অস্ট্রিয়ায় শীঘ্রই করোনার ওমিক্রোন ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের সতর্কতা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

ওমিক্রোনের সংক্রমণের বিস্তার লাভ করলে অস্ট্রিয়া জানুয়ারী মাসে পঞ্চম বারের মত লকডাউনে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ভিয়েনার মেয়র

ইউরোপ ডেস্কঃ আজ রাজধানী ভিয়েনায় এক সংবাদ সম্মেলনে অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা.ভল্ফগাং মুকস্টাইন (গ্রিনস) দেশে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট সুপার ভাইরাস ওমিক্রোনের সংক্রমণের ব্যাপক বিস্তার বা প্রাদুর্ভাবের পূর্বাভাস দিয়েছেন। তিনি বলেন সরকার ওমিক্রোন তরঙ্গের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

অন্যদিকে অস্ট্রিয়ার জনপ্রিয় দৈনিক OE24- এর সাথে এক সাক্ষাৎকারে ভিয়েনার রাজ্য গভর্নর ও ভিয়েনা সিটি মেয়র মিখাইল লুডভিগ (SPÖ) জানিয়েছেন যে, বর্তমানে বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত করোনার পরিবর্তিত রূপ ওমিক্রোনের সংক্রমণের বিস্তারের বিস্ফোরণ ঘটলে জানুয়ারীতে পুনরায় লকডাউনে যেতে হতে পারে।

অস্ট্রিয়ান সংবাদ সংস্থা এপিএ জানায়,স্বাস্থ্যমন্ত্রী ভল্ফগাং মুকস্টাইন আজ অস্ট্রিয়ার ওমিক্রোন পরিস্থিতি সম্পর্কে একটি দৃষ্টিভঙ্গি দিয়েছেন।তিনি জানান, যদিও ভাইরাসটি এখনও দেশে খুব বেশি বিস্তার লাভ করে নি। তবে এই করোনার পরিবর্তিত ওমিক্রোন খুবই দ্রুত সংক্রামক।

তিনি জানান, মাত্র তিন সপ্তাহ পূর্বে দক্ষিণ আফ্রিকায় শনাক্ত হওয়ার পর এটি প্রায় ৬০ টির মত দেশে ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।অস্ট্রিয়ায় মাত্র দুই সপ্তাহ পূর্বে প্রথম এই ওমিক্রোন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছিল। বর্তমানে অস্ট্রিয়ায় আজ পর্যন্ত ৫৯ জনের শরীরে এই পরিবর্তিত ওমিক্রোন ভাইরাস নিশ্চিত শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি অস্ট্রিয়ান সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, করোনার তৃতীয় বা বুস্টার ডোজের মাধ্যমে এই ওমিক্রোনের সংক্রমণের বিস্তার কমিয়ে আনা সম্ভব বলে জানান।

অস্ট্রিয়ায় করোনার ওমিক্রোনে আক্রান্তদের সম্পর্কে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আক্রান্তদের মধ্যে ৪৯ জনকে পিসিআর পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়েছে এবং বাকী ১০ তাদের সংস্পর্শে থেকে সাধারণ পরীক্ষায় উপসর্গ সহ শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৬ জন আছেন রাজধানী ভিয়েনায়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মুকস্টাইন আরও জানান ওমিক্রোন ভাইরাস আসলে ডেল্টার চেয়ে বেশি সংক্রামক এবং অস্ট্রিয়ান বিশেষজ্ঞদের পূর্বাভাস অনুযায়ী অস্ট্রিয়ায় আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এই সুপার ভাইরাস আমাদের দেশে ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।তবে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন করোনার তৃতীয় বা বুস্টার ডোজ বেশী পরিমানে দিতে পারলে ওমিক্রোনের সংক্রমণের বিস্তার কিছুটা হ্রাস পেতে পারে।যাইহোক, তিনি বলেন, এটি এখনও পরিষ্কার নয় যে নতুন এই রূপটি অর্থাৎ করোনার ওমিক্রোন ভাইরাস গুরুতর বা হালকা উপসর্গ নিয়ে আসে কিনা তা আমরা অনবরত পর্যবেক্ষণ করছি।

ওমিক্রোনের বিরুদ্ধে করোনার বুস্টার টিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে আখ্যায়িত করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।তিনি দেশের জনগণকে  উদ্যেশ্য করে বলেন, “অনুগ্রহ করে ক্রিসমাসের আগে আপনার করোনার প্রতিষেধক টিকার তৃতীয় বা বুস্টার ডোজ দ্রুত নিয়ে নিন।” করোনার তৃতীয় ডোজ দ্রুত নিতে তিনি অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্যকর্মীদেরও বিশেষভাবে অনুরোধ করেন। তাছাড়াও করোনার সাধারণ নিয়ম বা প্রচলিত ব্যবস্থাগুলি “এখনও কার্যকর: যেমন, হাত ধোয়া,একজন থেকে আরেকজন দূরত্ব বজায় রাখা এবং অফিস আদালত,দোকানপাট ও গণপরিবহনে FFP2 মাস্ক পড়া।

আজকের এই সংবাদ সম্মেলনে আণবিক জীববিজ্ঞানী আন্দ্রেয়াস বার্গথালারের একটি সুসংবাদ দেন যে, সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের,(ইউ কে) পরিসংখ্যান দেখায় যে, যারা করোনার প্রতিষেধক তিনবার টিকা নিয়েছেন বা যারা ভ্যাকসিনের দুই ডোজ দিয়ে সুস্থ হয়ে উঠেছেন তাদের ওমিক্রোনের সংক্রমণের বিরুদ্ধে তুলনামূলকভাবে ভাল সুরক্ষা রয়েছে। অন্য দিকে,যারা মাত্র করোনার প্রতিষেধক টিকার দুই ডোজ নিয়েছেন তাদের অধিকাংশই পরিমানে আক্রান্ত হতে দেখা যাচ্ছে।

জীববিজ্ঞানী বার্গথালার জোর দিয়েছিলেন যে আগামী সপ্তাহগুলিতে সংক্রমণের হারে নিখুঁত বৃদ্ধি আশা করা যেতে পারে।  ওমিক্রোন ডেল্টার চেয়ে “অনেক বেশি সংক্রামক”। এটি Gesundheit Österreich GmbH (GÖG) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হারউইগ ওস্টারম্যান দ্বারাও আন্ডারলাইন করা হয়েছিল, যিনি ধরে নিয়েছিলেন যে সংখ্যাটি প্রতি দুই থেকে তিন দিনে দ্বিগুণ হবে।  বিশেষজ্ঞ জানুয়ারিতে ওমিক্রোনের সাথে নতুন সংক্রমণের বিস্তারের সর্বোচ্চ সংখ্যকের আশঙ্কা করছেন।

এখন লক্ষ্য হল যতদিন সম্ভব নতুন বৈকল্পিকের বিস্তারকে বিলম্বিত করা – যতক্ষণ না বসন্তে ওমিক্রোনের বিরুদ্ধে একটি পৃথক ভ্যাকসিন পাওয়া যায়।  পরিচিত স্বাস্থ্যবিধি ব্যবস্থা ছাড়াও, বিজ্ঞানীরা প্রধানত টিকাকে উল্লেখ করেছেন: বর্তমান জ্ঞানের অবস্থা অনুসারে, বিশেষ করে তিনগুণ টিকাদান সংক্রমণের ঝুঁকি প্রায় শতকরা ৭০ শতাংশ কমিয়ে দেবে এবং গুরুতর রোগ প্রতিরোধ করবে।

এদিকে আজ অস্ট্রিয়ায় নতুন করে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন ২,৮৫৯ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ৬৪ জন।রাজধানী ভিয়েনায় আজ নতুন করে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন ৪৯০ জন।

অন্যান্য ফেডারেল রাজ্যের মধ্যে OÖ রাজ্যে ৬৩৩ জন, NÖ রাজ্যে ৪৬৫ জন, Tirol রাজ্যে ৩১১ জন, Steiermark রাজ্যে ৩০৭ জন, Vorarlberg রাজ্যে ২৬৩ জন, Kärnten রাজ্যে ২১০ জন, Salzburg রাজ্যে ১২২ জন এবং Burgenland রাজ্যে ৫৮ জন নতুন করে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন।

অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী আজ সমগ্র অস্ট্রিয়াতে করোনার প্রতিষেধক টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে ৭,৩৬৮ ডোজ। অস্ট্রিয়ায় এই পর্যন্ত করোনার প্রতিষেধক টিকার সম্পূর্ণ ডোজ গ্রহণ করেছেন মোট ৬১,২৮,৮৬১ জন,যা দেশের মোট জনসংখ্যার শতকরা ৬৮,৬ শতাংশ।

অস্ট্রিয়ায় এই পর্যন্ত করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১২,৩৫,০৬৩ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ১৩,২৮২ জন। করোনার থেকে এই পর্যন্ত আরোগ্য লাভ করেছেন মোট ১১,৬০,১৯৮ জন। বর্তমানে করোনার সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ৬১,৫৮৩ জন। এর মধ্যে আইসিইউতে আছেন ৫৬৫ জন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ২,৩৪৬ জন। বাকীরা নিজ নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন।

কবির আহমেদ/ইবিটাইমস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »