ভিয়েনা ১১:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
টাঙ্গাইলে হাসপাতালের আঙিনা নিজ হাতে পরিষ্কার করলেন প্রতিমন্ত্রী টুকু সমাজ থেকে সব ধরনের অপরাধ মুছে দেবে বিএনপি: রিজভী হরমুজের পর এবার ঝুঁকিতে বাব আল-মান্দেব, তেল সরবরাহে নতুন সংকট রাজধানীতে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার ঝিনাইদহের জাতীয় বীর, কবি-সাহিত্যিক ও মনীষীদের স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণে নেই কার্যকর উদ্যোগ টাঙ্গাইলে ১১ দলীয় ঐক্যের সংবাদ সম্মেলন মৎস্য উৎপাদন বাড়াতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু শেখ হাসিনা ছিলেন বিশ্বের সেরা অভিনেত্রী: মেজর হাফিজ কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র গঠনে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে অপ্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধি, নেপথ্যে এআই

নদীতে ইলিশ নেই, হতাশ জেলেরা

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ০২:০২:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ মে ২০২১
  • ১০০ সময় দেখুন

ভোলা প্রতিনিধি : স্বপ্ন ছিল পর্যাপ্ত পরিমাণ ইলিশ ধরতে পারবেন। আর সেই ইলিশ বেঁচে ঋণ পরিশোধ করে আবার ঘুরে দাঁড়াবেন। কিন্তু নদীতে গিয়ে ইলিশ না পাওয়ায় হতাশ হয়ে ফিরতে হলো জেলেদের।

দীর্ঘ দুই মাস পর ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে গিয়ে জেলেদের জালে মেলেনি কাঙ্ক্ষিত ইলিশ। এদিকে ইলিশ না পাওয়ায় ক্রেতার সমাগম নেই ভোলার মৎস্য ঘাটগুলোতে। হতাশা বিরাজ করছে মৎস্য ব্যবসায়ী ও আড়ৎদারদের মাঝে।

সরেজমিনে গেলে জানা যায়, ইলিশের আভয়শ্রম হওয়ায় গত ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ভোলার ১৯০ কিলোমিটার নদীতে ইলিশ শিকারের নিষেধাজ্ঞা ছিল। নিষেধাজ্ঞা শেষে ১ মে মধ্যরাতে ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে মাছ শিকারে নেমে পড়েন জেলেরা। কিন্তু মধ্যরাত থেকে দুপুর পর্যন্ত নদীতে জাল ফেলে কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা মেলেনি।

দুই মাসের ধার-দেনা, মহাজনের কাছ থেকে দাদন ও এনজিওর কিস্তি পরিশোধ তো দূরের কথা ট্রলারের তেলের খরচও উঠেনি জেলেদের। ধনিয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মেঘনা নদীর জেলে মো. ফারুক মাঝি, ইলিয়াছ মাঝি বলেন, ‘দুই মাস পর অনেক স্বপ্ন নিয়ে নদীতে গিয়েছিলাম। কিন্তু হতাশ হয়ে ট্রলার নিয়ে তীরে ফিরে এসেছি।’ নদীতে জাল ফেলে মাত্র ৩টি ইলিশ মাছ পেয়েছেন। নাছির মাঝি এলাকার জেলে ইমরান মাঝি, শামিম মাঝি ও সোরাব মাঝি জানান, তারা ১০ জন জেলে একটি ট্রলার নিয়ে প্রায় ৭ হাজার টাকা খরচ করে নদীতে গিয়েছিলেন। মাত্র দুই হাজার ৮শ’ টাকার ইলিশ পেয়েছে। এতে তেলের খরচও উঠেনি তাদের।’

তারা বলেন, ‘ভাবছিলাম নিষেধাজ্ঞার পর নদীতে গিয়ে অনেক মাছ ধরে ধার-দেনা পরিশোধ করতে শুরু করমু। আমাদের দুঃখ দুর হবে। কিন্তু তা আর হলো না। অভিযানের দুই মাস যে ধার-দেনা ও এনজিওর কিস্তির টাকা বাকী ছিল তা এখন পরিশোধ করমু কেমনে।’ ধনিয়া তুলাতুলি মৎস্য ঘাটের ব্যবসায়ী মো. মঞ্জু আলম বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞার সময় আমরা মৎস্য ব্যবসায়ী ও আড়ৎদাররা ঢাকা, বরিশাল, খুলনাসহ বিভিন্ন জেলার পাইকারদের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নিয়ে জেলেদের দাদন দিয়েছি। কিন্তু এখন জেলেরা নদীতে গিয়ে মাছ না পেয়ে হতাশ। ফলে পাইকারদের কিভাবে মাছ দিবেন তা নিয়ে চিন্তিত তারা।’

বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অফিসের সহকারী পরিচালক এ.এফ.এন নাজমুস সালেহীন জানান, আভয়শ্রম শেষে বড় ইলিশ সাগরে চলে গেছে, তাই এখন ভোলা মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে ইলিশ সঙ্কট রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আগামী আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে সাগর থেকে প্রচুর ইলিশ উঠে আসবে। তখন নদীতে জেলেরা ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ শিকার করতে পারবেন।’

সাব্বির আলম বাবু/ইবি টাইমস

Tag :
জনপ্রিয়

টাঙ্গাইলে হাসপাতালের আঙিনা নিজ হাতে পরিষ্কার করলেন প্রতিমন্ত্রী টুকু

Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

নদীতে ইলিশ নেই, হতাশ জেলেরা

আপডেটের সময় ০২:০২:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ মে ২০২১

ভোলা প্রতিনিধি : স্বপ্ন ছিল পর্যাপ্ত পরিমাণ ইলিশ ধরতে পারবেন। আর সেই ইলিশ বেঁচে ঋণ পরিশোধ করে আবার ঘুরে দাঁড়াবেন। কিন্তু নদীতে গিয়ে ইলিশ না পাওয়ায় হতাশ হয়ে ফিরতে হলো জেলেদের।

দীর্ঘ দুই মাস পর ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে গিয়ে জেলেদের জালে মেলেনি কাঙ্ক্ষিত ইলিশ। এদিকে ইলিশ না পাওয়ায় ক্রেতার সমাগম নেই ভোলার মৎস্য ঘাটগুলোতে। হতাশা বিরাজ করছে মৎস্য ব্যবসায়ী ও আড়ৎদারদের মাঝে।

সরেজমিনে গেলে জানা যায়, ইলিশের আভয়শ্রম হওয়ায় গত ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ভোলার ১৯০ কিলোমিটার নদীতে ইলিশ শিকারের নিষেধাজ্ঞা ছিল। নিষেধাজ্ঞা শেষে ১ মে মধ্যরাতে ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে মাছ শিকারে নেমে পড়েন জেলেরা। কিন্তু মধ্যরাত থেকে দুপুর পর্যন্ত নদীতে জাল ফেলে কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা মেলেনি।

দুই মাসের ধার-দেনা, মহাজনের কাছ থেকে দাদন ও এনজিওর কিস্তি পরিশোধ তো দূরের কথা ট্রলারের তেলের খরচও উঠেনি জেলেদের। ধনিয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মেঘনা নদীর জেলে মো. ফারুক মাঝি, ইলিয়াছ মাঝি বলেন, ‘দুই মাস পর অনেক স্বপ্ন নিয়ে নদীতে গিয়েছিলাম। কিন্তু হতাশ হয়ে ট্রলার নিয়ে তীরে ফিরে এসেছি।’ নদীতে জাল ফেলে মাত্র ৩টি ইলিশ মাছ পেয়েছেন। নাছির মাঝি এলাকার জেলে ইমরান মাঝি, শামিম মাঝি ও সোরাব মাঝি জানান, তারা ১০ জন জেলে একটি ট্রলার নিয়ে প্রায় ৭ হাজার টাকা খরচ করে নদীতে গিয়েছিলেন। মাত্র দুই হাজার ৮শ’ টাকার ইলিশ পেয়েছে। এতে তেলের খরচও উঠেনি তাদের।’

তারা বলেন, ‘ভাবছিলাম নিষেধাজ্ঞার পর নদীতে গিয়ে অনেক মাছ ধরে ধার-দেনা পরিশোধ করতে শুরু করমু। আমাদের দুঃখ দুর হবে। কিন্তু তা আর হলো না। অভিযানের দুই মাস যে ধার-দেনা ও এনজিওর কিস্তির টাকা বাকী ছিল তা এখন পরিশোধ করমু কেমনে।’ ধনিয়া তুলাতুলি মৎস্য ঘাটের ব্যবসায়ী মো. মঞ্জু আলম বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞার সময় আমরা মৎস্য ব্যবসায়ী ও আড়ৎদাররা ঢাকা, বরিশাল, খুলনাসহ বিভিন্ন জেলার পাইকারদের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নিয়ে জেলেদের দাদন দিয়েছি। কিন্তু এখন জেলেরা নদীতে গিয়ে মাছ না পেয়ে হতাশ। ফলে পাইকারদের কিভাবে মাছ দিবেন তা নিয়ে চিন্তিত তারা।’

বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অফিসের সহকারী পরিচালক এ.এফ.এন নাজমুস সালেহীন জানান, আভয়শ্রম শেষে বড় ইলিশ সাগরে চলে গেছে, তাই এখন ভোলা মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে ইলিশ সঙ্কট রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আগামী আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে সাগর থেকে প্রচুর ইলিশ উঠে আসবে। তখন নদীতে জেলেরা ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ শিকার করতে পারবেন।’

সাব্বির আলম বাবু/ইবি টাইমস