ভিয়েনা ০২:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
বুলগেরিয়ান সীমান্তে তিন মিশরীয় অনিয়মিত অভিবাসী প্রত্যাশী কিশোরের মৃত্যু ইন্দোনেশিয়য় ঘূর্ণিঝড় ও বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩০৩ জনে দাঁড়িয়েছে ইউক্রেন শান্তি পরিকল্পনার আলোচকরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন – ভলোদিমির জেলেনস্কি অস্ট্রিয়ার আগামী বাজেট ঘাটতি পেনশন ব্যবস্থার ওপর প্রভাব পড়তে পারে মাভাবিপ্রবিতে পরিবেশ বিষয়ক ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভায় খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনায় দোয়া খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন রাষ্ট্রপতি তফসিল ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে ঘোষণা করা হবে : সিইসি টাঙ্গাইলে খালেদা জিয়ার রোগ মুক্তিতে খোলা ময়দানে মোনাজাত স্বামীর বিরুদ্ধে নির্যাতনসহ নানা অভিযোগে স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন

শতবর্ষ পেরিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ০৩:৪২:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জুলাই ২০২১
  • ২৩ সময় দেখুন

ঢাকা: ‘প্রাচ্যের অক্সফোর্ড’খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শত বছর পূর্ণ করে বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) ১০১ বছরে পা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়টি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক দিক থেকে অবদান রেখে চলছে। সেই সঙ্গে অবদান রাখছে শিক্ষা ও গবেষণায়।

ব্রিটিশ উপনিবেশিক শাসনামলে জ্ঞানর্জনে পিছিয়ে ছিল পূর্ব বাংলা। এই অঞ্চলের অধিকাংশই ছিল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ। বাংলাভাষী এই অঞ্চলের মুসলমানদেরকে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে প্রতিষ্ঠা করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। যেটি পরবর্তীতে বাঙালির অধিকার আদায়ে বৃটিশবিরোধী আন্দোলন, বাংলা ভাষা আন্দোলন, ’৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং সর্বোপরি ’৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখে। বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামের সূতিকাগার হিসেবে পরিচিত এই বিশ্ববিদ্যালয় আজ পূর্ণ করেছে একশ বছর।

মহামারি করোনার কারণে শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষ্যে সশরীরে কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন রাখেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে বিকেল ৪টায় ভার্চুয়ালি একটি আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়েছে।

একশ বছর আগে ১৯২১ সালের ১ জুলাই পূর্ব বাংলার প্রাণকেন্দ্র ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এই বিশ্ববিদ্যালয়। একশ বছর পূর্ণ করার প্রথম দিন বৃহস্পতিবার ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ উদযাপন করবে উচ্চশিক্ষার এই  প্রতিষ্ঠানটি।

১৯৪৮ থেকে ভাষা আন্দোলন, বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন, আইয়ুববিরোধী আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ও একাত্তরের স্বাধীনতা সংগ্রামসহ বাঙালির প্রতিটি গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের সূতিকাগারের মতো ভূমিকা রাখলেও এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জাতীয় নেতা এখন আর বের হয়ে আসে না। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা বলছেন, ঢাবি কথনোই তার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে উন্নত মানের গবেষক তৈরি করতে পারেনি। যে একটা-দুইটা গবেষণা পাওয়া যায় বা আন্তর্জাতিক জার্নালে মানসম্মত লেখা মেলে তা একান্তই ব্যক্তি উদ্যোগে করা। ফলে যে উদ্দেশ্য নিয়ে তৈরি হয়েছিল এই প্রতিষ্ঠান তা পূরণ হয়নি। রাজনীতিতে, গবেষণায়, সিস্টেমের দিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টি শতবর্ষে ম্লান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, এই জাতির যা কিছু মহৎ, যা কিছু উত্তম তার সবকিছুর পেছনের যে ভূমিকা তা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের। বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা, একটি অসাম্প্রদায়িক, মানবিক, বুদ্ধিভিত্তিক আন্দোলনে, জাতীয়তাবাদী, গণতান্ত্রিক মূলবোধের বিকাশে সর্বোপরি একটি জাতির সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক গণতান্ত্রিক এই সকল মূল্যবোধের লালনকেন্দ্রের উৎপত্তিস্থল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এটিকে আবর্তন করেই জাতির সকল বৃহত্তর অর্জনসমূহ, সকল উন্নয়নের একটি শক্তিশালী নিয়ামক ও অনুঘটক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশের সবই ইতিহাস এক সূত্রে গাথা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি সম্পর্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই দেশের, এই ভূখণ্ডের মানুষের উচ্চশিক্ষার পথটি সুগম করে। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা ইতিহাসে স্বর্ণ উজ্জ্বল থাকবে। আর একই সাথে উচ্চশিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে এই দেশের মানুষের সচেতন করার ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তারই ফলশ্রুতিতে আমরা দেখেছি, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, মহান মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন, গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রাম সর্বক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। এগুলো অনাগত ভবিষ্যতে যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসবেন বা শিক্ষকতায় আসবেন সেগুলো তাদের জন্য সবসময় অনুপ্রেরণার অংশ হয়ে থাকবে।

ঢাকা/ইবিটাইমস/এমএন

জনপ্রিয়

বুলগেরিয়ান সীমান্তে তিন মিশরীয় অনিয়মিত অভিবাসী প্রত্যাশী কিশোরের মৃত্যু

Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

শতবর্ষ পেরিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

আপডেটের সময় ০৩:৪২:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জুলাই ২০২১

ঢাকা: ‘প্রাচ্যের অক্সফোর্ড’খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শত বছর পূর্ণ করে বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) ১০১ বছরে পা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়টি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক দিক থেকে অবদান রেখে চলছে। সেই সঙ্গে অবদান রাখছে শিক্ষা ও গবেষণায়।

ব্রিটিশ উপনিবেশিক শাসনামলে জ্ঞানর্জনে পিছিয়ে ছিল পূর্ব বাংলা। এই অঞ্চলের অধিকাংশই ছিল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ। বাংলাভাষী এই অঞ্চলের মুসলমানদেরকে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে প্রতিষ্ঠা করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। যেটি পরবর্তীতে বাঙালির অধিকার আদায়ে বৃটিশবিরোধী আন্দোলন, বাংলা ভাষা আন্দোলন, ’৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং সর্বোপরি ’৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখে। বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামের সূতিকাগার হিসেবে পরিচিত এই বিশ্ববিদ্যালয় আজ পূর্ণ করেছে একশ বছর।

মহামারি করোনার কারণে শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষ্যে সশরীরে কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন রাখেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে বিকেল ৪টায় ভার্চুয়ালি একটি আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়েছে।

একশ বছর আগে ১৯২১ সালের ১ জুলাই পূর্ব বাংলার প্রাণকেন্দ্র ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এই বিশ্ববিদ্যালয়। একশ বছর পূর্ণ করার প্রথম দিন বৃহস্পতিবার ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ উদযাপন করবে উচ্চশিক্ষার এই  প্রতিষ্ঠানটি।

১৯৪৮ থেকে ভাষা আন্দোলন, বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন, আইয়ুববিরোধী আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ও একাত্তরের স্বাধীনতা সংগ্রামসহ বাঙালির প্রতিটি গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের সূতিকাগারের মতো ভূমিকা রাখলেও এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জাতীয় নেতা এখন আর বের হয়ে আসে না। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা বলছেন, ঢাবি কথনোই তার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে উন্নত মানের গবেষক তৈরি করতে পারেনি। যে একটা-দুইটা গবেষণা পাওয়া যায় বা আন্তর্জাতিক জার্নালে মানসম্মত লেখা মেলে তা একান্তই ব্যক্তি উদ্যোগে করা। ফলে যে উদ্দেশ্য নিয়ে তৈরি হয়েছিল এই প্রতিষ্ঠান তা পূরণ হয়নি। রাজনীতিতে, গবেষণায়, সিস্টেমের দিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টি শতবর্ষে ম্লান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, এই জাতির যা কিছু মহৎ, যা কিছু উত্তম তার সবকিছুর পেছনের যে ভূমিকা তা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের। বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা, একটি অসাম্প্রদায়িক, মানবিক, বুদ্ধিভিত্তিক আন্দোলনে, জাতীয়তাবাদী, গণতান্ত্রিক মূলবোধের বিকাশে সর্বোপরি একটি জাতির সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক গণতান্ত্রিক এই সকল মূল্যবোধের লালনকেন্দ্রের উৎপত্তিস্থল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এটিকে আবর্তন করেই জাতির সকল বৃহত্তর অর্জনসমূহ, সকল উন্নয়নের একটি শক্তিশালী নিয়ামক ও অনুঘটক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশের সবই ইতিহাস এক সূত্রে গাথা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি সম্পর্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই দেশের, এই ভূখণ্ডের মানুষের উচ্চশিক্ষার পথটি সুগম করে। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা ইতিহাসে স্বর্ণ উজ্জ্বল থাকবে। আর একই সাথে উচ্চশিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে এই দেশের মানুষের সচেতন করার ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তারই ফলশ্রুতিতে আমরা দেখেছি, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, মহান মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন, গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রাম সর্বক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। এগুলো অনাগত ভবিষ্যতে যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসবেন বা শিক্ষকতায় আসবেন সেগুলো তাদের জন্য সবসময় অনুপ্রেরণার অংশ হয়ে থাকবে।

ঢাকা/ইবিটাইমস/এমএন