চলমান উন্নয়নের গতি ধরে রাখতে সচিবদের পরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের উন্নয়নের ধারা বজায় রেখে সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে সচিবদের নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি বুধবার রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের পরিকল্পনা বিভাগের এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত সচিব সভায় এই নির্দেশ দেন। সভায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের একটাই লক্ষ্য তৃণমূল পর্যায়ের মানুষগুলো যেন উন্নত জীবন পায়। একটি দক্ষ সেবামুখী জবাবদিহীতামুলক প্রশাসন গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশকে দুর্নীতি মুক্ত করে সুশাসন প্রতিষ্ঠাই তাঁর সরকারের লক্ষ্য বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এরইমধ্যে আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। আমাদের ভবিষ্যতে আরও অনেক দূর  যেতে হবে এবং সে পরিকল্পনা আমরা নিয়েছি। আমাদের প্রেক্ষিত পরিকল্পনা বা ডেল্টা প্ল্যান, সেগুলো মাথায়  রেখে আমাদের উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং সেগুলোর বাস্তবায়ন যেন যথাযথ ভাবে হয়।

তিনি বলেন, আমাদের উন্নয়ন হতে হবে সুষম উন্নয়ন। তৃণমূল পর্যায়ের মানুষগুলো যেন গ্রামেই সব ধরণের নাগরিক সুবিধা লাভের মাধ্যমে জীবন-জীবিকার সুবিধা পায়। কৃষক-শ্রমিক-মেহনতী জনতার জন্য এমনভাবে কাজের ব্যবস্থা করতে হবে যাতে কাজে তাদের উৎসাহ বাড়ে। তারা উন্নত জীবন পায়, দারিদ্রের হাত থেকে মুক্তি পায়, অন্ন-বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসার সুযোগ পায়। বাংলাদেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে ভবিষ্যতেও যেন সেভাবে এগিয়ে যেতে পারে। সেভাবে আমাদের কার্যক্রম চালাতে হবে।

সরকার যে সিদ্ধান্তই নিক না কেন তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব মন্ত্রণালয় এবং সচিবদের ওপর বর্তায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যার যার মন্ত্রণালয়ে যে যে প্রকল্প রয়েছে সেগুলো যেন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হয় সেদিকে সবাইকে নজর দিতে হবে।

তিনি এ সময় সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, আবাসনের সুযোগ, গাড়ি ক্রয় করা বা গাড়ি রক্ষনাবেক্ষণে সরকারি সহায়তা দেয়ার তথ্য তুলে ধরে বলেন, তাঁর নিজেরও একটা চাওয়া আছে আর সেটা হচ্ছে তাঁর সরকারের কাজগুলো যেন দ্রুত বাস্তবায়ন হয় এবং মানসম্পন্ন হয়।

দেশ অর্থনৈতিক ভাবে যত এগুতে পারবে ততই এ ধরনের সুযোগ-সুবিধা আরো বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

একটি দক্ষ জনমুখী জবাবদিহীমূলক সেবাধর্মী প্রশাসন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই একটি দক্ষ সেবামুখী জাবাবদিহীমূলক প্রশাসন গড়ে উঠবে। যা দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে পারবে এবং সেটাই সব থেকে বেশি কার্যকরী হবে। কারণ, বাংলাদেশে আমরা সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই।

শেখ হাসিনা এ সময় দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাঁর সরকারের ‘জিরো টলারেন্স নীতি’র কথা উল্লেখ করে বলেন, অনেক সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছি এবং দেশের উন্নতিও হচ্ছে কাজেই কোন ধরণের দুর্নীতিকে সহ্য করবো না।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণের শেষ পর্যায়ে করোনাকালীন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়টিতে সকলকে লক্ষ্য রাখার আহ্বান জানিয়ে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুলে দেয়ার বিষয়ে তাঁর অভিমত ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেয়া দরকার এবং সেটা খুব দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। এক্ষেত্রে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নয়, স্কুলগুলোও খুলে দেয়ার চিন্তা করতে হবে।

তিনি বলেন, এটা এখন সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ, বাচ্চাদের ঘরে থাকতে থাকতে যথেষ্ট কষ্ট হচ্ছে। কাজেই, সেদিকে আমাদের নজর দেয়া দরকার।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় দেশেই ভ্যাকসিন উৎপাদনের উদ্যোগের উল্লেখ করে বলেন, এরইমধ্যে দেশে ভ্যাকসিন তৈরী এবং বোতলজাত করার ব্যবস্থা সরকার নিয়েছে। আর যত ভ্যাকসিন লাগে সেটাও ক্রয় করা হবে।

ঢাকা/ইবিটাইমস/আরএন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »