নাজিরপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট; পিরোজপুর: পিরোজপুরের নাজিরপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. ফজলে বারির বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তাঁর বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ করে স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

দায়ের করা অভিযোগ সূত্র জানা গেছে, তাঁর সহায়তায় সম্প্রতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রায় ৭৫ লাখ টাকা মূল্যের ১৫ শতাংশ জমি দখল ও ওই জমিতে থাকা ৪টি রেন্টি গাছ কেটে নেয়া হয়।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মূল ভবনের পশ্চিম পাশে অবস্থিত উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের জন্য নির্মিত নতুন ভবনের জমি ও ওই জমিতে থাকা ওই গাছ কেটে নেন স্থানীয় প্রভাবশালী ইলিয়াস খান ও তার সহোদর এনায়েত হোসেন খান।

এ ছাড়া সরকারী গাড়ি নিজের ব্যাক্তিগত কাজে ব্যবহার ও এর নির্ধারিত চালকের কাছ থেকে মাসিক ৫/৬ হাজার টাকা উৎকোচ নিয়ে নিজের ব্যাক্তিগত চালককে দিয়ে সরকারী গাড়ি চালানোর অভিযোগ রয়েছে। আর সরকারী চালক থাকেন ঢাকায়।

হাসপাতালের সংক্রমন ওয়ার্ডের নতুন কেবিন তৈরী করে গত ৩ মাস ধরে ওই কেবিন ভাড়ার টাকা সরকারী কোষাগারে জমা না দিয়ে তা আত্মসৎ, ফার্নিচার কেনার নামে ভুয়া ভাউচার দেখিয়ে ২ লাখ টাকা আত্মসাৎ, ময়লা কাপড় ধোলাইয়ের খরচ বাবদ সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের সাথে আতাত করে চলতি বছরের গত ৩মাসে প্রায় ১ লাখ ১১ হাজার টাকা নিলেও এর আগে গত এক বছরে সাড়ে ৬৮ হাজার টাকা খরচ হয়।

অভিযোগ রয়েছে ওই হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স অপু হালদারের সহযোগীতায় ওই টাকা আত্মসত করা হয়। স্টাফ নার্স অপু হালদার জানান, এ বিষয়ে টিএইচএ (উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা) সব জানেন ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একাধীক কর্মচারীদের দেয়া তথ্য সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিন আগে চলতি কোভিডের (করোনা) টিকার পরিবহন ও আপ্যায়ন খরচ বাবদ রবাদ্দ পাওয়া ৮লাখ টাকা তিনি বিভিন্ন ভুয়া ভাউচার দেখিয়ে আত্মসৎ করেছেন।

হাসপাতালের সরকারী এ্যাম্বুলেন্স ও তার সরকারী বরাদ্দকৃত গাড়িতে কোভিডের টিকা বহন করার কাজে ব্যবহার করেও টিকা পরিবহনের জন্য আলাদা পরিবহন খরচ ও ভুয়া আপ্যায়ন খরচ দেখিয়ে ওই টাকা উত্তোন করে আত্মসৎ করা হয়। ভেসজ বাগানের সংস্কার বাবদ বরাদ্দ পাওয়া টাকা খরচ না করে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে বাগানের দায়িত্বে থাকা জাহাঙ্গিরের স্বাক্ষর নিয়ে তা উত্তোলন করেন ।

এ ছাড়া গত ১২ জুন হাসপাতালের অফিস সহায়ক আসলাম হোসেনকে ৭৩ হাজার টাকার একটি ভুয়া ভাউচার দেখিয়ে স্বাক্ষর নেন। আর তার এসব কাজে প্রধান সহযোগী হিসাবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইপি আই টেকনেশিয়্যান মো. শহিদুল ইসলামকে ব্যাবহার করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে জানতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার ফজলে বারীর সাথে মুঠো ফোনে কথা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, কতিপয় স্বার্থান্বেষী মহল তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন ও এসব মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছেন।

এইচ এম লাহেল মাহমুদ /ইবি টাইমস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »