মহাকালের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু

৮ম পর্ব 

 ড. মোঃ ফজলুর রহমান: ৭১। প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ্য যে, ম্যারি কুরি এবং পিয়েরে কুরি ছিলেন বিশ্ব বিখ্যাত পদার্থ বিজ্ঞানী। মানব কল্যাণ এবং বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তাদের অবদানকে চিরস্মরণীয় করে রাখার উদ্দেশ্যে বিগত ১৯৫০ সাল থেকে ‘জুলিও কুরি’ শান্তি পদক প্রবর্তন করা হয়। ফ্যাসিবাদবিরোধী ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংগ্রাম এবং মানবতার কল্যাণ তথা শান্তির সপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য বিশ্বের বরেণ্য ব্যক্তি ও সংগঠনকে এই পদক প্রদান করা হয়। বঙ্গবন্ধুর আগে যারা এই পদক পেয়েছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন- মার্টিন লুথার কিং, জওহরলাল নেহরু, লিওনিদ ব্রেজনেভ, ফিডেল ক্যাস্ট্রো, হো চি মিন, সালভেদর আলেন্দে, ইয়াসির আরাফাত, ইন্দিরা গান্ধী, নেলসন ম্যান্ডেলা, মাদার তেরেসা প্রমুখ। এমনকি মানবতাবাদী কবি ও রাজনীতিবিদ পাবলো নেরুদা ও এই মর্যাদাপূর্ণ সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। বঙ্গবন্ধু সহ যারা এই পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন তারা সবাই তাদের নিজ নিজ দেশের নেতৃত্বে এবং সমাজ পরিবর্তনে বড় ধরনের ভূমিকা এবং অবদান রেখেছেন। এমনকি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও তাদের অবদান অতুলনীয় এবং অবিস্মরণীয় বটে।

৭২। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে, এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশের সংবিধান রচনাকালে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও চেতনার আলোকে উক্ত সংবিধানে বঙ্গবন্ধু চারটি মূলনীতি সংযোজন করেছিলেন। উপরোক্ত মূলনীতিসমূহ ছিল গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং জাতীয়তাবাদ। উপরোল্লিখিত মূলনীতিসমূহের মধ্যে সমাজতন্ত্র এবং ধর্ম নিরপেক্ষতাকে সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত করে নেয়ায় দেশী এবং বিদেশী বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ এবং রাষ্ট্রনায়কদের কাছে বঙ্গবন্ধু ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছিলেন। এরই পাশাপাশি ধর্মান্ধ প্রতিক্রিয়াশীল ব্যক্তি ও গোষ্ঠীসহ সাম্রাজ্যবাদীদের নিকট তিনি অনেক বিরাগভাজন ও হয়েছিলেন বটে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের উক্ত সংবিধান রচিত হওয়ার পর গত ১৯৭২ সনের ৪ঠা নভেম্বর তা অনুমোদনের জন্য জাতীয় সংসদে পেশ করা হয়। এই সংবিধান পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ একটি সংবিধান হিসেবে সারা বিশ্বে স্বীকৃত এবং প্রশংসিত হয়। পৃথিবীর ইতিহাসে কোন দেশ স্বাধীনের পর এত স্বল্প সময়ে তথা রক্তাক্ত মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পর মাত্র ১০ (দশ) মাস সময়ের মধ্যে সংবিধান প্রণয়নের কোন নজির নেই।

৭৩। দেশবাসী অবগত রয়েছেন যে, যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে নিয়োজিত থাকাবস্থায় বঙ্গবন্ধু দেখতে পান যে, বাংলাদেশের অন্যান্য অনেক সমস্যার মধ্যে লাগামহীন দুর্নীতি আমাদের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার পথে অন্যতম প্রধান বাধা। এহেন অবস্থায় ১৯৭৫ সনের ৮ই মার্চ টাঙ্গাইলের কাগমারীতে মাওলানা মোহাম্মদ আলী কলেজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা প্রদানকালে দুর্নীতির বিরুদ্ধে উদাত্ত আহবান জানিয়ে বঙ্গবন্ধু বলেন- “…  বাংলাদেশের শতকরা ২৫ ভাগ দুঃখ দূর হয়ে যাবে যদি দুর্নীতি বন্ধ হয়ে যায়। যার মধ্যে মনুষ্যত্ব আছে সেই মানুষ হয়। সে জন্য আমি চাই মনুষ্যত্ব ফিরে আসুক। আজ দুঃখের সঙ্গে আমাকে বলতে হয় যে, আজকে আমরা অনেকে দুর্নীতিবাজ হয়ে গেছি। তার পরও আমরা দুর্নীতি বিরোধী বক্তৃতা করি। লজ্জায় আমার মাথা নত হয়ে যায়। আমি অনুরোধ করব যে, আত্মশুদ্ধি করে ভালো মানুষ হও। তাহলে খারাপ মানুষকেও মানুষ করতে পারবা।
আমার অনুরোধ ভাইয়েরা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের সংগ্রাম চাই…।”

৭৪। উপরোল্লিখিত একই অনুষ্ঠানে অত্যন্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত চিত্তে বঙ্গবন্ধু আরও বলেন- “… আপনারা কেন দুর্নীতি করেন আমাকে একটু বুঝিয়ে বলুন তো। আজ হোক, কাল হোক এই যে কথা বলেছি, এই যে আপনারা বসে আছেন, কেউ কি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারেন যে, কাল সকালে আমি বেঁচে থাকব? আল্লাহ্‌র হাতে আমাদের মৃত্যু। আজও মরতে পারি। আবার এক ঘণ্টা পরেও মরতে পারি। তাহলে কেন আপনারা দুর্নীতি করবেন? মরার সময়ে কি নিয়ে যাবেন? তাহলে কেন দুর্নীতি করবেন? রাতে যদি চিন্তা করেন যে, আজ ঘুমের মধ্যে আমরা মরতে পারি, তাহলে আর দুর্নীতি করতে পারবেন না…।” অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলেও সত্য যে, বঙ্গবন্ধুর এহেন উদাত্ত আহবান এবং সনির্বন্ধ অনুরোধ সত্ত্বেও দুর্নীতি কমেনি এবং বন্ধ হয়নি। কোন একজন দুর্নীতিবাজই দুর্নীতি করা থেকে বিরত হননি। বরং দুর্নীতি এবং দুর্নীতিবাজের সংখ্যা দিনদিন বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে।

75। বহুল আলোচিত-সমালোচিত বাকশাল (বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ) প্রবর্তনের পর নবনিযুক্ত জেলা গভর্নরদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ১৯৭৫ এর ২১শে জুলাই প্রদত্ত ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেন- “… কিন্তু শুধু নিজেরা ঘুষ খাওয়াই করাপশন নয়। এ সম্বন্ধে আমার কথা হলো- করাপ্ট পিপলকে সাহায্য করাও করাপশন। নেপোটিজম ও কিন্তু এ টাইপ অফ করাপশন। স্বজন প্রীতি ও কিন্তু করাপশন। আপনারা এসব বন্ধ করুন। স্বজন প্রীতি ছেড়ে দিলে আপনারা করাপশন বন্ধ করতে পারবেন। আর আজ আমার কাছে তওবা করে যান যে, স্বজন প্রীতি করবেন না, ঘুষখোরদের সাহায্য করবেন না…।” সুতরাং ঘুষ, দুর্নীতি, দুর্নীতিবাজ এবং বুদ্ধিবৃত্তিক অসততা ও দুর্নীতি (Intellectual dishonesty and corruption) -এর ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু কতটা সোচ্চার, উদ্বিগ্ন, উৎকণ্ঠিত এবং প্রতিবাদ মুখর ছিলেন উপরোল্লিখিত পৃথক পৃথক ভাষণ গুলিতে প্রদত্ত বক্তব্য সমূহ পর্যালোচনা করে তা’ খোলা চোখেই পরিলক্ষিত হয়। অপ্রিয় হলেও সত্য যে, ঘুষ এবং দুর্নীতির ব্যাপারে বঙ্গবন্ধুর উপরোক্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ের আক্ষেপ, অভিব্যক্তি এবং মর্মবেদনা সত্ত্বেও বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই ব্যাপকভিত্তিক দুর্নীতি অদ্যাবধি বহাল তবিয়তে বিদ্যমান রয়েছে।

