ইউরোপ ডেস্কঃ অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রাস্তায় করোনার টিকাবিরোধীদের গাড়ী প্যারেডে পুলিশি অভিযানে অসংখ্য গাড়ির চালককে অর্থ জরিমানা করা হয়েছে।
অস্ট্রিয়ান সংবাদ সংস্থা এপিএ জানিয়েছে গতকাল শুক্রবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় করোনা ব্যবস্থার বিরোধীদের দ্বারা অননুমোদিত গাড়ি প্যারেডের সময় পুলিশি অভিযানে ভিয়েনা পুলিশ প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার কারনে অসংখ্য করোনার বাধ্যতামূলক টিকাদান বিরোধীদের অর্থ জরিমানা করা হয়েছে। তবে শহরের প্রাণকেন্দ্রে সন্ধ্যার সময় এই পুলিশি অভিযানের সময় কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
এপিএ আরও জানায়,ভিয়েনার পুলিশ প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও করোনা ব্যবস্থার বিরোধীদের অননুমোদিত কার প্যারেড, যা শুক্রবার বিকেলে ভিয়েনার কেন্দ্রস্থলে হয়েছিল, কোনও বড় ঘটনা ছাড়াই ব্যাপক পুলিশি তৎপরতায় সন্ধ্যা ৬ টার দিকে ভেঙে যায়।
ভিয়েনা পুলিশ প্রশাসনের মুখপাত্র মুখপাত্র ক্রিস্টোফার ভার্হানজাক সংবাদ সংস্থা এপিএ কে বলেন,শুক্রবার সন্ধ্যার ব্যস্ততম সময়ে প্রশাসনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বাধ্যতামূলক টিকাদান বিরোধীরা গাড়ি প্যারেড শুরু করলে পুলিশ তাদের চতুরদিক থেকে ঘিরে ফেলে। তবে এই সময় রাস্তায় সাময়িক যানজটের সৃষ্টি হলেও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে নি এবং শুধুমাত্র গাড়ির চালকদের জরিমানা করা হলেও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।
বাধ্যতামূলক টিকাদান বিরোধীদের যানবাহনের কলাম ছিল মূলত শহরের রিং রোডে। এই সময়ে তাদের গাড়ি ও ট্রাকগুলো হর্ন বাজিয়ে নিজেদের দিকে জনগনের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করছিল। তাছাড়াও তাদের ট্রাকের গায়ে বাধ্যতামূলক টিকাদানের বিরুদ্ধে নানান রংয়ের ব্যানারও টানানো ছিল।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের টুইটারে ভাইরাল ভিডিওতে দেখা গেছে যে, যানবাহনগুলি পুলিশ অফিসারদের পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছে, তাদের হর্ন বাজাচ্ছে বা অস্ট্রিয়ার পতাকা প্রদর্শন করছে। ইভেন্টে নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি, ভিয়েনায় হর্ন বাজানোর উপরও সাধারণ নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। পুলিশের মুখপাত্র আরও জানিয়েছেন, যে সমস্ত যানবাহনকে থামানো
সম্ভব হয় নি,তাদের গাড়ির নাম্বার লিখে রাখা হয়েছে।
পুলিশের মুখপাত্র আরও জানান, ভিয়েনা পুলিশ প্রশাসন অনেক আগে থেকেই তাদের এই গাড়ি প্যারেডের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। তাদের ভিয়েনার রাস্তায় গাড়ি প্যারেডের আবেদন গত সপ্তাহেই প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল। পুলিশ তাদের প্রত্যাখ্যান পত্রে জানিয়েছিল যে, গাড়ি বিক্ষোভের সময়ে শহরে শব্দ দূষণ এবং যানজট সৃষ্টির আশঙ্কায় অনুমতি দেয়া হয় নি।
কবির আহমেদ/ইবিটাইমস/এম আর