কবির আহমেদ, ভিয়েনাঃ চলমান করোনা সংক্রমণের অতি ঝুঁকিপূর্ণ লাল জোনে অবস্থান করছে অস্ট্রিয়া। বর্তমানে অস্ট্রিয়ায় করোনা শনাক্তের বেশিরভাগই ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত।
বৃহস্পতিবার(২৭ জানুয়ারী) অস্ট্রিয়ায় করোনার নতুন সংক্রমণের এক রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার সকাল
থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় করোনার
নতুন সংক্রমন রেকর্ড করা হয়েছে ৪৩,০৫৩ জন।
অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় তাদের নিয়মিত করোনার আপডেটে জানিয়েছে ,আজ অস্ট্রিয়ায় করোনায় সংক্রামিত শনাক্ত হয়েছে ৩৭,০৪৪ জন। তবে ভিয়েনায় গত কয়েকদিন পূর্বে ডাটায় সমস্যা থাকার কারনে করোনার নতুন সংক্রমন গণনায় ৬,০০৯ জন বাদ পড়েছিল। সেই বাদ পড়া সংখ্যা নতুনভাবে যুক্ত করা হয়েছে।
ভিয়েনা রাজ্য ও সিটির স্বাস্থ্য বিষয়ক কাউন্সিলর পিটার হ্যাকার(SPÖ) অফিসের মুখপাত্র মারিও ডুজাকোভিচ এক টুইট বার্তায় জানিয়েছেন,
যান্ত্রিক ত্রুটিজনিত কারনে ভিয়েনার ৬,০০৯ জনের
আক্রান্তের রিপোর্ট কিছুটা দেরীতে আজ হাতে এসেছে।
তিনি তার বার্তায় আরও বলেন, এপিডেমিওলজিক্যাল রিপোর্টিং সিস্টেমে (ইএমএস) প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে গত কয়েকদিন অসংখ্য নতুন সংক্রমণের সংখ্যা নিবন্ধন করা যায় নি। ফলে আজ গত কয়েক দিনের সংক্রমণ সংযুক্ত হওয়ায় নতুন সংক্রমণের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
অস্ট্রিয়ার কোভিড পূর্বাভাস কনসোর্টিয়াম জানুয়ারীতে করোনার সংক্রমণের যে সংখ্যার কথা বলেছিল, সংক্রমণ তার চেয়েও অনেক বেশী বিস্তার লাভ করছে।
এদিকে আজ অস্ট্রিয়ার করোনার ট্র্যাফিক লাইট কমিশন তাদের নিয়মিত সাপ্তাহিক বৈঠকে সমগ্র অস্ট্রিয়াকে অব্যাহত করোনার সংক্রমণ বিস্তারের অতি ঝুঁকিপূর্ণ লাল জোনেই রেখেছেন।
ট্র্যাফিক লাইট কমিশন তাদের বৈঠকের পর এক
প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানান, সমগ্র অস্ট্রিয়া জুড়ে
করোনার সংক্রমণের একটি খুব উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে। সেই কারণেই করোনা কমিশন বৃহস্পতিবার সমস্ত ফেডারেল রাজ্যে ট্রাফিক লাইটকে লাল অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কমিশনের রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে এতদিন শুধুমাত্র পশ্চিমের রাজ্যগুলিতে সংক্রমণের বিস্তার কিছুটা বেশী থাকলেও বর্তমানে দক্ষিণেও তা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।
অস্ট্রিয়ার রাজ্য সমূহের মধ্যে সবচেয়ে বেশী খারাপ অবস্থায় আছে পশ্চিমের Tirol রাজ্য। এই রাজ্যে প্রতি এক লাখ জনপদে করোনায় সংক্রামিত শনাক্ত আছেন ৩,৭৫৩ জন। রাজধানী ভিয়েনা সহ অন্যান্য সকল রাজ্যেই প্রতি ১,০০,০০০ লাখ জনপদে বর্তমানে করোনায় আক্রান্ত ১,০০০ হাজার থেকে ৩,০০০ হাজারের মধ্যে। ফলে দেখা যাচ্ছে অস্ট্রিয়া খুব দ্রুত ও সহজেই করোনার অতি ঝুঁকিপূর্ণ লাল জোন থেকে বের হতে পারছে না।
অন্যান্য ফেডারেল রাজ্যের মধ্যে NÖ রাজ্যে ৬,১৪৭ জন,OÖ রাজ্যে ৫,৯৬৭ জন,Steiermark রাজ্যে
৪,৮০২ জন,Tirol রাজ্যে ৪,০৬৯ জন,Salzburg রাজ্যে ২,৬৭৯ জন,Kärnten রাজ্যে ২,৩১৮ জন,Vorarlberg রাজ্যে ১,৫৯১ জন এবং Burgenland রাজ্যে ৭৬৯ জন।
অস্ট্রিয়ার রাস্ট্রায়ত্ব টেলিভিশন ORF এর সংবাদ
বিষয়ক বিভাগ Zeit im Bild (ZIB) জানিয়েছেন,
বর্তমানে অস্ট্রিয়ায় করোনার নতুন ধরন ওমিক্রোনে
শিশুরা খুব বেশী পরিমানে সংক্রামিত শনাক্ত হচ্ছে।
এই সপ্তাহে সমগ্র অস্ট্রিয়াতে প্রায় ২,৬০০ শত ক্লাশ
এক সপ্তাহের জন্য দূরবর্তী শিক্ষায় আছে। অস্ট্রিয়ার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী স্কুল বন্ধ না রেখে যে শ্রেণীতে একাধিক শিক্ষার্থী করোনায় পজিটিভ শনাক্ত হবে, শুধুমাত্র সেটি এক সপ্তাহের দূরবর্তী শিক্ষা বা Distance Learning করবে অনলাইনের মাধ্যমে। বর্তমান শিশুরা অধিকমাত্রায় আক্রান্ত হলেও হালকা উপসর্গ নিয়ে দ্রুত সুস্থতা লাভ করছে।
অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী আজ অস্ট্রিয়াতে করোনার প্রতিষেধক টিকার প্রথম ডোজ গ্রহণ করেছেন মোট ৩,০৫৬ জন এবং আজ করোনার প্রতিষেধক টিকার বুস্টার ডোজ গ্রহণ করেছেন মোট ২০,৩০৯ জন। এই পর্যন্ত করোনার প্রতিষেধক টিকার দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণ সম্পন্ন করেছেন ৬৪,৬১,৭৯৫ জন, যা দেশের মোট জনসংখ্যার শতকরা ৭২,৩ শতাংশ।
অস্ট্রিয়ায় এই পর্যন্ত করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১৭,২৭,৬৬১ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ১৪,০৪২ জন। করোনার থেকে এই পর্যন্ত আরোগ্য লাভ করেছেন মোট ১৪,৪৫,৬২৮ জন। বর্তমানে করোনার সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ২,৬৭,৯৯১ জন। এর মধ্যে আইসিইউতে আছেন ১৮০ জন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ১,৩১৫ জন।
কবির/ইবিটাইমস/আরএন