কবির আহমেদ, ভিয়েনাঃ আরও বেশি প্রাণঘাতী হতে পারে করোনার নতুন ধরন ‘নিওকোভ’। চীনের গবেষকদের দাবি, দক্ষিণ আফ্রিকার বাদুড়ের মধ্যে এটি ছড়িয়ে পড়েছে।
করোনার আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের পরে এবার ‘নিওকোভ’ নামে করোনার আরেকটি ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে। যেটি পূর্বের সব ধরণগুলোর থেকে বেশি প্রাণঘাতী।
গবেষকরা বলছেন, করোনার এই ধরনটি আরও পরিবর্তিত হয়ে ভবিষ্যতে মানুষের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে। নিওকোভ করোনাভাইরাসের সব ধরনের চেয়ে বেশি সংক্রামক ও প্রাণঘাতী হতে পারে। এতে আক্রান্ত প্রতি ৩ জনে একজনের মৃত্যু হতে পারে। প্রচলিত কোনো টিকাই এটি প্রতিরোধে সক্ষম হবে না বলেও শঙ্কা গবেষকদের।
ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যম উহানের বিজ্ঞানীদের এক গবেষণাপত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, উহান ইউনিভার্সিটি এবং চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্সেস ইনস্টিটিউট অব বায়োফিজিক্সের গবেষকরা বলেছেন, মানুষের কোষে নিওকোভের অনুপ্রবেশের জন্য শুধুমাত্র একটি মিউটেশন প্রয়োজন।
গবেষকদের বরাত দিয়ে হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, নিওকোভ মধ্যপ্রাচ্য রেসপিরেটরি সিন্ড্রোমের (মার্স) সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। গবেষণায় বলা হয়েছে, ‘পূর্ব সংক্রমণ বা টিকার ফলে তৈরি হওয়া করোনা প্রতিরোধ ক্ষমতা নিওকোভ সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে অকার্যকর হতে পারে।’
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের উহানের গবেষকরা করোনাভাইরাসের নতুন ওই ধরন শনাক্ত করেছেন। গবেষক দলটির ভাষ্য অনুযায়ী, নিওকোভ ধরনটি এখন পর্যন্ত মানুষকে আক্রান্ত করেনি। তবে এর আরও রূপান্তর ঘটলে তা মানবদেহের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তাঁরা মনে করছেন, মানুষের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে ধরনটির আর একটিমাত্র রূপান্তর প্রয়োজন।
চীনা গবেষকরা বলছেন, ২০১২ সালে সৌদি আরবে শনাক্ত হওয়া ভাইরাস মার্সের (মিডল ইস্ট রেসপিরেটরি সিনড্রোম) সঙ্গে নতুন ধরনটি খুব সংশ্লিষ্ট। এটি মার্স কভের মতোই প্রাণঘাতী এবং বর্তমান করোনাভাইরাসের বিভিন্ন ধরনের মতো উচ্চ সংক্রমণ ক্ষমতাসম্পন্ন হতে পারে। চীনা গবেষকদের শঙ্কা, করোনাভাইরাস প্রতিরোধের জন্য বিদ্যমান অ্যান্টিবডি দিয়ে নিওকোভকে ঠেকানো যাবে না। তবে গবেষণা প্রতিবেদনটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়নি। বায়োআরজিভ ওয়েবসাইটে এর পাণ্ডুলিপি প্রকাশ করা হয়েছে।
এদিকে রুশ বার্তা সংস্থা তাসের এক প্রতিবেদনে নিওকোভ নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ডব্লিউএইচওর বক্তব্যকে উদ্ধৃত করা হয়েছে। গতকাল সংস্থাটি বলেছে, গবেষণায় ভাইরাসের যে ধরন শনাক্ত হয়েছে, এটি মানবদেহের জন্য হুমকি হবে কীনা- তা নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন।
ডব্লিউএইচও বলছে, যেসব ভাইরাস মানবদেহকে আক্রান্ত করে, তার ৭৫ শতাংশেরই উৎস বন্য প্রাণী। বাদুড়সহ বিভিন্ন প্রাণীর শরীরে প্রায়ই বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস শনাক্ত হয়। এসব ভাইরাসের বেশির ভাগেরই প্রাকৃতিক ভান্ডার হিসেবে বাদুড়কে অভিহিত করা হয়।
ডব্লিউএইচও বলেছে, প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে তারা নিবিড়ভাবে কাজ করছে। আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার আগেই গবেষণার তথ্য দেওয়ায় চীনা গবেষকদের প্রতিও ধন্যবাদ জানিয়েছে সংস্থাটি।
কেআ/ইউরোবাংলাটাইমস/আরএন