বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক আজ এক ফেসবুক স্ট্যাটাসের এ কথা জানান
বাংলাদেশ ডেস্কঃ স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক তার স্ট্যাটাসে জানান, প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ধীরে ধীরে দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশের জাতীয় সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছেন আজ রোববার (২০ জুন) দুপুরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী তার নিজের ফেসবুক পেইজের এক পোস্টে এসব তথ্য জানান।
জাহিদ মালেক বলেন, ‘করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ভীষণ ছোঁয়াচে। ভাইরাসটি ধীরে ধীরে ঢাকাসহ দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে। যে যেখানে যে কাজই করুন, স্বাস্থ্যবিধি ঠিকঠাক মেনে চলুন।’
সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের ৬৮ শতাংশ ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট। এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় (শনিবার) সারাদেশে ৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১৩ হাজার ৪৬৬ জন। এ সময় তিন হাজার ৫৭ জনের দেহে করোনা শনাক্ত করা হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল আট লাখ ৪৮ হাজার ২৭ জন।
বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছেন, কুষ্টিয়া জেলায় একদিনে করোনায় মৃত্যু ও শনাক্তের রেকর্ড হয়েছে। কুষ্টিয়ায় গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এসময় ৫৪৯ জনের নমুনা পরীক্ষায় নতুন করে আরও ১৬৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।
আজ রোববার (২০ জুন) সকালে কুষ্টিয়া জেলা সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ারুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া সবাই কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাদের বাড়ি কুষ্টিয়া সদর ও মিরপুর উপজেলায়। তিনি আরও বলেন, ‘আজ ভোর পর্যন্ত কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের ৫০ শয্যার করোনা ইউনিটে ভর্তি আছেন ৯১ জন। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি ছিলেন ১০২ জন। তার আগের ২৪ ঘণ্টায় ছিলেন ৭৯ জন। বর্তমানে জেলায় হোমআইসোলেশনে আছেন এক হাজার ১৯৫ জন। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় ছিল ৯৬৪ জন। এ পর্যন্ত কুষ্টিয়া জেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ছয় হাজার ৩৩৯ জন এবং মারা গেছেন ১৪৭ জন।’
অন্যদিকে দেশের মধ্যঞ্চলের জেলা ফরিদপুরের ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে। ফলে করোনার সংক্রমণ রোধে ফরিদপুরের তিন পৌরসভায় এক সপ্তাহের লকডাউন দিয়েছে জেলা প্রশাসন। করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় রবিবার (২১ জুন) থেকে এ লকডাউন কার্যকর হবে বলে প্রশাসন থেকে সংবাদ মাধ্যমকে জানানো হয়েছে। লকডাউন ঘোষিত উপজেলাগুলো হলো- ফরিদপুর পৌরসভা, বোয়ালমারী পৌরসভা ও ভাঙ্গা পৌরসভা।
শনিবার (২০ জুন) রাতে বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) অতুল সরকার। এ নিয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে জেলা প্রশাসন। গত ২৪ ঘণ্টায় ফরিদপুরের করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে করোনায় ছয়জনের মৃত্যু ও নতুন করে ৭৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।
জেলা প্রশাসকের গণবিজ্ঞপ্তি থেকে জানা যায়, ২১ জুন সকাল ৬টা থেকে ২৭ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত ওই তিন পৌর এলাকায় সব ধরনের যানবাহন প্রবেশ ও বহির্গমন বন্ধ থাকবে। সব ধরনের সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সমাবেশ, ভ্রাম্যমাণ ফাস্টফুড, হোটেল, মুদি দোকান, চায়ের দোকান, মিষ্টির দোকান বন্ধ থাকবে। তবে অফিস, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলা থাকবে।
জানা গেছে, জেলা সদর ও পৌর শহরের বেশির ভাগ মানুষ স্বাস্থ্যবিধি না মানায় করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ খারাপের দিকে যাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা করোনাবিষয়ক কমিটি নানা উদ্যোগ গ্রহণ করলেও উন্নতি হচ্ছে না। প্রতিদিনই ফরিদপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর চাপ। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী শয্যা না থাকায় ভর্তি নিতে পারছে না কর্তৃপক্ষ। এই হাসপাতালে আইসিইউতে ১৬ শয্যা থাকলেও সচল রয়েছে ১৪টি।
ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. সিদ্দীকুর রহমান বলেন, জেলায় এ পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১১ হাজার ৪০৭ জন। মারা গেছেন ১৯৯ জন। করোনা পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করায় লকডাউনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক অতুল সরকার বলেন, করোনার চাপ সামলাতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে তিন পৌরসভায় এক সপ্তাহের জন্য লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রবিবার থেকে লকডাউন কার্যকর হবে।
কবির আহমেদ/ ইবি টাইমস