মহাকালের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু

১ম পর্ব 

 ডঃ মোঃ ফজলুর রহমানঃ ১। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সনের ১৭ই মার্চ তৎকালীন ফরিদপুর এবং বর্তমানে গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় প্রখ্যাত শেখ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম শেখ লুৎফর রহমান এবং মাতার নাম সায়রা খাতুন। চার বোন এবং দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়। শৈশবকাল থেকেই বঙ্গবন্ধু ছিলেন নির্ভীক, সাহসী, দয়ালু এবং পরোপকারী। এরই পাশাপাশি স্কুলে পড়ার সময়েই তাঁর মধ্যে নেতৃত্বের বিভিন্ন গুণাবলী পরিস্ফূট হয়ে উঠে। কালক্রমে তিনি হয়ে উঠেন শোষিত, বঞ্চিত বাংলা মায়ের আবালবৃদ্ধবণিতার অধিকার আদায়ের অফুরন্ত উৎস এবং শেষ ভরসাস্থল।

২। ক্ষণজন্মা বঙ্গবন্ধু তাঁর বাল্যকাল থেকেই ছিলেন অত্যন্ত হৃদয়বান, মানবদরদী এবং অধিকার আদায়ে সোচ্চার ও আপোষহীন। বঙ্গবন্ধুর পূর্বপুরুষদের গড়ে তোলা গিমাডাঙ্গা- টুঙ্গিপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাত বছর বয়সে ভর্তির মাধ্যমে তাঁর শিক্ষাজীবন শুরু হয়। পরে গোপালগঞ্জ মিশনারি স্কুল থেকে মেট্রিক পাশ করে কলকাতায় ইসলামিয়া কলেজে ভর্তি হন। তখন তিনি বেকার হোস্টেলে থাকতেন। এই সময়ে তিনি গণতন্ত্রের মানসপুত্র হিসেবে খ্যাত হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সংস্পর্শে আসেন। পরে একসময়ে তিনি হলওয়ে মনুমেন্ট আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়েন। ফলে এই সময় থেকেই রাজনীতিতে বঙ্গবন্ধুর সক্রিয় অংশগ্রহণ শুরু হয়। পরবর্তীকালে ১৯৪৬ সনে তিনি বি, এ পাশ করেন।

৩। পাক-ভারত স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হন। এই বিভাগের ছাত্র থাকাবস্থায় তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের আন্দোলনে তিনি সমর্থন দেন এবং সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। পরে সচিবালয়ের সামনে অবস্থান ধর্মঘট করতে গিয়ে গ্রেফতার হন। অল্প কয়েকদিন পর মুক্তি পান। তারও পরে ১৯৪৮ সনের ১১ই মার্চ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের দাবিতে সাধারণ ধর্মঘট পালনকালে বঙ্গবন্ধুকে আবারও গ্রেফতার করা হয়। প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ্য যে, “… সভা- সমিতি এবং শোভাযাত্রা-হরতাল সংগঠনের অভিযোগে ১৯৪৮ -এর মার্চ ও সেপ্টেম্বরে দু’বার তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধস্তন কর্মচারীদের স্বার্থ রক্ষার সংগ্রামে নেতৃত্ব দেয়ার অপরাধে ১৯৪৯ সালের মার্চ মাসে তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়। সে সময় কয়েকজন আন্দোলনকারী ভবিষ্যতে সৎ আচরণের মুচলেকা দিলে তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। কিন্তু শেখ মুজিব কোন মুচলেকা না দেয়ায় তাঁর বহিষ্কারাদেশ বহাল থাকে…।” [দ্রঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে কিছু কথা- মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান, (প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা, সূত্র- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মারক গ্রন্থ, প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা- ৮৯)]।

৪। পরবর্তীকালে ১৯৪৮ সন থেকে ১৯৫২ সন পর্যন্ত তিনি বারবার কারারুদ্ধ হন। এহেন অবস্থায় কখনো জেলে থেকে আবার কখনোবা জেলের বাইরে থেকে তিনি ভাষা আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। ১৯৫২ সনের ২১শে ফেব্রুয়ারির রক্তাক্ত এবং বিয়োগান্তক ঘটনার সময়ে কারান্তরীণ থাকা অবস্থায় তিনি বিভিন্নভাবে এই আন্দোলনের দিক নির্দেশনা প্রদান করেন। তাই বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, তিনি ছাত্রজীবনে অত্যন্ত প্রতিবাদী, যৌবনে রাজনৈতিক কর্মী, সেখান থেকে প্রভূত সম্ভাবনাময় রাজনীতিক, তারও পরে দক্ষ, অভিজ্ঞ এবং পরিপক্ক Statesman, সবশেষে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের স্বপ্নদ্রষ্টা ও স্থপতি- এভাবেই ধাপে ধাপে এবং পর্যায়ক্রমে উত্তরণ ঘটেছে শেখ মুজিবের। তিনি বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন এবং সংগ্রামী ঐতিহ্যের মূর্ত প্রতীক। এরই পাশাপাশি তিনি শোষিত, বঞ্চিত বাঙালির প্রতিবাদী চেতনার অফুরন্ত প্রেরণার উৎস।

৫। ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকালে দেখা যায় তথাকথিত দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে বিগত ১৯৪৭ ইং সনে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছে। ঐ সময়ে পুরো পাকিস্তানের জনসংখ্যা ছিল ১৩ কোটি ১৮ লাখ। তন্মধ্যে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জনসংখ্যা ছিল ৭ কোটি ২০ লাখ এবং পশ্চিম পাকিস্তানের লোকসংখ্যা ছিল ৫ কোটি ৯৮ লাখ। ঐ সময়ের সরকারী আদমশুমারি পর্যালোচনা করলে কিংবা গুগলে সার্চ দিলে উপরোক্ত জনসংখ্যার ব্যাপারে সন্দেহমুক্ত হওয়া যাবে। সুতরাং স্বীকৃত মতেই গোটা পাকিস্তানের মোট জনগোষ্ঠীর ৫৬% অর্থাৎ সংখ্যাগরিষ্ঠ জনসাধারণের বাসভূমি ছিল তৎকালীন পূর্বপাকিস্তান (বর্তমানে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ)। বিগত ১৯৪৭ সনে ২৭ বছরের টগবগে তরুণ নেতা শেখ মুজিব পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠালগ্নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। কিন্তু অপ্রিয় হলেও সত্য যে, সদ্য স্বাধীনতা প্রাপ্ত রাষ্ট্র পাকিস্তানে সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালিরা রাজনীতি, অর্থনীতি এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্র সহ প্রায় সব দিক দিয়েই ছিল বঞ্চিত, উপেক্ষিত এবং নিস্পেষিত। এহেন অবস্থায় দুঃখজনক হলেও সত্য যে, পাকিস্তান সৃষ্টির পরপরই মোহাবিষ্ট বাঙালিদের মোহ ভঙ্গ হয়।

৬। অধিকার হারা বাঙালি জাতির দুর্ভাগ্য যে, প্রায় ২০০ বছরের ঔপনিবেশিক শাসকদের জুলুম, অত্যাচার এবং নির্যাতন থেকে মুক্তি লাভ করে সদ্য স্বাধীন পাকিস্তানে তারা একটু হাঁফ ছেড়ে বাঁচতে চেয়েছিল। কিন্তু বিনিময়ে জুটলো লাঞ্ছনা, বঞ্চনা, শোষণ এবং নিপীড়ন। তদুপরি স্বাধীনতা লাভের পর ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা এবং সংস্কৃতি সহ প্রতিটি ক্ষেত্রেই পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের অত্যন্ত পরিকল্পিত এবং বৈষম্যমূলক আচরণ দিনদিনই বৃদ্ধি পেতে থাকে। এরই পাশাপাশি সরকারী-বেসরকারী এবং সামরিক-বেসামরিক বিভিন্ন ধরনের চাকরিতে বাঙালিদের বঞ্চিত করা নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে উঠে। এহেন অবস্থায় দূরদর্শী মুজিব খুব সহজেই বুঝতে পারেন যে, জিন্নাহ সাহেবের পাকিস্তানে বাঙালিদের ন্যায্য অধিকার কোনদিনই প্রতিষ্ঠিত হবে না। এই রাষ্ট্রে বাঙালিরা তাদের ন্যায্য পাওনা এবং মান-সম্মান নিয়ে কোনদিনই বিকশিত হওয়ার কোন সুযোগ পাবে না। এমনকি তাদের মৌলিক এবং নাগরিক অধিকার ও তারা পরিপূর্ণভাবে কোনদিনই ভোগ করতে পারবে না। এমতাবস্থায় ন্যায্য অধিকার না পাওয়ার ক্ষোভ, দুঃখ, বেদনা এবং আর্তনাদ তাদের মনে দিন দিন পুঞ্জীভূত হতে থাকে।

৭। পরবর্তীকালে পাকিস্তান সরকার দেশের ৫৬% মানুষের মুখের ভাষা বাংলাকে কেড়ে নিয়ে মাত্র ১৫% লোকের মুখের ভাষা উর্দুকে সে দেশের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চালু করে। ফলে শোষিত-বঞ্চিত বাঙালি পাকিস্তান সৃষ্টির গোড়ার দিক থেকেই ভাষার দাবিতে সোচ্চার হতে থাকে। এমতাবস্থায় ১৯৪৮ সালের ১১ই মার্চ তরুণ ছাত্রনেতা শেখ মুজিবের নেতৃত্বেই এদেশে ভাষা আন্দোলনের সূচনা হয়। সেদিনই প্রথম ভাষার দাবিতে তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানে ধর্মঘট পালন করা হয়। ঐ দিনের ধর্মঘটে সচিবালয়ের সামনে পিকেটিং করার সময়ে তরুণ নেতা শেখ মুজিবকে গ্রেফতার করা হয়। ফলে পাকিস্তান সৃষ্টির পর সাত মাস পুরো হওয়ার আগেই তিনি গ্রেফতার হন। সদ্য স্বাধীন পাকিস্তানের রাজনীতিতে এটিই তাঁর প্রথম গ্রেফতার। ১৯৪৮ এর ১১ই মার্চ তারিখের উপরোক্ত ঘটনাবলী তথা ঐ দিনের আন্দোলন ও সংগ্রাম নিয়ে বঙ্গবন্ধুর নিজের এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দের ভূমিকা ও কার্যক্রম নিয়ে তিনি তাঁর রচিত অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে বিস্তারিতভাবে আলোকপাত করেছেন। এ ব্যাপারে উক্ত বইয়ের ৯২ – ৯৫ পৃষ্ঠায় আনুপূর্বিক ঘটনাবলী যথারীতি বিবৃত এবং বিধৃত রয়েছে [দ্রঃ অসমাপ্ত আত্মজীবনী, শেখ মুজিবুর রহমান, দ্বিতীয় মুদ্রণ, সেপ্টেম্বর, ২০১২]।

৮। একথা ঐতিহাসিকভাবে সত্য যে, ১৯৫২ সনে মহান ভাষা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৫৪ সনে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৫৮ সনে আইয়ুব খানের সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন, ১৯৬২ সনে শিক্ষা কমিশন বিরোধী আন্দোলন, ১৯৬৬ সনে ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৮ সনে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, ১৯৬৯ -এর গণ অভ্যুত্থান এবং ১৯৭০ এর সাধারণ নির্বাচন সহ বাঙালির সার্বিক মুক্তি এবং অধিকার আদায়ের নিমিত্তে পরিচালিত প্রতিটি গণতান্ত্রিক ও স্বাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন বঙ্গবন্ধুর অত্যন্ত পরিকল্পিত এবং অবিসংবাদিত নেতৃত্বেই পরিচালিত হয়। এজন্য তাঁকে বিভিন্ন সময়ে বহুবার কারাবরণ করতে হয়। এরই পাশাপাশি সহ্য করতে হয় অমানুষিক এবং অবর্ণনীয় নির্যাতন। কিন্তু তা সত্ত্বেও বাঙালির অধিকারের প্রশ্নে তিনি কখনো পিছু হটেননি কিংবা কোন শাসকগোষ্ঠীর সাথে কখনো আপোষ করেননি। তিনি ছিলেন বাঙালি জাতির স্বপ্নদ্রষ্টা এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা।

৯। বাংলাদেশের স্বাধীনতায় যারা বিশ্বাস করেন তারা অবশ্যই স্বীকার করবেন জনতার আন্দোলন এবং তাদের মনস্তাত্ত্বিক চিন্তা ও চেতনা সহ রাজনীতি শাস্ত্রের নির্ভুল বিশারদ ছিলেন বঙ্গবন্ধু। বিগত ১৯৪৮ সালের ৪ঠা জানুয়ারি তিনি ছাত্র লীগ প্রতিষ্ঠা করেন। পরে তাঁর এবং অন্যদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও দূরদর্শিতার ফলে পরের বছর অর্থাৎ ১৯৪৯ সনের ২৩শে জুন আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে মহান মুজিব বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ভাবে এবং সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে আন্দোলনের রূপরেখা প্রণয়ন এবং দিক নির্দেশনা প্রদান করেছেন। তাঁর এহেন রূপরেখা এবং দিক নির্দেশনার মূল লক্ষ্যই ছিল বাঙালির স্বাধীনতা। আর এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই দেশ ও জাতিকে তিনি ধাপে ধাপে উদ্বুদ্ধ করেছেন, অনুপ্রাণিত করেছেন এবং এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন। বাঙালি জাতির প্রতিটি আন্দোলন ও সংগ্রামেই তিনি নিজেকে ওতপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত থেকেছেন এবং সামনের কাতারে থেকে নেতৃত্ব প্রদান করেছেন।

১০। ইতিহাস সচেতন ব্যক্তি মাত্রই জানেন, বাঙালির স্বাধিকার এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দাবি দাওয়া নিয়ে বিভিন্ন ধরনের আন্দোলন ও সংগ্রাম হয়েছে। অধিকার হারা বাঙালি ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করার নিমিত্তে ১৯৫২ তে ভাষা আন্দোলন, ১৯৬২ -তে শিক্ষা কমিশন আন্দোলন, ১৯৬৬ -তে ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ -এ গণ অভ্যুত্থান, ১৯৭০ -এ সাধারণ নির্বাচন এবং সবশেষে ১৯৭১ -এ রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাঙালি জাতি তাদের অধিকার আদায় করে নিয়েছে। উপরোক্ত প্রতিটি আন্দোলনেরই ক্ষেত্র তথা প্রেক্ষাপট এবং পটভূমি ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ছিল ভিন্ন ভিন্ন। বাঙালির জাতীয় মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে উপরোক্ত প্রতিটি আন্দোলনেরই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা ও অবদান রয়েছে। এই সমস্ত সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় তথা ১৯৫২ এবং ১৯৬৬ -এর রক্ত পিচ্ছিল পথ পেরিয়ে ১৯৬৯ -এ অভূতপূর্ব গণ অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। এই গণ অভ্যুত্থানে পাকিস্তানের তৎকালীন স্বৈরাচারী প্রেসিডেন্ট ফিল্ড মার্শাল আইয়ূব খান ক্ষমতাচ্যুত হন এবং জেনারেল ইয়াহিয়া খান ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন। তাই একথা ঐতিহাসিকভাবেই সত্য যে ঊনসত্তরের গণ আন্দোলন এবং গণ অভ্যুত্থান বাঙালির জাতীয় মুক্তির সংগ্রামের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় ও গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় বটে।

ডঃ মোঃ ফজলুর রহমান, সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ (অবঃ) , লেখক ও কলামিস্ট 

(চলমান)

বি আর /ইবিটাইমস /এম আর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »