ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, পিরোজপুর : পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে ল্যাব টেকনিশিয়ান না থাকায় নমুনা পরীক্ষা করা যাচ্ছে না। ফলে করোনার
আক্রান্তদের সনাক্ত করা হচ্ছে না। এতে ওই উপজেলায় স্বাস্থ্য বিধি বা শতর্কতা অবলম্বন করচেন না স্থানীয়রা। উপজেলা বিভিন্ন স্থানে জন সাধারন
স্বাস্থ্য বিধি উপেক্ষা করে চলছেন।
জানা গেছে, বরিশাল বিভাগের মধ্যে করোনা ভাইরাসে আক্রন্তের সংখ্যা পিরোজপুর জেলায় অন্যতম। পিরোজপুরের বিভিন্ন উপজেলায় করোনা সংক্রমন ও মৃত্যুর আপডেট থাকলেও ইন্দুরকানী উপজেলায় নেই কোন আপডেট। উপজেলায় সংক্রমনের হার কেমন বা কত ভাগ তারও তেমন কোন পরিসংখ্যান নেই। করোনা মহামারির উপদ্রবে যখন দিশেহারা পিরোজপুরের ইন্দুরকানীর মানুষ। ঠিক তখনই ইন্দুরকানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়মিত করোনার নমুনা দিতে পারছেনা আগত রোগীরা। চলমান পরিস্থিতিতে দ্রুত করোনা ভাইরাস সনাক্তের জন্য অ্যান্টিজেন র্যপিড টেস্টের কিট সরবরাহ করাতে স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন ইন্দুরকানীর জনসাধারণ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পিরোজপুর জেলার মধ্যে শুধু মাত্র ইন্দুরকানী উপজেলার করোনা প্রতিবেদন পাওয়া যাচ্ছে না। এখানে ব্র্যাকের একজন
স্বাস্থ্যকর্মী দিয়ে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তিনিও কয়েক দিন পূর্বে করোনাক্রান্ত হওয়ায় নমুনা সংগ্রহ বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ইন্দুরকানীর প্রায় প্রতিটি ঘরে ঘরে জ্বর, কাশি লেগেই আছে। অর্ধশতাধিক রোগী প্রতিনিয়ত হাসপাতালের বর্হিবিভাগে ভিড় করছেন। যার মধ্যে অধিকাংশ রোগীর মাঝে করোনার উপসর্গ বিদ্যমান। শুধু মাত্র ল্যাব টেকনিশিয়ান না থাকায় করোনার নমুনা সংগ্রহ বাঁধা গ্রস্থ হচ্ছে বলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানিয়েছে।
এরই মাঝে উপজেলা স্বাস্থ্যও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার তৈয়বুর রহমান সপ্তাহে মাত্র একদিন অফিস করেন। এছাড়া বাকিটা সময় তিনি থাকেন ভোলা জেলা সদরে ছুটিতে। আবার এখানে কর্মকর্তা কর্মচারী কর্মরত থাকার কথা ৮০ জন । কিন্তু হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গ চালু না থাকায় অধিকাংশ কর্মকর্তা কর্মচারী অন্যত্র কর্মরত রয়েছেন প্রেষনে। ১৪ জন ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও এখানে আছেন মাত্র ৪ জন। এছাড়া সুপেয় পানির অভাবে ১৩ বছরেও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা ব্যবস্থা চালু করতে পারেনি স্বাস্থ্য বিভাগ। ফলে প্রকৃত স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ইন্দুরকানীর লক্ষাধিক মানুষ। বাধ্য হয়ে এ উপজেলার রোগীদের বরিশাল, খুলনাসহ দূরদূরান্তে গিয়ে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে ইন্দুরকানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার মোঃ আমিন উল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালে ল্যাব টেকনিশিয়ান না থাকায় করোনার নমুনা সংগ্রহ বাঁধা গ্রস্থ হচ্ছে। প্রতিদিন আউটডোরে অর্ধশতাধিক রোগিকে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। যাদের অধিকাংশই আসেন করোনা উপসর্গ নিয়ে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কর্মকর্তা ডাক্তার তৈয়বুর রহমান পারিবারিক সমস্যার কারনে নিয়মিত অফিস করতে পারেন না বলে জানিয়েছেন।’
জেলা সিভিল সার্জন ডা: হাসনাত ইউসুফ জাকি জানিয়েছেন, ইনডোরের অভাবে আমাদের অনেক কিছুই বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। পানি সংকট আছে। নতুন ভবন হয়েছে। এ মাসের শেষের দিকে আমরা নতুন ভবন চালু করবো। বিভিন্ন প্রজেক্টে কাজ হবে। আমরা আশা করি খুব দ্রুত ইন্দুরকানী বাসীর এই কষ্টের সমাধান হবে।
এইচ এম লাহেল মাহমুদ/ইবিটাইমস /এম আর