয়ে অন্ধকারের অমানিশা দূর করে আলোকবর্তিকা হিসেবে আবির্ভূত হন। ১৯৭৫ এর পর চরম ক্রান্তিকাল অতিক্রম করে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শচ্যুত বাংলাদেশ পুনরায় সঠিক গন্তব্যে যাত্রা শুরু করে। ফলে পাকিস্তানের ভাবধারায় পরিচালিত বাংলাদেশ অন্ধকার থেকে আলোর পথে যাত্রার মাধ্যমে দেশকে পুরোপুরিভাবে গণতন্ত্রের ধারায় ফিরিয়ে এনে আশাহত এবং ভাগ্যাহত জনগণের ভাগ্য উন্নয়নে ব্রতী হন শেখ হাসিনা।

১১০। বাংলাদেশ এবং বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে যারা খোঁজ খবর রাখেন তারা নিশ্চয়ই জানেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু প্রধানত দু’টি লক্ষ্যকে সামনে রেখে রাজনীতি করেছেন। তন্মধ্যে প্রথমটি ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং অন্যটি ছিল অর্থনৈতিক মুক্তি। আজীবন লড়াই সংগ্রাম করে তিনি আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। কিন্তু ঐকান্তিক ইচ্ছা এবং সর্বাত্মক প্রচেষ্টা থাকা সত্ত্বেও তিনি অর্থনৈতিক মুক্তি দিয়ে যেতে পারেননি। এহেন অবস্থায় অর্থনৈতিক মুক্তির সেই অসমাপ্ত স্বপ্নটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু তনয়া শেখ হাসিনা ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে নিরলসভাবে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তার অদম্য ইচ্ছা,
সুদৃঢ় মনোবল এবং পরিকল্পিত কর্মসূচী প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশ দিন দিন অপ্রতিরোধ্য অগ্রগতিতে সাফল্য এবং সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ফলে দেশের অর্থনীতির ভিত্তি এখন অতীতের যে কোন সরকার এবং যে কোন সময়ের চেয়ে অনেক বেশি সুদৃঢ় এবং মজবুত। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের সুনাম এবং মর্যাদা এখন অনন্য মর্যাদায় অভিষিক্ত বটে।
১১১। সুদীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সনে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে শেখ হাসিনার সরকার খন্দকার মোশতাক আহমেদ কর্তৃক জারিকৃত এবং তার সহচর জিয়াউর রহমান কর্তৃক সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত কুখ্যাত Indemnity Ordinance বাতিল করে সংবিধানকে কলঙ্ক মুক্ত করেন এবং জাতির পিতার হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন করেন। দেশবাসী নিশ্চয়ই জানেন ১৯৯৬ সনে শেখ হাসিনা যখন রাষ্ট্র ক্ষমতা গ্রহণ করেন তখন দেশে ৪০ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য ঘাটতি ছিল। এই খাদ্য ঘাটতি পূরণ করে দেশকে তিনি খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেন এবং রপ্তানিকারক দেশেও পরিণত করেন। এরই পাশাপাশি ব্যাপকভাবে নারীর ক্ষমতায়ন করেন,
জন্ম নিয়ন্ত্রণে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেন, শিশু এবং মাতৃ মৃত্যুর হার বহুলাংশে কমিয়ে আনেন এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করেন। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান পার্বত্য চট্টগ্রামের বিরোধ নিষ্পত্তি করে শান্তিচুক্তি করেন। ভারতের সাথে গঙ্গার পানি চুক্তি সম্পন্ন করেন। উপরোল্লিখিত যুগান্তকারী এবং ব্যাপক ভিত্তিক কার্যক্রম সমূহের পাশাপাশি রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে বিস্ময়কর সাফল্য অর্জন করেন।

১১২। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং আদর্শে বিশ্বাসী ব্যক্তিগণ অবশ্যই জানেন বঙ্গবন্ধুর মতো শেখ হাসিনাও অসীম সাহসী, বিচক্ষণ এবং অত্যন্ত দূরদৃষ্টি সম্পন্ন নেত্রী। রাষ্ট্রের প্রতিটি সেক্টরে সামগ্রিক কল্যাণ এবং সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি দেশকে একটি মর্যাদাশীল এবং জনকল্যাণ মূলক রাষ্ট্রে পরিণত করার নিমিত্তে তিনিও তার পিতার মতো অকুতোভয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। মানব সূচক উন্নয়নে বাংলাদেশের বিস্ময়কর অগ্রযাত্রায় তিনি প্রেস এবং ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছেন এবং গণমাধ্যমকে উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। ফলে রাষ্ট্রের অন্যসব প্রতিষ্ঠানের মতো বেতার এবং টেলিভিশনে মুক্তিযুদ্ধের চতনা ও আদর্শ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এরই ফলশ্রুতিতে ২১ বছর ধরে বেতার এবং টেলিভিশনে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ প্রচারের এবং ছবি প্রদর্শনের নিষেধাজ্ঞার অবসান ঘটে। এমতাবস্থায় ১৯৭৫ -এর ১৫ই আগস্টের পর গত ১৯৯৬ সনের ২৩শে জুন অর্থাৎ শেখ হাসিনা সরকার গঠনের দিনই বাংলাদেশ বেতার এবং টেলিভিশনে বঙ্গবন্ধুর নাম সর্বপ্রথম উচ্চারণ করা হয় এবং ঐদিন ৭ই মার্চের ভাষণ ও প্রচার করা হয়। তার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক প্রদত্ত অন্যান্য ভাষণ সহ ৭ই মার্চের কালোত্তীর্ণ ভাষণ ও বাংলাদেশ বেতার এবং টেলিভিশন থেকে যথারীতি প্রচার করা শুরু হয়।

১১৩। সারা বিশ্বের ইতিহাস পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ বিশ্বে সর্বাধিকবার প্রচারিত এবং সর্বাধিক সংখ্যক মানুষের শ্রবণকৃত ভাষণ। এই ভাষণের ক্যাসেট যতবার দেশের আনাচে কানাচে এবং ব্যাপকভাবে বাজানো হয়েছে এবং উচ্চারিত হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে বিশ্বের আর কোন নেতার ভাষণ তার এক শতাংশ বার ও বাজানো হয়নি। প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ্য যে, এই ঐতিহাসিক ভাষণটিকে ইতিমধ্যে বিশ্বের ১২টি ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে। এরই পাশাপাশি এই ভাষণটিকে ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে UNESCO স্বীকৃতি প্রদান করেছে। এহেন স্বীকৃতি প্রদানের প্রেক্ষিতে এই ভাষণটি International
Memory of the World Register -এ যথারীতি তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এমতাবস্থায় বঙ্গবন্ধুর এই কালজয়ী ভাষণই প্রথম কোন বাংলাদেশী দলিল, যা আনুষ্ঠানিক এবং স্থায়ীভাবে উপরোক্ত রেজিস্টারে সংরক্ষিত হয়েছে। সুতরাং ৭ই মার্চের কালোত্তীর্ণ এবং প্রেরণাদায়ক ভাষণ সময়ের পরিসীমায় আবদ্ধ না থেকে বঙ্গবন্ধুকে যেমন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে স্মরণীয়, বরণীয় এবং মহিমান্বিত করেছে ঠিক তেমনই বাঙালি হিসেবে আমাদেরকে আকাশচুম্বী গৌরব এবং অপরিসীম মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছে।

১১৪। স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীদের জন্য খুবই আনন্দের বিষয় যে, সুদীর্ঘ একুশটি বছর ধরে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় বেতার এবং টিভিতে প্রচার নিষিদ্ধ বঙ্গবন্ধুর উপরোক্ত কালোত্তীর্ণ ভাষণটিকে গত ২০১৭ সনের ৩০শে অক্টোবর UNESCO (United Nation Education, Scientific and Cultural Organization) এই ভাষণটিকে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য (World Documentary Heritage) এর অংশ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে। যা পুরো দেশ এবং জাতির জন্য অত্যন্ত গর্বের এবং অহঙ্কারের বটে। প্রসঙ্গক্রমে প্রণিধানযোগ্য যে, UNESCO -এর স্বীকৃত ৪৭৭ টি বিশ্ব ঐতিহ্যের মধ্যে ভাষণ মাত্র একটি। আর সেটিই বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ। এছাড়া অন্য সবগুলিই ডকুমেন্ট অথবা বস্তু। সুতরাং গুরুত্ব, মর্যাদা এবং তাৎপর্যের দিক দিয়ে বঙ্গবন্ধুর উপরোক্ত কালজয়ী ভাষণ বিশ্ব ইতিহাসে কতটা আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছে তা UNESCO -এর উপরোক্ত সর্বসম্মত স্বীকৃতির মাধ্যমে সন্দেহাতীতভাবেই (Undoubtedly and trustworthily) প্রমাণিত হয়।

১১৫। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলেও সত্য যে, জনগণনন্দিত যে নেতার একটি মাত্র বজ্রকণ্ঠের ভাষণে একটি অবহেলিত জাতি মুক্তির স্বাদ পেয়ে গেল, অগ্র পশ্চাৎ বিবেচনা না করে দেশের আপামর জনসাধারণ মরণপণ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়লো এবং দেশ স্বাধীন করে ফেলল সেই নেতার ভাষণ শুধুমাত্র রাষ্ট্রীয় বেতার-টিভিতে প্রচার করা নিষিদ্ধই থাকলো না বরং তার শেষ স্মৃতিচিহ্নটুকু পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে বিনষ্ট করে ফেলা হলো। প্রতিহিংসাপরায়ণ এবং অবিমৃষ্যকারী সেনা শাসক জিয়াউর রহমানের উপরোক্ত দুরভিসন্ধিমূলক নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের দেশের বেতার এবং টেলিভিশনে সুদীর্ঘ ২১ বছর ধরে উক্ত ভাষণ প্রচার নিষিদ্ধ থাকার পর UNESCO কর্তৃক উপরোল্লিখিতভাবে স্বীকৃতি এবং মর্যাদা প্রদানের প্রেক্ষিতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এবং বঙ্গবন্ধু তনয়া শেখ হাসিনা এই মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতিকে “মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধেরই স্বীকৃতি” এবং “ইতিহাসের প্রতিশোধ” হিসেবে অভিহিত করেছেন। সারা বিশ্বে প্রশংসিত একটি জ্বালাময়ী ভাষণকে যারা ইতিহাস বিকৃতির মাধ্যমে দেশবাসীর নিকট থেকে পরিকল্পিতভাবে আড়াল করে রেখেছিলেন, অনেক বিলম্বে হলেও তারা তাদের সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি এবং হীনমন্যতা পরিত্যাগ করে সুস্থ ধারায় ফিরে আসবেন বলে পরিবর্তিত পরিবেশ, পরিস্থিতি এবং পারিপার্শ্বিকতার আলোকে দেশবাসী প্রত্যাশা করেন।

১১৬। বঙ্গবন্ধুর কট্টর বিরোধী এবং অন্ধ সমালোচকগণ অনেক বিলম্বে হলেও স্বীকার করেন যে, ৭ই মার্চের ভাষণ গণতন্ত্র, মানবিকতা, ন্যায়পরায়ণতা এবং ত্যাগ-তিতিক্ষার পাশাপাশি দেশপ্রেমের আদর্শে উজ্জ্বল একটি অনন্যসাধারণ ভাষণ। এই ভাষণের নান্দনিকতা, বহুমাত্রিকতা এবং সুদূরপ্রসারী তাৎপর্য যুগ যুগ ধরে অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের সংগ্রামে, জাতি ও সম্প্রদায়গত বিভেদ-বৈষম্য এবং শোষণ বঞ্চনার বিরুদ্ধে সারা বিশ্বের নির্যাতিত, নিপীড়িত এবং স্বাধীনতাকামী মানুষের মুক্তির সংগ্রামে অকুতোভয়ে সাহস এবং অনুপ্রেরণা জোগাবে। আর ঠিক এসব চিন্তা চেতনার আলোকেই এই ভাষণের ব্যাপারে UNESCO -এর সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে এই মর্মে অভিমত ব্যক্ত করা হয়েছে যে- “The speech effectively declared the independence of Bangladesh. The speech constitutes a faithful documentation of how the failure of post-colonial
nation states to develop inclusive, democratic society alienates their population belonging to different ethnic, cultural, linguist or religious groups. The speech was extempore and there was no written script.” একথা আজ ঐতিহাসিকভাবে সত্য এবং প্রতিষ্ঠিত যে, বঙ্গবন্ধু তাঁর উপরোক্ত ৭ই মার্চের কালজয়ী এবং প্রাণবন্ত ভাষণের মাধ্যমে বাংলাদেশের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের সামরিক, প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক এবং বিদেশ নীতির একটি পরিচ্ছন্ন দিক-নির্দেশনা
প্রদানের পাশাপাশি সুদূরপ্রসারী রূপরেখাও ঘোষণা করেছেন। এই ভাষণের গুরুত্ব, তাৎপর্য এবং বহুমাত্রিকতা স্বাধীনতাকামী দেশ ও জাতির জন্য একটি অনির্বাণ আলোকবর্তিকা। তাই এই ভাষণ শুধুমাত্র বাঙালি জাতির জন্যই নয় একই সঙ্গে বিশ্ব মানবতার জন্য ও বিভিন্নভাবে অনুকরণীয় এবং অনুসরণীয় এক মহামূল্যবান দলিল বলে অকাট্ট এবং জোরালোভাবেই বিবেচিত হয়।

১১৭। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে দমিয়ে রাখা এবং পিছিয়ে থাকা একটি অবহেলিত জনগোষ্ঠীর বুক ফাটা আর্তনাদ এবং শোষণ-বঞ্চনা ও নির্যাতন-নিপীড়নের ইতিহাস জানতে হলে এই ভাষণের আরও বহুল প্রচার আবশ্যক। এরই পাশাপাশি দেশের নতুন প্রজন্মের কাছে আমাদের সঠিক ও অবিকৃত ইতিহাস পৌঁছে দিতে হলে এই ভাষণকে পাঠ্য পুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা অত্যাবশ্যক
এবং অপরিহার্য। কেননা বাংলাদেশকে সঠিক এবং সম্যকভাবে জানতে হলে ইতিহাসের অনিবার্য প্রয়োজনেই বঙ্গবন্ধুকে জানতে হবে। আর বঙ্গবন্ধুকে জানতে হলে তাঁর প্রণীত ৬ দফা, ৭ই জুন এবং ৭ই মার্চের ভাষণকে গভীরভাবে অনুধাবন করতে হবে এবং হৃদয়ঙ্গম করতে হবে। মহান মুজিবের সংগ্রাম মুখর জীবনের ইতিহাসের আলোকে ৭ই মার্চের ভাষণের প্রতিটি
শব্দ এবং বাক্য একনিষ্ঠ মনে বিচার বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে জীবিত অবস্থায় বঙ্গবন্ধু যেমন বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা ছিলেন, ঠিক তেমনই লোকান্তরিত মুজিবের নীতি, আদর্শ, নৈতিকতা এবং দূরদর্শিতা আমাদের জন্য আরও অনেক বেশি জরুরী, আবশ্যক এবং প্রাসঙ্গিক।

১১৮। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণটি ছিল একটি সাহসী জাতির জন্য প্রত্যয়ী কিছু উৎসাহব্যঞ্জক এবং প্রেরণাদায়ক শব্দ ও বাক্য সমূহের প্রাণবন্ত উচ্চারণ। অবিনাশী এই ভাষণের প্রতিটি শব্দ এবং বাক্য ছিল আমাদের এগিয়ে চলার পথে অনিঃশেষ এবং অফুরন্ত প্রেরণার উৎস। প্রবল বাস্তবজ্ঞান, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং গণমানুষের মন ও মানসিকতা বোঝার অসাধারণ ক্ষমতার কারণেই বঙ্গবন্ধুর পক্ষে এরকম একটি সময়োপযোগী ভাষণ দেয়া সম্ভব হয়েছে। এত সংক্ষেপে, স্বল্প সময়ে এবং অত্যন্ত গোছালোভাবে এতসব গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যসমূহ প্রচণ্ড আবেগ এবং যুক্তিগ্রাহ্য শব্দচয়নের মাধ্যমে উত্তাল জনসমুদ্রে উপস্থাপন শুধুমাত্র বঙ্গবন্ধুর মতো একজন আজীবন সংগ্রামী এবং মনেপ্রাণে স্বাধীনতাকামী নেতার পক্ষেই সম্ভব ছিল। আর তিনি ঠিক একাজটিই অত্যন্ত সঠিক এবং সুচারুভাবে সম্পন্ন করেছেন। একজন তুখোড় নেতা কত সহজে সাধারণ মানুষের মনের মণিকোঠায়, মাথার ভিতরে, রক্তের ভিতরে এবং চিন্তা চেতনার গভীরে প্রবেশ করতে পারেন বঙ্গবন্ধু তার প্রকৃষ্ট প্রমাণ রেখেছেন। তাঁর ভরাট কণ্ঠের উঠা-নামা, সুনিপুণ বাক্যবিন্যাস এবং রাজনীতির কৌশলে এটি ছিল একটি অনবদ্য ভাষণ। অত্যন্ত সহজ, সরল, প্রাণবন্ত এবং হৃদয়স্পর্শী ভাষায় প্রদত্ত এই ভাষণটির তাৎপর্য এখানে যে, প্রত্যন্ত গ্রামের অশিক্ষিত কিংবা স্বল্প শিক্ষিত সাধারণ মানুষের পাশাপাশি শহরের আধুনিক এবং উচ্চ শিক্ষিত ব্যক্তিবর্গ ও এই ভাষণের প্রতিটি শব্দ এবং বাক্যের তাৎপর্য খুব সহজেই অনুধাবন করতে পারেন। একটি বিদ্রোহাত্মক এবং বিস্ফোরণোন্মুখ পরিস্থিতিতে এর চেয়ে উত্তম এবং উৎকৃষ্ট ভাষণ বঙ্গবন্ধু ছাড়া আর কারও পক্ষেই দেয়া সম্ভব ছিল না।

১১৯। বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনের পঁয়ত্রিশ বছরের ও বেশি সময়ের প্রজ্ঞা এবং তিক্ত অভিজ্ঞতার আলোকে প্রদত্ত ৭ই মার্চের ভাষণটি ছিল একটি নিপীড়িত জনগোষ্ঠীকে স্বাধীনতার দাবিতে জাগিয়ে তোলার নিমিত্তে উদাত্ত আহবান। বাঙালিদের জাতিরাষ্ট্র গঠনে এই ভাষণটি ছিল একটি আগমনী বার্তা। একই সঙ্গে এই ভাষণ ছিল তৎকালীন স্বৈর শাসক গোষ্ঠীর সাথে দর কষাকষির শেষ চেষ্টা। দমন-পীড়নের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে অধিকার বঞ্চিত বাঙালিদের বিভিন্ন দাবিদাওয়ার প্রশ্নে শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির শেষ সুযোগ। তাই এইদিন বঙ্গবন্ধু এমনভাবে বক্তব্য দিয়েছেন যাতে বাঙালি জাতি বিভ্রান্ত না হয়ে সুচিন্তিতভাবে সামনের দিকে অগ্রসর হতে পারে। এরই পাশাপাশি পাকিস্তানী শাসকবর্গ যেন কোনভাবেই তাঁকে বিচ্ছিন্নতাবাদী বলতে না পারে। ৭ই মার্চের ভাষণ ছিল বাঙালিদের হৃদয়-মনে দ্রোহের আগুন ছড়ানো অসাধারণ একটি সুবিন্যস্ত এবং সুখপাঠ্য কবিতার
পংক্তিমালা। এই ভাষণ হচ্ছে অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের অগ্নি স্ফুলিঙ্গ, ক্ষোভের উত্তাপ এবং প্রচণ্ড রকমের সংক্ষুব্ধ সময়ের অনিবার্য বহিঃপ্রকাশ। তাঁর ভাষণে ছিল দীর্ঘদিনের শোষণ বঞ্চনার আনুপূর্বিক তথ্য, যুক্তিবাদিতা, প্রশ্ন, খেদ এবং বিষণ্নতা। এছাড়া এই ভাষণে আরও ছিল সংযম, শালীনতাবোধ, ন্যায়নিষ্ঠা এবং হুঁশিয়ারি। এই দিন বঙ্গবন্ধু হয়ে উঠেছিলেন নিঃশঙ্কচিত্ত, অকুতোভয় এবং দুর্দমনীয় এক মহাবিদ্রোহী।

১২০। বাঙালি জাতির সকল প্রকার আন্দোলন-সংগ্রাম, অর্জন এবং অস্তিত্বের সাথে নিবিড়ভাবে মিশে রয়েছেন বঙ্গবন্ধু। মহান মুজিবের জীবন ও সংগ্রাম মানেই একটি স্বাধীন, সার্বভৌম এবং সকল প্রকার বৈষম্য ও শোষণ বঞ্চনা মুক্ত অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন। এই স্বপ্নকে সামনে রেখেই তিনি তাঁর সারাটি জীবন পরিচালনা করেছেন এবং কর্মপদ্ধতি নির্ধারণ করেছেন। তাঁর এহেন বর্ণাঢ্য ও ঘটনাবহুল এবং ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ জীবনের সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে প্রদত্ত ৭ই মার্চের কালোত্তীর্ণ এবং যুগান্তকারী ভাষণের আবেদন আমাদের স্বাধীনতার ৫০ বছর পর আজও সাধারণ মানুষের মনের মণিকোঠায় অম্লান, অমলিন এবং অনুপ্রেরণাদায়ক। এই ভাষণ যতবার শোনা যায় ততবারই মনে হয় অনেক বেশি জীবন্ত ও প্রাণবন্ত এবং অফুরন্ত উদ্দীপনায় ভরপুর। আমাদের দেশপ্রেমকে শাণিত এবং সুসংহত করতে হলে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ নিয়ে নির্মোহ চর্চা করা আবশ্যক। এই ভাষণের তেজোদীপ্ত এবং বজ্রকণ্ঠের সম্মোহনী শক্তিতেই পরাধীনতার শিকল ছেঁড়ার অদম্য আকাঙ্ক্ষায় দুরন্ত, দুর্বার এবং অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছিল বীর বাঙালি জাতি। তাই সুদীর্ঘদিন কারা নির্যাতন ভোগকারী বঙ্গবন্ধুর পোড় খাওয়া এবং কর্মময় জীবনের আদর্শ এবং অভিজ্ঞতা আমাদের জন্য আজও অন্তহীন প্রেরণার উৎস এবং অম্লান আলোকবর্তিকা।

১২১। বাংলাদেশ এবং বাঙালি জাতির স্বাধিকার ও স্বাধীনতায় যারা বিশ্বাস করেন তাদেরকে অবশ্যই ৭ই মার্চকে স্মরণ করতে হবে এবং এই ভাষণের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। কেননা রণনীতি, রণকৌশল এবং দেশের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনার জন্য বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ছন্দময় এবং হৃদয়স্পর্শী ভাষণই বিশ্বের সেরা ভাষণ। এই ভাষণ সমকালীন বিশ্ব ইতিহাসের এক অনবদ্য রাজনৈতিক কবিতা। একটি দেশের দীর্ঘদিনের শোষণ-বঞ্চনার করুণ ইতিহাস অত্যন্ত নান্দনিক ভাষায় উপস্থাপন, তৎকালীন প্রেক্ষাপট সম্পর্কে সবিস্তারে আলোকপাত এবং অত্যাসন্ন গেরিলা যুদ্ধের প্রস্তুতির জন্য সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদানের ব্যাপারে এই ভাষণ যে কোন বিবেচনায় একটি অনন্য এবং অসাধারণ উচ্চমার্গের ভাষণ। এরই পাশাপাশি অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহী ও শ্রুতিমধুর শব্দচয়ন, মন মাতানো ও ভুবন ভুলানো শব্দ নিয়ে বাক্য গঠন ও বাক্য বিন্যাস এবং গগনবিদারী ও বজ্রকণ্ঠে তা জনসমুদ্রে উপস্থাপন – এসব বিবেচনায় ৭ই মার্চের ভাষণ নিঃসন্দেহে একটি সুদূরপ্রসারী, মহাকাব্যিক এবং বহুমাত্রিক ভাষণ। তাই বাঙালি কবি এবং গীতিকার যথার্থই বলেছেন- “যদি রাত পোহালে শোনা যেত বঙ্গবন্ধু মরে নাই – তবে বিশ্ব পেত মহান নেতা, আমরা পেতাম ফিরে জাতির পিতা।”

সহায়ক গ্রন্থাবলী
১। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান
২। অসমাপ্ত আত্মজীবনী- শেখ মুজিবুর রহমান
৩। কারাগারের রোজনামচা- শেখ মুজিবুর রহমান
৪। আমার দেখা নয়াচীন- শেখ মুজিবুর রহমান
৫। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মারকগ্রন্থ, প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় খণ্ড,
জ্যোৎস্না পাবলিশার্স।
৬। Witness to Surrender- Major Siddik Salik, Oxford University Press, Karachi,
1977.

ড. মোঃ ফজলুর রহমান, সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ (অবঃ), লেখক ও কলামিস্ট  

বি /ইবিটাইমস/এম আর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »