ভিয়েনা ১১:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ২ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জার্মানি সফরে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ১২:৫২:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২১
  • ২২ সময় দেখুন

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিংকেন ও জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাসের (Mass) মধ্যে বৈঠকে আফগানিস্তান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ

ইউরোপ ডেস্কঃ জার্মানি থেকে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স ও জার্মানির সংবাদ সংস্থা ডয়েচে ভেলে (DW) জানিয়েছেন জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাইকো মাসের সঙ্গে বৈঠক করলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন।

সংবাদ ডেস্কেধ্যমের খবর অনুযায়ী আফগানিস্তানে তালেবানরা তাদের অন্তর্বর্তী সরকারের সদস্যদের নাম ঘোষণার পর এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী (সেক্রেটারি অফ স্টেট) জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বৈঠক ছাড়াও আরও কয়েকজন ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথেও ভার্চুয়াল বৈঠক করেছেন।

জার্মানির সংবাদ সংস্থা ডয়েচে ভেলে জানান, আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা চলে আসার পর এখনও বিভিন্ন দেশের প্রচুর মানুষ সেখানে আছেন।আটকে পড়া লোকজন আফগানিস্তানে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এনজিও প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন।তালেবান তাদের নিজেদের দেশে ফিরতে দেবে বলেছে। এমনকি বৈধ কাগজপত্র থাকলে আফগানদেরও বিদেশে যেতে দেয়া হবে বলে জানিয়েছে। তালেবান যাতে কথা রাখে, তা নিশ্চিত করতেই ব্লিংকেন-মাস বৈঠক করেছেন বলে সূত্র জানিয়েছে। বর্তমানে প্রচুর জার্মানির নাগরিক এখনও আফগানিস্তানে অবস্থান করছে বলে জানা গেছে।

জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাইকো মাসের সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠক করেছেন ব্লিংকেন। তারপর ন্যাটোর সেক্রেটারি জেনারেল ও বেশ কয়েকটি ইইউ দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে তারা ভার্চুয়াল বৈঠক করেন।

বৈঠকের পর সাংবাদিক সম্মেলনে সমাস বলেন, ‘তালেবান আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি চাইছে,মান্যতা চাইছে, যে কোনো ধরনের মান্যতা, যে কোনো ধরনের সমর্থন তাদের অর্জন করে নিতে হবে।”

আমেরিকার বিরুদ্ধে সমালোচনা শুরু হয়েছে যে, তারা তালেবান চাপের কাছে নতিস্বীকার করে আফগানদের চার্টার বিমানে করে নিজেদের দেশে নিয়ে আসছে না। এই আফগানরা গত ২০ বছর অ্যামেরিকাকে প্রচুর সাহায্য করেছে। ব্লিংকেন বলেছেন, ”আমরা আমাদের যাবতীয় ক্ষমতা প্রয়োগ করে ওই আফগানদের বিমানে করে আফগানিস্তান থেকে নিয়ে আসতে চাইছি। আমরা সকলকে বলেছি, তালেবানকে স্পষ্টভাষায় জানিয়েছি, চার্টার বিমানগুলিকে কাবুল বিমানবন্দর থেকে উড়তে দিতে হবে এবং আফগানদের বিদেশে যাওয়ার ছাড়পত্র দিতে হবে।”

এদিকে জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী  মাস জানিয়েছেন, ”অন্তর্বর্তী তালেবান সরকারে সব গোষ্ঠীকে নেয়া হয়নি। আরো আন্তর্জাতিক সাহায্য পাওয়া ও দেশের স্থায়িত্বের জন্য এটা উপযুক্ত বার্তা নয়। মাস বলেছেন, ”তালেবানের বোঝা উচিত, তারা যদি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে একঘরে হয়ে থাকে, তাতে তাদের স্বার্থসিদ্ধি হবে না। আফগানিস্তানের অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে। আন্তর্জাতিক সাহায্য ছাড়া তারা স্থায়িত্বের দিকে যেতে পারবে না।”

মাস আগেই জানিয়েছিলেন, তালেবানের প্রতি কী মনোভাব নেয়া হবে, তা ঠিক করতেই বৈঠক হবে। মাস এক বিবৃতিতে বলেছেন, ”তালেবান ক্ষমতায় এসেছে বলে আফগান জনগণকে দোষ দেয়া ঠিক হবে না। আন্তর্জাতিক দুনিয়া তাদের দিক থেকে মুখ ঘুরিয়ে নেবে, সেটাও ঠিক নয়।”

জার্মান কূটনীতিকরা বলেছেন, অচিরেই আফগানিস্তানে ত্রিমুখী মানবিক সংকট দেখা দিতে পারে। যেমন ক্ষুধা, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক সাহায্য না পাওয়া। জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাসের বক্তব্য, ”তালেবান নতুন সরকার যদি ঠিকভাবে চালাতে না পারে, তা হলে অর্থনীতি পুরোপুরি ভেঙে পড়বে। তার ফলে প্রবল মানবিক সংকট দেখা দিতে পারে।” এভাবেই আফগানিস্তান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছন মাস। মাসের বক্তব্যের সাথে সহমত পোষণ করেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন।

কবির আহমেদ /ইবিটাইমস

Tag :
জনপ্রিয়
Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

জার্মানি সফরে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন

আপডেটের সময় ১২:৫২:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২১

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিংকেন ও জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাসের (Mass) মধ্যে বৈঠকে আফগানিস্তান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ

ইউরোপ ডেস্কঃ জার্মানি থেকে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স ও জার্মানির সংবাদ সংস্থা ডয়েচে ভেলে (DW) জানিয়েছেন জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাইকো মাসের সঙ্গে বৈঠক করলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন।

সংবাদ ডেস্কেধ্যমের খবর অনুযায়ী আফগানিস্তানে তালেবানরা তাদের অন্তর্বর্তী সরকারের সদস্যদের নাম ঘোষণার পর এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী (সেক্রেটারি অফ স্টেট) জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বৈঠক ছাড়াও আরও কয়েকজন ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথেও ভার্চুয়াল বৈঠক করেছেন।

জার্মানির সংবাদ সংস্থা ডয়েচে ভেলে জানান, আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা চলে আসার পর এখনও বিভিন্ন দেশের প্রচুর মানুষ সেখানে আছেন।আটকে পড়া লোকজন আফগানিস্তানে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এনজিও প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন।তালেবান তাদের নিজেদের দেশে ফিরতে দেবে বলেছে। এমনকি বৈধ কাগজপত্র থাকলে আফগানদেরও বিদেশে যেতে দেয়া হবে বলে জানিয়েছে। তালেবান যাতে কথা রাখে, তা নিশ্চিত করতেই ব্লিংকেন-মাস বৈঠক করেছেন বলে সূত্র জানিয়েছে। বর্তমানে প্রচুর জার্মানির নাগরিক এখনও আফগানিস্তানে অবস্থান করছে বলে জানা গেছে।

জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাইকো মাসের সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠক করেছেন ব্লিংকেন। তারপর ন্যাটোর সেক্রেটারি জেনারেল ও বেশ কয়েকটি ইইউ দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে তারা ভার্চুয়াল বৈঠক করেন।

বৈঠকের পর সাংবাদিক সম্মেলনে সমাস বলেন, ‘তালেবান আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি চাইছে,মান্যতা চাইছে, যে কোনো ধরনের মান্যতা, যে কোনো ধরনের সমর্থন তাদের অর্জন করে নিতে হবে।”

আমেরিকার বিরুদ্ধে সমালোচনা শুরু হয়েছে যে, তারা তালেবান চাপের কাছে নতিস্বীকার করে আফগানদের চার্টার বিমানে করে নিজেদের দেশে নিয়ে আসছে না। এই আফগানরা গত ২০ বছর অ্যামেরিকাকে প্রচুর সাহায্য করেছে। ব্লিংকেন বলেছেন, ”আমরা আমাদের যাবতীয় ক্ষমতা প্রয়োগ করে ওই আফগানদের বিমানে করে আফগানিস্তান থেকে নিয়ে আসতে চাইছি। আমরা সকলকে বলেছি, তালেবানকে স্পষ্টভাষায় জানিয়েছি, চার্টার বিমানগুলিকে কাবুল বিমানবন্দর থেকে উড়তে দিতে হবে এবং আফগানদের বিদেশে যাওয়ার ছাড়পত্র দিতে হবে।”

এদিকে জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী  মাস জানিয়েছেন, ”অন্তর্বর্তী তালেবান সরকারে সব গোষ্ঠীকে নেয়া হয়নি। আরো আন্তর্জাতিক সাহায্য পাওয়া ও দেশের স্থায়িত্বের জন্য এটা উপযুক্ত বার্তা নয়। মাস বলেছেন, ”তালেবানের বোঝা উচিত, তারা যদি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে একঘরে হয়ে থাকে, তাতে তাদের স্বার্থসিদ্ধি হবে না। আফগানিস্তানের অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে। আন্তর্জাতিক সাহায্য ছাড়া তারা স্থায়িত্বের দিকে যেতে পারবে না।”

মাস আগেই জানিয়েছিলেন, তালেবানের প্রতি কী মনোভাব নেয়া হবে, তা ঠিক করতেই বৈঠক হবে। মাস এক বিবৃতিতে বলেছেন, ”তালেবান ক্ষমতায় এসেছে বলে আফগান জনগণকে দোষ দেয়া ঠিক হবে না। আন্তর্জাতিক দুনিয়া তাদের দিক থেকে মুখ ঘুরিয়ে নেবে, সেটাও ঠিক নয়।”

জার্মান কূটনীতিকরা বলেছেন, অচিরেই আফগানিস্তানে ত্রিমুখী মানবিক সংকট দেখা দিতে পারে। যেমন ক্ষুধা, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক সাহায্য না পাওয়া। জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাসের বক্তব্য, ”তালেবান নতুন সরকার যদি ঠিকভাবে চালাতে না পারে, তা হলে অর্থনীতি পুরোপুরি ভেঙে পড়বে। তার ফলে প্রবল মানবিক সংকট দেখা দিতে পারে।” এভাবেই আফগানিস্তান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছন মাস। মাসের বক্তব্যের সাথে সহমত পোষণ করেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন।

কবির আহমেদ /ইবিটাইমস