আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু থাকবে,তবে আভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বন্ধ থাকবে। বাংলাদেশ থেকে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে তুরস্ক তবে ট্রানজিট অব্যাহত থাকবে
বাংলাদেশ ডেস্কঃ দেশে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের নতুন সংস্করণ ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণের বিস্তার রোধে সারাদেশে সাতদিনের কঠোর লকডাউন ঘোষণা করেছে সরকার। এসময় শিল্প-কারখানাসমূহ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণপূর্বক নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় খোলা থাকবে। বন্দরসমূহ (বিমান, সমুদ্র, নৌ ও স্থল) এবং তৎসংশ্লিষ্ট অফিসসমূহ আওতা বহির্ভূত থাকবে।
আজ বুধবার (৩০ জুন) সকালে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন সমন্বয় অধিশাখার উপসচিব মো. রেজাউল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের শীর্ষ সকল সংবাদ মাধ্যম।
নতুন জারি করা এই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘করোনাভাইরাসজনিত রোগ (কোভিড-১৯) সংক্রমণের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিম্নোক্ত শর্তাবলী সংযুক্ত করে ১ জুলাই ২০২১ সকাল থেকে ৭ জুলাই ২০২১ তারিখ মধ্যরাত পর্যন্ত নিম্নোক্ত বিধি-নিষেধ আরোপ করা হলো।’
নতুন এই লকডাউনে যা খোলা থাকবে :
১. আইনশৃঙ্খলা এবং জরুরি পরিষেবা, যেমন কৃষি পণ্য ও উপকরণ (সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষি যন্ত্রপাতি ইত্যাদি) খাদ্যশস্য ও খাদ্যদ্রব্য পরিবহন, ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা, কোভিড-১৯ টিকা প্রদান, রাজস্ব আদায় সম্পর্কিত কার্যাবলী, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস/জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, টেলিফোন ও ইন্টারনেট (সরকারি-বেসরকারি), গণমাধ্যম (প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া), বেসরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ডাক সেবা, ব্যাংক, ফার্মেসি ও ফার্মাসিউটিক্যালসসহ অন্যান্য জরুরি/অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসের কর্মচারী ও যানবাহন প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়পত্র প্রদান সাপেক্ষে যাতায়াত করতে পারবে।
২. পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত ট্রাক-কাভার্ডভ্যান, কার্গো ভেসেল এ নিষেধাজ্ঞার আওতাবহির্ভূত থাকবে।
৩. বন্দরসমূহ (বিমান, সমুদ্র ও স্থল) এবং এ সংশ্লিষ্ট অফিস এই নিষেধাজ্ঞার আওতাবহির্ভূত থাকবে।
৪. শিল্প-কারখানাসমূহ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণপূর্বক নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চালু থাকবে।
৫. কাঁচাবাজার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত উন্মুক্ত স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে। সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য সংগঠন/বাজার কর্তৃপক্ষ/স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি নিশ্চিত করবে।
৬. অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া (ওষুধ ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয়, চিকিৎসা সেবা, মৃতদেহ দাফন/সৎকার ইত্যাদি) কোনভাবেই বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না। নির্দেশনা অমান্যকারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
৭. টিকা কার্ড প্রদর্শন সাপেক্ষে টিকা গ্রহণের জন্য যাতায়াত করা যাবে।
৮. খাবারের দোকান, হোটেল-রেস্তোরাঁ সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খাবার বিক্রয় (অনলাইন/টেকওয়ে) করতে পারবে।
৯. আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু থাকবে এবং বিদেশগামী যাত্রীরা তাদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণের টিকিট প্রদর্শন করে গাড়ি ব্যবহারপূর্বক যাতায়াত করতে পারবে।
১০. স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে মসজিদে নামাজের বিষয়ে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় নির্দেশনা দেবে।
এদিকে বাংলা এভিয়েশন এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বাংলাদেশ থেকে বিমান পথে যাত্রীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে তুরস্ক। ১ জুলাই থেকে তুরস্কে প্রবেশ করা যাবে না বাংলাদেশ থেকে। তবে তার্কিশ এয়ারলাইন্সের যাত্রীরা তুরস্কে ট্রানজিট ব্যবস্থা ব্যবহার করে অন্য দেশে যাতায়াত করতে পারবেন।
বাংলাদেশের সঙ্গে ফ্লাইট বন্ধ করেছে ইতালি। এ কারণে বেড়াতে এসে ইতালি প্রবাসীরা বাংলাদেশ আটকা পড়েছেন। অনেক বাংলাদেশি ইতালি প্রবাসী তুরস্কে ১৪ দিন অবস্থান করে তারপর ইতালি যেতেন। করোনা পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত মাত্রায় বাংলাদেশিদের প্রবেশ বেড়ে যাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে তুরস্ক।
কবির আহমেদ/ ইবি টাইমস