বকুল খান,স্পেন: ২৭ বছরের বন্ধন ছিঁড়ে সম্পর্কের ইতি টানলো ব্রিটেন।ব্রেক্সিট এর মাধ্যমে নতুন একটি ইতিহাস গড়লো ইউরোপ এবং ব্রিটেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশসমূহের মধ্যে দীর্ঘ দেন-দরবারের পরে ১ জানুয়ারি নতুন একটি অধ্যায় শুরু করল ইউই পরিবার।
ব্রেক্সিট চুক্তির ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশসমূহ এবং যুক্তরাজ্যের নাগরিকরা চাইলেও আর অবাধ চলাচল করতে পারবেন না।তবে এক্ষেত্রে তিন মাস ভিসা ছাড়া থাকা যাবে,কিন্তু তার চেয়ে বেশি থাকতে চাইলে ভিসা নিয়েই থাকতে হবে।
শেষ দিন পর্যন্ত অনিশ্চিত থাকা বাণিজ্যচুক্তি সফল হয়েছে।ব্রিটেনের সাথে ২৭ দেশের এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। যাকে বলা হয়েছে সম্পর্ক জিইয়ে রাখা।হিমশীতল বরফে একটু উষ্ণতার ছোঁয়া।
গত ২৭ বছরে ইউরোপের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ব্রেক্সিট। ব্রিটিশ জনগণ তিন-তিনবার রেফারেন্ডামের মাধ্যমে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট প্রদান করে ব্রেক্সিটের পক্ষে। ব্রেক্সিট চূড়ান্ত হওয়ার পরে পূর্ব ইউরোপের অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল, মন্দায় বেকার ইউরোপিয়ানদের ঢল রুদ্ধ করতে সক্ষম হল ব্রিটেন।
এদিকে ইউরোপে বসবাসরত বাংলাদেশী নাগরিকদের সহজে স্থায়ী হওয়ারও একটা সুযোগ বন্ধ হয়েছে। বাংলাদেশীদের বিশাল কমিউনিটি, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় চর্চা এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তার বিষয় চিন্তা করে ইউরোপিয়ান পাসপোর্ট পেয়ে বিশেষ করে ইতালি, ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগাল, গ্রিস এবং অষ্ট্রিয়া থেকে পরিবার নিয়ে পাড়ি জমিয়েছেন ব্রিটেনে। সেখানে বেনিফিট, দেশীয় সংস্কৃতি, ইংরেজি ভাষায় উচ্চশিক্ষা ছিল যাদের মূল লক্ষ্য, তারাই ৩১ তারিখের পূর্বে পরিবার নিয়ে পাড়ি জমিয়েছেন ব্রিটেন।
ইউরোপিয়ান বাংলাদেশীরা শেষ জীবনে বাংলাদেশী কমিউনিটি ও আত্মীয়-স্বজন সান্নিধ্যে এবং অবসরকালীন জীবনে অর্থনৈতিক নিরাপত্তার কথা চিন্তা করেই কেউ কেউ গ্রেট ব্রিটেন আবাস গড়েন। যারা এখনো ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশের পাসপোর্ট পাননি,তারা পড়েছেন বিপাকে। এ সংখ্যা প্রায় সাড়ে চার লক্ষ।
বৃটেনে ঢুকে এখন আর পাঁচ বছরের আগে বেনিফিট আবেদন করা যাবে না। বেঁধে দেয়া হয়েছে নানা রকম শর্ত।জটিল সমীকরণে মিলছে না এখন বাংলাদেশীদের স্থায়ী ঠিকানা।
অনেকে খুঁজছেন ইংরেজি ভাষাভাষী দেশ আয়ারল্যান্ড,কানাড,আমেরিকার মতো অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী দেশসমূহ। অনেকে ইউরোপে তাদের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসা-বাণিজ্য রেখে পাড়ি জমিয়েছেন বিলেতে, শুধু বেনিফিটের আশায়, যা অনেকটা আত্মঘাতী বলে মনে করছেন অনেকে।