ঢাকা: চীনা কোম্পানি সিনোফার্মের তৈরি করোনা ভাইরাসের টিকা বাংলাদেশে এনে বোতলজাতকরণ ও সরবরাহের জন্য যৌথ চুক্তিতে সই করেছে বাংলাদেশ সরকার ও ইনসেপ্টা ভ্যাকসিন লিমিটেড।
সোমবার ঢাকায় বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনসে (বিসিপিএস) এই চুক্তি স্বাক্ষরর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, ঢাকায় চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিং এবং ইনসেপ্টা ভ্যাকসিন লিমিটেডের চেয়ারম্যান আব্দুল মুক্তাদির চুক্তিতে সই করেন।
এই চুক্তির আওতায় চীন থেকে বাল্ক টিকা এনে বাংলাদেশে ভায়ালে ভরা এবং লেবেলিংয়ের কাজটি করবে ইনসেপ্টা। তাদের কাছ থেকে সরকার সেই টিকা কিনে নেবে।
পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন ,সব ঠিক থাকলে আগামী তিন মাসের মধ্যে ইনসেপ্টা দেশে কোভিড টিকার বাজারজাতকরণ শুরু করতে পারবে। তবে প্রস্তুতির কারণে বেশি সময়ও লাগতে পারে।
টিকার কাজে ইনসেপ্টার সক্ষমতার বিষয়ে প্রশ্ন করলে জাহিদ মালেক বলেন, তাদের অনেক সক্ষমতা। যদি ১০ ডোজের ভায়াল হয়, প্রায় ৪ কোটি ডোজ প্রতি মাসে বানাতে পারবে। আর যদি ভায়ালে ডোজ কমে যায়, তাহলে সেটার অনুপাতে সংখ্যা কমে যাবে।
সরকার ইনসেপ্টার মাধ্যমে কত টিকা কিনবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যতটুকু আমাদের প্রয়োজন, ততটুকু আমরা অর্ডার দেব। এভাবে বাল্ক এনে দেশে বোতলজাত করার পর টিকা কিনতে সরকারের কেমন খরচ হবে সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো উত্তর দেননি স্বাস্থ্যমন্ত্রী। বলেন, আশা করি, কম দামেই আমরা পাব। আর দেশে উৎপাদন হলে তাড়াতাড়ি ও ঠিক সময়েই পাব।
সোমবারের চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সিনোফার্মের চেয়ারম্যান লিউ জিংযান বলেন, যৌথ উৎপাদন চুক্তির আওতায় প্রথম দিকে প্রতি মাসে ৫০ লাখ ডোজ করে টিকা পাবে বাংলাদেশ সরকার।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ছাড়াও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন চুক্তি সই অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশ্চয়তা দিয়েছেন, টিকা সরবরাহে কোনো ব্যাঘাত ঘটবে না। আর এই চুক্তির মাধ্যমে আমরা কম দামে ও সহজে টিকা পাব। দেশবাসীকে আমরা বলতে পারি, টিকার জন্য আপনাদের অভাব বোধ করতে হবে না। আপনারা শুধু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন।
চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিং দাবি করেন, বাংলাদেশে টিকা সরবরাহ ও যৌথ উৎপাদনে তার দেশের কোনো রাজনৈতিক অভিলাষ কিংবা অর্থনৈতিক হিসাবনিকাশ নেই।
স্বাস্থ্য সচিব লোকমান হোসেন মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এশিয়া বিভাগের কাউন্সেলর জি রঙ, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান, ইনসেপ্টার চেয়ারম্যান আব্দুল মুক্তাদির উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা/ইবিটাইমস/আরএন