৭৫। বঙ্গবন্ধুর প্রজ্ঞা এবং তাৎক্ষণিক তথা উপস্থিত বুদ্ধি অত্যন্ত তীক্ষ্ণ এবং প্রশংসনীয় ছিল। এ প্রসঙ্গে প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান তাঁর সুচিন্তিত একটি আর্টিকেলে উল্লেখ করেছেন- “শেখ মুজিবের প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব ও ছিল বিস্ময়কর। নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াকুব গাওয়ান যখন বলেন, ‘অবিভক্ত পাকিস্তান একটি শক্তিশালী দেশ। কেন আপনি দেশটাকে ভেঙ্গে দিতে গেলেন?’ উত্তরে শেখ মুজিব বললেন- ‘শুনুন মহামান্য রাষ্ট্রপতি! আপনার কথাই হয়তো ঠিক। অবিভক্ত
পাকিস্তান হয়তো শক্তিশালী ছিল। কিন্তু তার চেয়েও শক্তিশালী হয়তো হতো অবিভক্ত ভারত এবং সেসবের চেয়েও শক্তিশালী হতো সংঘবদ্ধ এশিয়া। আর মহা শক্তিশালী হতো এক জোটে এই বিশ্বটি। কিন্তু মহামান্য রাষ্ট্রপতি, সবকিছু চাইলেই কি পাওয়া যায়?” [দ্রঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে কিছু কথা-মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান, (প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা; সূত্রঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মারক গ্রন্থ, প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা- ৯৭)]। যে কোন শুভবুদ্ধি সম্পন্ন ব্যক্তি মাত্রই স্বীকার করবেন যে, বঙ্গবন্ধুর উপরোক্ত তাৎক্ষণিক এবং প্রখর বুদ্ধিদীপ্ত জবাবের পর আর দ্বিতীয় কোন প্রশ্ন
করার মতো কোন সুযোগ কিংবা অবকাশই ছিল না। তাই প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াকুব গাওয়ান ও এ ব্যাপারে আর কোন প্রশ্ন করেননি।

৭৭। মানব সভ্যতার ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় আততায়ীদের হাতে মহাপুরুষদের মৃত্যু ইতিহাসে নতুন কোন ঘটনা নয়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে এর ভুরি ভুরি দৃষ্টান্ত তথা উদাহরণ খুঁজে পাওয়া যায়। অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে, মহাজ্ঞানী সক্রেটিসের মৃত্যু হয়েছে হেমলক বিষ পান করে। যিশু খ্রিষ্টের মৃত্যু হয়েছে ক্রুশবিদ্ধ হয়ে। ঘাতকের গুলিতে অত্যন্ত নির্মমভাবে প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন আব্রাহাম লিংকন, মহাত্মা গান্ধী, প্যাট্রিস লুবুম্বা, মার্টিন লুথার কিং এবং জন এফ কেনেডি সহ আরও অনেকে। কালজয়ী এই সব মহাপুরুষদের কাতারেই রয়েছেন আমাদের জাতির জনক
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব। মৃত্যুর ভয়ে তিনি কখনো ভীত হননি কিংবা তাঁর লক্ষ্য এবং আদর্শ থেকে কখনো সরেও আসেননি। বরং কাজী নজরুলের ভাষায় বলেছেন- “শির দেগা নাহি দেগা আমামা।” ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়- “… মৃত্যুর সামনেও তিনি কখনো মাথা নোয়াননি। তাই তাঁর (বঙ্গবন্ধুর) মৃত্যুতে আমাদের অন্তর ফেটে গেলেও কোন দুঃখ নেই। কেননা তিনি তো ইতিহাসের মহাসমুদ্রে মিশে রয়েছেন। তাঁকে আমরা যুগ যুগ ধরে খুঁজে পাব মহাসমুদ্রের প্রতিটি ঢেউয়ে।” [দ্রঃ বঙ্গবন্ধুঃ ইতিহাসের মহানায়ক- বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ হোসেন; সূত্রঃ বাংলার কথা- বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ হোসেন,মুক্তধারা প্রকাশনী, ১৯৮৬, পৃষ্ঠা- ১১]।

৭৮। ইতিহাস সচেতন ব্যক্তি মাত্রই জানেন ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত উমর (রাঃ) মসজিদুন নববীতে নামাজরত অবস্থায় পাপিষ্ঠ ঘাতক আবু লুলু ফিরোজ নামক এক ক্রীতদাসের অতর্কিত ছুরিকাঘাতে মারাত্মকভাবে আহত হন। আহত অবস্থায় তিনদিন বেঁচে থাকার পর তিনি শাহাদাত বরণ করেন। নরপশু আততায়ীদের হাতে তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান (রাঃ) খুন হয়েছেন পবিত্র কোরআন পাঠরত অবস্থায়। তিনি নৃশংসভাবে নিহত হওয়ার সময়ে মদীনা মনোয়ারা বিদ্রোহীদের দখলে ছিল। তাই তাঁকে এহেন নির্মমভাবে হত্যা করা সত্ত্বেও তাঁর লাশ তাৎক্ষণিকভাবে দাফন করা সম্ভব হয়নি। এমতাবস্থায় তাঁর রক্তরঞ্জিত নিথর মৃতদেহ তিনদিন পর্যন্ত পরিত্যক্ত অবস্থায় তাঁর গৃহেই পড়ে থাকে। অতঃপর গভীর রাতে হযরত আলী (রাঃ) তাঁর দুই পুত্র সহ আরও কয়েকজন সাহাবীদের সহযোগিতায় জান্নাতুল বাকীতে তাঁকে কবরস্থ করেন। হজরত উসমান (রাঃ) -এর রক্তরঞ্জিত কোরআন বর্তমানে তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরের জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে।

৭৯। পরবর্তীকালে কুফার মসজিদে নামাজরত অবস্থায় নরাধম ঘাতকদের হাতে নিহত হয়েছেন চতুর্থ খলিফা হযরত আলী (রাঃ)। অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে, রাসুল (সাঃ) -এর অত্যন্ত প্রিয় এবং “আশারা আল মোবাশ্বের” উপরোক্ত তিন তিন জন খলিফাদেরকে কোন অমুসলিম কিংবা বিধর্মীদের কেউ হত্যা করেনি। তাদেরকে হত্যা করেছে মুসলিম নামধারী কতিপয় পাপিষ্ঠ নরপিশাচ। অত্যন্ত হৃদয়বিদারক এবং নিদারুণভাবে অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, উপরোক্ত মহান খলিফাত্রয় নির্মমভাবে নিহত হলেও তাঁদের কারও হত্যারই কোন বিচার হয়নি। মুসলিম নামধারী যে সমস্ত ভণ্ড মুনাফিকরা রাসুল (সাঃ) -এর জীবদ্দশায় তাঁর সাথে বেঈমানী এবং বিভিন্নভাবে বিশ্বাসঘাতকতা করেও কোনভাবেই পেরে উঠেনি, তিনি জান্নাতবাসী হওয়ার পর সেই সমস্ত নাফরমান এবং কুলাঙ্গার মুসলমান নামধারীরাই রাসুল (সাঃ) -এর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং প্রিয়ভাজন উপরোক্ত খলিফাগণ এবং
পরবর্তীকালে তাঁদের বংশধরদের উপর বিভিন্নভাবে প্রবল প্রতিশোধ নিয়েছে। আর একেই বলে জিঘাংসা।

৮০। আমাদের প্রাণপ্রিয় বাংলাদেশে ও স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীগণ তাদের যে জিঘাংসা এবং প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে, সেই জিঘাংসার ইতিহাস সারা পৃথিবীর ইতিহাসে যেমন রয়েছে তেমনই রয়েছে ইসলামের ইতিহাসেও। মহানবী (সাঃ) -এর অন্যতম সাহাবী মুয়াবিয়ার পুত্র এজিদের চক্রান্তে মোহররম মাসের দশ তারিখ তথা পবিত্র আশুরার দিনে কারবালা প্রান্তরে অত্যন্ত মর্মান্তিকভাবে শাহাদাত বরণ করেন রাসূল (সাঃ) -এর অত্যন্ত প্রিয় দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসেন (রাঃ)। কিন্তু উমাইয়া খলিফারা এই দিনটিকে ইতিপূর্বে উৎসবের দিন হিসেবে পালন করতো। এই জন্য যে, এই দিন তারা নবীর বংশকে
খতম করে দিতে সক্ষম হয়েছে। কতটা জঘন্য, কুরুচিপূর্ণ এবং নিকৃষ্টতম মন-মানসিকতায় তারা আচ্ছন্ন, প্রচ্ছন্ন এবং নিমগ্ন ছিলেন তাদের এহেন ন্যক্কারজনক এবং ধিক্কারজনক কার্যক্রমের মাধ্যমেই তা প্রমাণিত হয়। প্রায় দুই শত বছর পর
মুসলমানদের এই ভুল ভাঙ্গে। সেদিন থেকেই তারা কাঁদতে শুরু করে এবং মর্সিয়া গাইতে শুরু করে। সেই কান্নার ধ্বনি-প্রতিধ্বনি এবং সেই মর্সিয়া আজও থামেনি। কোনদিন থামবেও না।

ড. মোঃ ফজলুর রহমান, সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ (অবঃ), লেখক ও কলামিস্ট

(চলবে)

বি রি/ ইবিটাইমস/এম আর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »