ভোলার তজুমদ্দিনে বিলুপ্তির পথে খেজুর গাছ

শরীফ আল-আমীন, তজুমদ্দিন (ভোলা): ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সারি সারি খেজুর গাছ বর্তমানে প্রায় বিলুপ্তির পথে।

একসময় রাস্তার পাশে, পুকুর পাড়ে কিংবা কৃষি জমির পাশে চোঁখে পড়ত এ গাছ।এখন আর দেখা যাচ্ছে না।কালের বিবর্তণে বিলুপ্ত প্রায় শত শত বছরের পুরানো ঐতিহ্যবাহী পরিবেশ বান্ধব খেজুর গাছ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যারা গাছ ছাটাই করে রস সংগ্রহ করে তাদের স্থানীয় ভাষায় বলা হয় গাছি।একসময় খেজুরের রসের জন্য গাছিদের ২-৩ দিন আগে থেকেই বলে রাখতে হতো।যাদের খেজুর গাছ ছিল না তারাও খেজুরের রস থেকে বঞ্চিত হতো না।প্রতিবছর মৌসুম এলেই ব্যস্ত হয়ে পড়ে গাছিরা।সাধারণত গাছিরা গাছ ছাটায়ের পর রস সংগ্রহ করে সেই রস দিয়ে গুড় তৈরি করে।পুরো মৌসুম ধরে এই গুড় বিক্রি করে হাজার হাজার টাকা উপার্জন করে সুখ স্বাচ্ছন্দ্যে সংসার চালতো তারা।এসব গাছিদের নিজস্ব খেজুর গাছ না থাকলেও গাছ মালিকদের সংগৃহীত রসের একটি অংশ দেওয়া হতো।

বর্তমানে এই উপজেলার গাছিরা রয়েছে দুর্দিনে।ইতোমধ্যে অনেকেই এই পেশা পরিবর্তনও করেছে।শীতকালীন মৌসুম এলেই খেজুর রস দিয়ে নাশতা আর ভাপা পিঠার ধুম পড়ে যেত এ অঞ্চলে।নতুন অতিথি আসা মানেই খেজুর রস আর ভাপা পিঠা দিয়ে আপ্যায়ন।যাদের গাছ ছিল না তারাও গাছিদের গাছ থেকে কাঁচা রস ক্রয় করতো।

চাঁচড়া ইউনিয়নের মোঃ শাহে আলম বলেন, একসময় তাদের শতাধিক খেজুর গাছ ছিল। বিভিন্ন সময়ে গাছগুলো মরে গিয়ে এখন ৭-৮ টি গাছ থাকায় এবছর গাছ ছাটাই করিনি।

গাছি মোঃ ফিরোজ বলেন, ৩-৪ বছর পূর্বেও নিজের এবং অন্যের মিলিয়ে ৮০ থেকে ১০০ টি গাছ পর্যন্ত ছাটাই করেছি।দিন দিন গাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় এবার ৩৫ টি গাছ ছাটাই করেছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অপূর্ব লাল সরকার বলেন, খেজুর গাছ নতুন করে রোপন করা হয়না এবং এর সঠিক পরিচর্যা না করার কারণে ধীরে ধীরে এই গাছ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।যদিও খেজুর গাছ লাভজন একটি গাছ। কিন্তু এই গাছ থেকে রস বের করে তা গুড়ে পরিনত করতে অনেক পরিশ্রম করতে হয় ।এখন গাছিরা আর আগের মত পরিশ্রম করতে চায়না বলেই এই গাছের প্রতি মানুষের আগ্রহ কমে অন্যান্য ফল গাছের প্রতি মানুষে আগ্রহ বেড়ে গেছে।

ভোলা/ ইবিটাইমস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »