মহাকালের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু

২য় পর্ব 

 ডঃ মোঃ ফজলুর রহমানঃ ১১। পরবর্তীকালে উপরোক্ত স্বৈরশাসক জেনারেল ইয়াহিয়া খান দুর্দান্ত প্রতাপে প্রেসিডেন্ট থাকাবস্থায় তার অধীনে এবং দেশে পূর্ণ মাত্রায় সামরিক আইন বহাল ও বিদ্যমান থাকাবস্থায় Legal Framework Order (LFO) -এর অধীনে বিগত ১৯৭০ সনে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে অখণ্ড পাকিস্তানে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে আওয়ামী লীগ। এমতাবস্থায় ১৯৭১ -এর ৩রা মার্চ তৎকালীন পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের অধিবেশন আহবান করা হয়। কিন্তু ১৯৭১ এর ১লা মার্চ বেতার ও টিভিতে প্রচারিত ভাষণের মাধ্যমে অপরিণামদর্শী প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খান জাতীয় সংসদের অধিবেশন অনির্দিষ্ট কালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন। ফলে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে পুরো বাঙালি জাতি। এই সময়ে অসীম সাহস, পরম ধৈর্য এবং অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে দেশ ও জাতিকে নেতৃত্ব দিতে থাকেন বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু। তাঁরই বলিষ্ঠ, সুচিন্তিত এবং সুপরিকল্পিত দিকনির্দেশনার আলোকে পাকিস্তানী স্বৈরশাসকদের কবল থেকে দেশমাতৃকাকে মুক্ত করার নিমিত্তে মুক্তিপাগল বাঙালি অত্যন্ত সোচ্চার এবং প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠে। পরে যথারীতি এবং যথাসময়ে তার বিস্ফোরণ ও ঘটে।

১২। দেশবাসী জানেন যে, ১৯৭১ সনে বঙ্গবন্ধুর ডাকে মার্চের প্রথম থেকেই তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে তথা সারা বাংলায় চলছিল হরতাল এবং অবরোধ সহ অসহযোগ আন্দোলন। এহেন স্বতঃস্ফূর্ত হরতাল এবং অবরোধের কর্মসূচী চলমান থাকাবস্থায় এসে গেল বহুল আকাঙ্ক্ষিত ৭ই মার্চের সেই ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণ। বাঙালির স্বাধিকার এবং স্বাধীনতার ইতিহাসে ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ একটি ঐতিহাসিক এবং রক্ত ঝরা দিন। এই দিন বঙ্গবন্ধু মুজিব তৎকালীন রমনা রেস কোর্স (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ময়দানে মুক্তিপাগল দশ লক্ষাধিক লোকের বিশাল জন সমাবেশে অমিত তেজ ও পৌরুষদীপ্ত কণ্ঠে অত্যন্ত সাবলীল ও প্রাঞ্জল ভাষায় মাত্র ১৯ মিনিটে কালজয়ী এবং সুদূরপ্রসারী এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। সময় জ্ঞান, গুরুত্ব এবং তাৎপর্যের দিক দিয়ে উক্ত ভাষণের বক্তব্য সমূহ সারা বিশ্বের ইতিহাসে বিরল। শব্দ চয়ন, বাক্য বিন্যাস, বাক্য সংযোজন, কূটনৈতিক প্রজ্ঞা এবং দিক নির্দেশনার দিক দিয়ে উক্ত ভাষণটি ছিল স্বাধীনতা কামী বাঙালির দুর্গম এবং দুরতিক্রম্য পথের প্রান্তে এক অত্যুজ্জ্বল আলোকবর্তিকা।

১৩। স্বাধীনতার অগ্নিমন্ত্রে উজ্জীবিত এবং স্পন্দিত প্রায় প্রতিটি বাঙালিরই ধারণা ছিল বঙ্গবন্ধু এই দিন হয়তোবা স্বাধীনতার ঘোষণা দিবেন। কিন্তু তা না দেয়া সত্ত্বেও অত্যন্ত মর্মস্পর্শী এবং তেজোদীপ্ত বক্তব্য প্রদানের মাধ্যমে বাঙালির স্বাধীনতার দাবিকে তিনি অত্যন্ত জোরালো এবং অবশ্যম্ভাবী করে তুলেন। তাই এই ভাষণের গুরুত্ব এবং অন্তর্নিহিত তাৎপর্য সমূহ অনুধাবন করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় এবং প্রভাবশালী সাময়িকী Newsweek তাদের ১৯৭১ এর ৫ই এপ্রিল প্রকাশিত প্রচ্ছদ নিবন্ধে বঙ্গবন্ধুকে “Poet of politics” বা “রাজনীতির কবি” হিসেবে অভিহিত করা হয়। [দ্রঃ সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালির শ্রেষ্ঠ ভাষণ – আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, উপাচার্য (প্রাক্তন), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সূত্র- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মারক গ্রন্থ, তৃতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৭০৩]। পরবর্তীকালে উপরোক্ত ভাষণের গতি প্রকৃতি বিচার বিশ্লেষণ করে সারা বিশ্বের প্রায় সকল নামী দামী পত্রিকায় বিভিন্ন ধরনের প্রশংসামূলক সংবাদ প্রকাশ করা হয়। এরই পাশাপাশি এই ভাষণের বক্তব্য উদ্ধৃত করে অনেক সম্পাদকীয় এবং উপসম্পাদকীয় ও লেখা হয়।

১৪। ১৩০৮ টি শব্দের ঐ ভাষণে বঙ্গবন্ধু প্রতি মিনিটে গড়ে ৬৮ – ৭০ টি শব্দ উচ্চারণ করেন। এই ভাষণটি ছিল অলিখিত এবং পূর্বপ্রস্তুতিবিহীন (Extemporary) একটি স্বতঃস্ফূর্ত (Spontaneous) ভাষণ। কিন্তু তা সত্ত্বেও এই ভাষণে কোন বিরক্তিকর পুনরাবৃত্তি নেই। কোন বাহুল্য শব্দ কিংবা বাক্য ও নেই। আছে শুধু অতি মূল্যবান কিছু সার কথা এবং সার মর্ম। অবশ্য দুই একটি স্থানের পুনরাবৃত্তি তাঁর বক্তব্যের মাধুর্য, ভাব গাম্ভীর্য এবং অন্তর্নিহিত তাৎপর্যকে অধিক পরিমাণে বেগবান, বাঙময় এবং প্রাণবন্ত করেছে। স্বীকৃত মতেই এই ভাষণে বঙ্গবন্ধু সরাসরি স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি। কিন্তু তা না দেয়া সত্ত্বেও উত্তাল জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে সবার চোখের সামনে এবং অত্যন্ত সহজ, সরল ও সাবলীল ভাষার কারুকার্যে কখনো আবেগ তাড়িতভাবে আবার কখনোবা অত্যন্ত প্রত্যয় দৃঢ় কণ্ঠে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা এবং রণ প্রস্তুতির যে আহবান জানান পাকিস্তানী সামরিক জান্তারা তাতে বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে যান। পাকিস্তানীদের সাথে যে আর একতাবদ্ধ থাকা সম্ভব নয় বঙ্গবন্ধুর এই সুদূরপ্রসারী এবং যুগান্তকারী ভাষণের মাধ্যমে তা দেশবাসীর নিকট দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়ে যায়।

১৫। সচেতন ব্যক্তি মাত্রই জানেন পাকিস্তানী স্বৈরাচারী শাসকদের অগণতান্ত্রিক শাসনের কারণে বিভিন্নভাবে নির্যাতিত, নিপীড়িত এবং অধিকার বঞ্চিত বাঙালি বরাবরই ছিল ক্ষুব্ধ, বিক্ষুব্ধ এবং সংক্ষুব্ধ। তাই বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণের মাধ্যমে তারা স্বাধীনতার প্রশ্নে নিদারুণভাবে আপোষহীন এবং প্রচণ্ডভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে উঠে। তাই অধিকার হারা বাঙালি জাতির হাজার বছরের ইতিহাসে ৭ই মার্চ একটি অবিস্মরণীয় দিন। এই দিনের ভাষণে বঙ্গবন্ধু বাঙালির দায়িত্ব ও কর্তব্যসমূহ নির্ধারণের পাশাপাশি অত্যাসন্ন মুক্তিযুদ্ধে তাদের করণীয় ও নির্ধারণ করে দেন। তাই রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বঙ্গবন্ধুর এই বলিষ্ঠ, প্রাণবন্ত এবং তেজোদীপ্ত ভাষণ সকল মুক্তিযোদ্ধাদের নিকট অফুরন্ত প্রেরণার উৎস এবং অমোঘ বজ্রকণ্ঠ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এরই পাশাপাশি সারা বিশ্বের শোষিত, বঞ্চিত এবং মুক্তিকামী মানুষদেরকেও বঙ্গবন্ধুর এই কালজয়ী ভাষণ সবসময় সাহস এবং অনুপ্রেরণা যুগিয়ে যাবে বলে আজ সর্বমহলে বিবেচিত হচ্ছে।

১৬। উপরোল্লিখিত ভাষণের মাধ্যমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু অধিকার বঞ্চিত বাঙালির হাজার বছরের বঞ্চিত হৃদয়ের সঞ্চিত বেদনা তাঁর বিজ্ঞ এবং প্রাজ্ঞ বক্তৃতা শৈলীর মাধ্যমে কখনো আবেগ, কখনো যুক্তি, কখনো প্রশ্ন আবার কখনোবা জোরালো দিক নির্দেশনার মাধ্যমে দেশবাসীর পাশাপাশি বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরেন। দেশপ্রেমিক বাঙালি মাত্রই জানেন বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের এই ঐতিহাসিক এবং অত্যন্ত ছন্দময় ও কাব্যিক ভাষণটিই বাঙালির স্বাধীনতার মূল মন্ত্র এবং মূল সূত্র। এরই পাশাপাশি এই ভাষণ আমাদের স্বাধীনতার Magna Carta ও বটে। বঙ্গবন্ধুর এই তেজোদীপ্ত, প্রাণবন্ত, মর্মস্পর্শী এবং অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহী ভাষণের মাধ্যমে অধিকার বঞ্চিত বাঙালি জাতি বর্বর পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মরণপণ যুদ্ধে লিপ্ত হওয়ার দুর্দমনীয় সাহস এবং অফুরন্ত অনুপ্রেরণায় উজ্জীবিত হয়। পরবর্তীকালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রণাঙ্গনে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নিকট এই কালজয়ী ভাষণের প্রতিটি শব্দ এবং বাক্য অগ্নিমন্ত্র হিসেবে কাজ করে।

১৭। বঙ্গবন্ধু তাঁর ৭ই মার্চের উপরোক্ত কালজয়ী ভাষণে বলেন- “… তোমাদের কাছে আমার অনুরোধ রইলো, প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো। তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে এবং জীবনের তরে রাস্তা ঘাট যা যা আছে সব কিছু – আমি যদি হুকুম দিবার না ও পারি তোমরা বন্ধ করে দিবে। আমরা ভাতে মারবো, আমরা পানিতে মারবো।” তিনি আরও বলেন- “… সরকারী কর্মচারীদেরকে বলি, আমি যা বলি তা মানতে হবে। যে পর্যন্ত আমার দেশের মুক্তি না হয়, ততদিন খাজনা ট্যাক্স বন্ধ করে দেয়া হলো- কেউ দিবেনা” উপরোক্ত ভাষণের শেষ পর্যায়ে বঙ্গবন্ধু বলেন- “রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরও দিব। এই দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইন্‌শা আল্লাহ্‌। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।” মহান মুজিবের ঘোর বিরোধী এবং তাঁর চিরশত্রুরাও স্বীকার করেন যে, উপরোক্ত অত্যন্ত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন (Clear-cut and unequivocal) বক্তব্যসমূহের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু আমাদেরকে আমাদের করণীয় সম্পর্কে সুস্পষ্ট এবং সুনির্দিষ্ট দিক নির্দেশনা প্রদান করেছেন।

১৮। দেশবাসী নিশ্চয়ই জানেন ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর ডাকে মার্চের প্রথম থেকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে তথা সারা বাংলাদেশে স্বতঃস্ফূর্ত হরতাল-অবরোধ এবং সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলন চলতে থাকে। প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ্য যে, ভারতের জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধী বিগত ১৯১৯ সালের ১লা আগস্ট ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন। সে আন্দোলন ব্যাপকভাবে জনসমর্থন পেলেও প্রকৃতিতে ছিল নিস্ক্রিয় এবং নিরুত্তাপ। তাই তার সাফল্য ছিল পরোক্ষ এবং আংশিক। কেননা মহাত্মার পক্ষে জনগণের ম্যান্ডেট ছিল না। তাই তার অসহযোগ আন্দোলনের ভিত্তি ছিল দুর্বল। পক্ষান্তরে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে ছিল দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের বিশাল নির্বাচনী ম্যান্ডেট। তাই পাকিস্তানী শাসকবর্গের শোষণ বঞ্চনার অবসানের লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুর ডাকা অসহযোগ আন্দোলন ছিল আমাদের স্বাধীনতার লক্ষ্যে চূড়ান্ত এবং সফল পদক্ষেপ। ফলে এই আন্দোলনের মাধ্যমে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের শাসন কার্যক্রম তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে পুরোপুরিভাবে শিথিল হয়ে পড়ে। এহেন অবস্থায় বঙ্গবন্ধুর উপরোক্ত ভাষণের পর থেকে সেই আন্দোলন সারা দেশে বাঁধ ভাঙ্গা জোয়ারের মতো অত্যন্ত বেগবান এবং অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠে। এরই ফলশ্রুতিতে পাকিস্তান সরকারের শাসন শুধুমাত্র সেনা নিয়ন্ত্রিত ক্যান্টনমেন্ট ছাড়া তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে সম্পূর্ণভাবে অচল এবং অকার্যকর হয়ে পড়ে।

১৯। বিগত ১৯৭১ সনে সারা পাকিস্তানে সামরিক আইন (Martial Law) বলবত ছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও সমগ্র বাঙালি জাতি বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দেন। ফলে সামরিক শাসন বিকল এবং অকার্যকর হয়ে যায়। এমতাবস্থায় বঙ্গবন্ধুর দিক নির্দেশনা অনুযায়ী পূর্ব পাকিস্তান পরিচালিত হতে থাকে। আর তাই ইতিহাসের পাতায় স্থান পাওয়া এই অসাধারণ অসহযোগ আন্দোলন বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে চরমভাবে সফলতা লাভ করে। এই আন্দোলন চলাকালে দেশের কোথাও কোন অঘটন কিংবা কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। বিস্ময়কর হলেও সত্য যে, এই সময়ে জনতার উপর বঙ্গবন্ধুর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছিল। দেশের জনগণ তাঁর আদেশ, নির্দেশ বেদবাক্যের মতো মান্য করেছেন। সামরিক শাসন বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও দেশের এহেন টালমাটাল (Turbulent) এবং বিস্ফোরণন্মুখ (Explosive) অবস্থায় পাকিস্তানের সামরিক জান্তা দিশেহারা হয়ে পড়েন। ফলে কোন উপায়ান্তর না দেখে তারা বঙ্গবন্ধুর সাথে আলোচনায় বসেন। ঢাকার মিন্টো রোডে অবস্থিত প্রেসিডেন্ট হাউজে বেশ কয়েকদিন ধরে আলোচনা চললো। কিন্তু ৬ (ছয়) দফার সমর্থনে দেশবাসীর ম্যান্ডেট পাওয়া বঙ্গবন্ধু তাঁর ঘোষিত উপরোক্ত ছয় দফার প্রতিটি দফার ব্যাপারেই থাকলেন অটল, অনড় এবং অবিচল। ফলে আলোচনা ফলপ্রসূ হলো না।

২০। এমতাবস্থায় স্বাধীনতাকামী নিরস্ত্র পূর্ব পাকিস্তানবাসীর উপর সশস্ত্র আক্রমণের নির্দেশ দিয়ে ২৫শে মার্চ মধ্যরাতে পূর্ব পাকিস্তান ছেড়ে যান অবিমৃষ্যকারী প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খান। তার নিকট থেকে এহেন সরাসরি দিক নির্দেশনা পেয়ে বর্বর পাকিস্তানী সেনাবাহিনী রাতের অন্ধকারে সর্বশক্তি নিয়ে ঘুমন্ত দেশবাসীর উপর অতর্কিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এরই পাশাপাশি তাদের পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী রাত ০১-২০ মিনিটের সময়ে তারা বঙ্গবন্ধুকে তাঁর ৩২ নং ধানমন্ডির বাসভবন থেকে গ্রেফতার করে। পোড় খাওয়া এবং অত্যন্ত প্রাজ্ঞ ও দূরদর্শী রাজনীতিবিদ বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানীদের এহেন মনোভাব আগেই আঁচ করতে পেরেছিলেন। তাই তিনি গ্রেফতারের পূর্বে ২৫শে মার্চের মধ্য রাত শেষে তথা ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে রাত ০১-০১ মিনিটের সময়ে আগেই রেকর্ড করা স্বাধীনতার ঘোষণা EPR (East Pakistan Rifle) -এর ওয়্যারলেস মেসেজের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু মুজিব নিজে স্বয়ং স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। যা আমাদের সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলে বর্ণিত রয়েছে। ঐ রাতের ঘোষণায় বঙ্গবন্ধু বলেন-Declaration of Independence- “This may be my last message. From today Bangladesh is independent. I call upon the people of Bangladesh wherever you might be and with whatever you have, to resist the army of occupation to the last. Your fight must go on until the last soldier of the Pakistan occupation army is expelled from the soil of Bangladesh and final victory is achieved. Joy Bangla.” [দ্রঃ ষষ্ঠ তফসিল, বাংলাদেশের সংবিধান; সূত্রঃ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধঃ দলিলপত্র, তৃতীয় খণ্ড, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, পৃষ্ঠা- ১]।

ডঃ মোঃ ফজলুর রহমান, সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ (অবঃ) , লেখক ও কলামিস্ট 

(চলমান)

বি আর/ ইবিটাইমস/ এম আর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »