অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনা পুনরায় করোনার “হলুদ জোনে”

ভিয়েনা অস্ট্রিয়ার প্রথম রাজ্য যে সবুজ জোন থেকে পুনরায় হলুদ জোনে স্থানান্তরিত হয়েছে

ইউরোপ ডেস্কঃ অস্ট্রিয়ার জনপ্রিয় দৈনিক Kronen Zeitung আজ অস্ট্রিয়ার করোনার ট্র্যাফিক লাইট কমিশনের নিয়মিত সাপ্তাহিক বৈঠকের পর এই তথ্য জানান। ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্বাস্থ্য বিষয়ক বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী কোন অঞ্চল বা জনপদের প্রতি ১,০০,০০০ লাখের মধ্যে যদি ২৫ জন করোনায় আক্রান্ত শনাক্ত হয়, তাহলে সে অঞ্চল বা রাজ্য অথবা শহর করোনার হলুদ জোনে পড়বে। ভিয়েনায় বর্তমানে প্রতি ১,০০,০০০ লাখ জনপদে করোনায় আক্রান্ত ৩০ জন। তাই ভিয়েনা আজ থেকেই করোনার হলুদ জোনে ফেরত এসেছে।

পত্রিকাটি অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়,ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের নতুন প্রাদুর্ভাবের ফলে ভিয়েনায় করোনার সংক্রমণের বিস্তার লাভ করছে। অবশ্য পত্রিকাটি আরও জানিয়েছেন, অস্ট্রিয়ার কোন রাজ্যই বর্তমানে আর সম্পূর্ণ সবুজ জোনে নাই। নতুন এই ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ক্রমশ সমগ্র অস্ট্রিয়াতেই ছড়িয়ে পড়ছে।

এদিকে অস্ট্রিয়ার রাস্ট্রীয় টেলিভিশন ORF এর সংবাদ বিভাগ ZIB জানিয়েছে,অস্ট্রিয়ায় পুনরায় করোনার নতুন সংক্রমণ ব্যাপক হারে বিস্তৃতি লাভ করছে। ZIB আরও জানিয়েছেন অস্ট্রিয়ায় হঠাৎ করেই এই সপ্তাহ থেকে করোনার প্রতিষেধক টিকার নিবন্ধন হ্রাস পেয়েছে। তাদের পরিসংখ্যান বলছে গত এক সপ্তাহে অস্ট্রিয়ায় গড়ে প্রতিদিন ১৭,০০০ হাজার মানুষ করোনার প্রথম টিকা নিয়েছেন। তারা বলছেন গত মাসেও সাপ্তাহিক গড়ে এই সংখ্যা ছিল ৩২,০০০ হাজার। তাহলে কি অস্ট্রিয়ানরা আবারও করোনার টিকা গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করছে,প্রশ্ন রেখেছেন ZIB.

অস্ট্রিয়ান সংবাদ সংস্থা এপিএ জানিয়েছেন দেশে নতুন করে করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধির ফলে নড়েচড়ে বসেছেন অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা.ভল্ফগাং মুকস্টাইন (গ্রিনস)। তবে এপিএ জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী আপাতত কেবল একটি বিধিনিষেধ আরোপ করতে যাচ্ছেন আর তা হল, যাদের টিকা দেওয়া হয়েছে কেবল তাদেরই রাতের সময়ের গ্যাস্ট্রোনমি, ডিসকো বা অন্যান্য রাত্রিকালীন ইভেন্টে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। তাছাড়াও রাত্রিকালীন প্রতিটি ইভেন্টে নামসহ ব্যক্তিগত ডাটা নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতা করা হচ্ছে শীঘ্রই। আর কারও যদি গ্রীন পাস থাকে তাহলে তাকেও নাম নিবন্ধন করতে হবে। গ্রীন পাস কেবলমাত্র সম্পূর্ণরূপে টিকা দেওয়া থাকলেই পাওয়া যাবে।

অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের জনৈক মুখপাত্র এপিএকে জানিয়েছেন, অস্ট্রিয়ায় পুনরায় আশ্চর্যজনকভাবে দ্রুত ক্রমবর্ধমান ক্রমবর্ধমান বিস্তারের ফলে সরকারের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। তাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পুনরায় করোনার কিছু বিধিনিষেধ প্রয়োগের কথা চিন্তা ভাবনা করছে। অস্ট্রিয়ায় এটি প্রস্তাবিত, উদাহরণস্বরূপ, “গ্রীন পাস” কেবলমাত্র পুরো টিকা গ্রহণের পরই প্রদান করা হবে। আর শুধুমাত্র সম্পূর্ণ টিকা গ্রহণ সম্পন্ন লোকেরা রাত্রিকালীন হোটেল, রেস্টুরেন্ট, ডিসকো সহ অন্যান্য ইভেন্ট সমূহে অংশগ্রহণ করতে পারবেন এবং নিজেদের ডাটা নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতা থাকবে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এপিএ-র অনুরোধে কিছু পদক্ষেপের কথা জানালেও বিস্তারিত বিষয়ে সরকারের নীতিনির্রধারকদের মধ্যে আলোচনা চলছে বলে জানানো হয়েছে। তবে এটি মোটামুটি নিশ্চিত যে, রাত্রিকালীন ইভেন্টে শুধুমাত্র করোনার প্রতিষেধক টিকা গ্রহণকারীরাই অংশগ্রহণ করতে পারবেন এবং নিজেদের ডাটা নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করতে হবে।শুধুমাত্র করোনার দ্বিতীয় টিকা দেওয়ার পরে সবুজ পাসপোর্ট (ব্যতিক্রম: জনসন এবং জনসন) পাওয়া যাবে। সংবাদ সংস্থা এপিএ আরও জানিয়েছেন, এই প্রস্তাবগুলি নিয়ে আলোচনার জন্য, সকালে একটি টাস্কফোর্স মিলিত হয়েছিল যেখানে দায়িত্বশীল মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা যোগদান করেছিলেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছেন বর্তমানে অস্ট্রিয়ায় করোনার সংক্রমণের শতকরা ৯০% ই ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট দিয়ে আক্রান্ত।

অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. ভল্ফগাং মুকস্টাইন এক অনুরোধে সকলকে করোনার প্রতিষেধক টিকা দ্রুত গ্রহণের জন্য আহবান জানান।

আজ অস্ট্রিয়ায় নতুন করে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন ৩০৬ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ১ জন। রাজধানী ভিয়েনায় আজ নতুন করে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন ১১৪ জন। অন্যান্য রাজ্যের মধ্যে NÖ রাজ্যে ৪৪ জন, OÖ রাজ্যে ৪০ জন, Kärnten রাজ্যে ২৫ জন, Steiermark রাজ্যে ২৪ জন, Salzburg রাজ্যে ২৩ জন, Tirol রাজ্যে ১৭ জন, Vorarlberg রাজ্যে ১৬ জন এবং Burgenland রাজ্যে ৩ জন নতুন করে করোনা ভাইরাসের সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন।

অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী আজ দেশে করোনার প্রতিষেধক টিকা দেয়া হয়েছে ৭৩,৬৪৮ ডোজ এবং এই পর্যন্ত দেয়া হয়েছে ৮৮,০৩,৯৪১ ডোজ। আর অস্ট্রিয়ায় এই পর্যন্ত টিকা সম্পূর্ণ ডোজ সম্পন্ন করেছেন ৩৮ লাখ ৭৮ হাজার ৭৪৯ জন,যা মোট জনসংখ্যার শতকরা ৪৪,৫%।

অস্ট্রিয়ায় এই পর্যন্ত করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৬,৫২,৬৬০ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ১০,৭২৭ জন।করোনার থেকে এই পর্যন্ত আরোগ্য লাভ করেছেন ৬,৩৯,২৩৯ জন। বর্তমানে করোনার সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ২,৬৯৪ জন। এর মধ্যে ক্রিটিক্যাল অবস্থার মধ্যে আইসিইউতে আছেন ৩৩ জন এবং হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি আছেন ১০৯ জন। বাকীরা নিজ নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন।

কবির আহমেদ /ইবিটাইমস

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »