অস্ট্রিয়ার সরকার প্রধান চ্যান্সেলর কার্ল নেহামার (ÖVP) আগামী সোমবার ৩১ জানুয়ারি থেকে দেশে টিকাবিহীনদের জন্য লকডাউন শেষ ঘোষণা করেছেন।
ইউরোপ ডেস্কঃ অস্ট্রিয়ার সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছেন,আজ মন্ত্রী পরিষদের এক বৈঠকের পর চ্যান্সেলর নেহামার ভিয়েনায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন।
এই সময় সাংবাদিক সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা.ভল্ফগাং মুকস্টাইন(Greens)। একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে অস্ট্রিয়ায় মহামারী করোনা মোকাবেলায় গঠিত টাস্ক ফোর্স গেকো কমিটির বিশেষজ্ঞরা বর্তমান পরিস্থিতিতে টিকাবিহীনদের জন্য লকডাউন কার্যকর বলে মনে করছেন না। তাই তারা সরকারকে টিকাবিহীনদের জন্য লকডাউন উঠিয়ে দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
এদিকে সংবাদ সংস্থা এপিএ জানিয়েছে,করোনা ভাইরাসের টিকা দেওয়া হয়নি এমন লোকদের জন্য লকডাউন আগামী সোমবার শেষ হচ্ছে। বুধবার মন্ত্রী পরিষদের বৈঠকের পর চ্যান্সেলর কার্ল নেহামার এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী ভল্ফগ্যাং মুকস্টাইন এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন।
তবে চলমান অন্যান্য সমস্ত বিধিনিষেধ বা ব্যবস্থা যেমন সমস্ত দোকানপাটে 2G নিয়ম নিয়ন্ত্রণ এবং রাত ১০ টা থেকে ভোর ৫ টা পর্যন্ত কারফিউ বা প্রস্থান নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। তবে চ্যান্সেলর কার্ল নেহামার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে,খুব শীঘ্রই দেশে করোনার বিধিনিষেধ আরও সহজ হতে পারে। তাছাড়াও করোনার প্রতিষেধক টিকার বুস্টার ডোজের গ্রহণ বৃদ্ধির জন্য পরিকল্পনা অনুযায়ী ভ্যাকসিনেশন সার্টিফিকেটের বৈধতা সংক্ষিপ্ত করা হবে।
চ্যান্সেলর কার্ল নেহামার এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, যাদের টিকা দেওয়া হয়নি তাদের জন্য লকডাউন হল “একটি পরিমাপ যা অনেক লোক সপ্তাহ ধরে অভিযোগ করেছে, কিন্তু স্বাস্থ্য নীতির কারণে এটি অনিবার্য ছিল,” বলেছেন নেহামার। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা.ভল্ফগাং মুকস্টাইন তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন,করোনার সংক্রমণের বিস্তার বৃদ্ধির ফলে টিকাবিহীনদের জন্য লকডাউনটি ক্রিসমাসের পর জারি করা হয়েছিল। তিনি আরও জানান করোনার টাস্ক ফোর্স গেকো জানিয়েছেন যে, দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা তথা নিবিড় পরিচর্যা ক্ষমতার অবিলম্বে ওভারলোডিংয়ের কোনও হুমকি নেই। তাই অস্ট্রিয়ায় আগামী সোমবার থেকে টিকাবিহীনদের জন্য লকডাউন প্রত্যাহার করা হয়েছে।
অস্ট্রিয়ার রাস্ট্রায়ত্ব টেলিভিশন ORF এর সংবাদ বিষয়ক বিভাগ Zeit im Bild (ZIB) জানিয়েছে সরকার দেশে আগামী ৩১ জানুয়ারি থেকে করোনা ভাইরাসের নতুন বিধিনিষেধ ঘোষণা করেছেন।
2G নিয়ম বহাল আছে গ্যাস্ট্রোনমি, খুচরা, অবসর সুবিধা এবং ইভেন্টগুলিতে প্রবেশাধিকার শুধুমাত্র তাদের জন্য যাদের টিকা দেওয়া হয়েছে এবং যারা সুস্থ হয়ে উঠেছেন অনুমোদিত সময়ের মধ্যে।
- রাত ১০ টা থেকে ভোর ৫ টা পর্যন্ত সাধারণ কারফিউ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে ।
- নাইট গ্যাস্ট্রোনমি,বার সার্ভিস,ডিসকো এবং বিভিন্ন ক্লাব সহ রাত্রিকালীন কার্যক্রম অব্যাহত বন্ধ থাকবে।
* FFP2 মাস্কের প্রয়োজনীয়তা পূর্বের মতই সর্বত্র বহাল থাকবে। ন্যূনতম দুই মিটার দূরত্ব বজায় রাখতে না পারলে এটি বাড়ির ভিতরে এবং ছুটিতেও প্রযোজ্য
. – ১লা ফেব্রুয়ারি থেকে অস্ট্রিয়াতে ১৮ বছরের বয়স থেকে সকলের জন্য করোনার টিকা বাধ্যতামূলক। বাধ্যতামূলক টিকার গ্রহণের আইন অমান্য করলে জরিমানা ১৫ মার্চের শুরু করা হবে।
আজ অস্ট্রিয়ায় মহামারী করোনা শুরুর পর সর্বোচ্চ সংখ্যক সংক্রামিত শনাক্ত হয়েছে গত ২৪ ঘন্টায় ৩৪,০১১ জন। এর মধ্যে রাজধানী ভিয়েনায় নতুন করে করোনায় সংক্রামিত শনাক্ত হয়েছেন ৯,৯৬৮ জন। অস্ট্রিয়ায় আজ করোনায় মৃত্যুবরণ করেছেন ১১ জন।
অন্যান্য ফেডারেল রাজ্যের মধ্যে OÖ রাজ্যে ৫,২৪৬ জন, NÖ রাজ্যে ৫,০২৯ জন, Tirol রাজ্যে ৩,৯৪১ জন, Steiermark রাজ্যে ৩,৯০৮ জন, Salzburg রাজ্যে ২,৬৫৬ জন, Vorarlberg রাজ্যে ১,৫০৮ জন, Kärnten রাজ্যে ১,০৪৯ জন এবং Burgenland রাজ্যে ৭০৬ জন নতুন করে করোনায় সংক্রামিত শনাক্ত হয়েছেন।
অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী আজ সমগ্র অস্ট্রিয়াতে করোনার প্রতিষেধক টিকার প্রথম ডোজ গ্রহণ করেছেন ৩,২৫৯ জন এবং করোনার প্রতিষেধক টিকার বুস্টার ডোজ গ্রহণ করেছেন ১৮,১৭১ ডোজ। আর এই পর্যন্ত করোনার দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণ করেছেন মোট ৬৪,৫৫,৫৭৩ জন,যা দেশের মোট জনসংখ্যার শতকরা ৭২,৩ শতাংশ।
অস্ট্রিয়ায় এই পর্যন্ত করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১৬,৮৪,৬০৮ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ১৪,০৩০ জন। করোনার থেকে আরোগ্য লাভ করেছেন মোট ১৪,২৬,১৮৫ জন। বর্তমানে করোনার সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ২,৪৪,৩৯৩ জন। এরমধ্যে আইসিইউতে আছেন ১৯৭ জন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ১,৩১৬ জন। বাকীরা নিজ নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন।
কবির আহমেদ/ ইবিটাইমস